ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে শাবকসহ বন্য হাতির পাল : আতঙ্কে স্থানীয় ও দর্শনার্থী

fec-image

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের পুর্বদিকের অরক্ষিত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন ভেতর ঢুকে পড়েছে শাবকসহ দুটি বন্যহাতির পাল।

দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত এ পার্কে ২৩টি ক্ষুধার্ত বন্যহাতি দুই দলে ভাগ হয়ে একসপ্তাহ থেকে পার্কের অভ্যন্তরে ঢুকে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল উন্নয়নকল্পে সৃজিত ১০০ হেক্টর বাগান তথা চারণভূমিতে অবস্থান করছে। এতে পার্কে থাকা বন্যপ্রাণীগুলোও পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সাফারি পার্কের ৭৫০ একর এলাকায় নেই কোন সীমানাপ্রাচীর। যার কারণে ওই এলাকা দিয়ে প্রায়ই পার্কে ঢুকে পড়ছে এই বন্যহাতির দল।

এদিকে পার্কের পুর্বসীমান্তের একটি বাগান দিয়ে প্রথমে বন্যহাতি ঢুকে পড়ার খবরে পার্ক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে হাতির বেস্টনীতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছেন। বর্তমানে সেখানে পার্কের কর্মীদের সতর্ক পাহারায় রেখে আগত পর্যটক-দর্শনার্থীরা যাতে ঢুকে পড়া বন্যহাতির অবস্থানের কাছে যেতে না পারে সেইজন্য বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থার কারণে বর্তমানে পার্কে ভ্রমনে আসা পর্যটক-দর্শনার্থীদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। পাশাাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের লোকজনের মাঝে।

জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। প্রায় ৯০০ হেক্টর অর্থাৎ ২ হাজার ২৫০ একর এলাকা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কটি গড়ে তোলা হয়। শুরুতে ৬ হেক্টর অর্থাৎ ১৫০০ একর এলাকায় সীমানাপ্রাচীর গড়ে তোলা হয়। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য খোলা রাখা হয় বাকি ৭৫০ একর এলাকা। যাতে ওই এলাকার মধ্যেও পাহাড়ের বন্যপ্রাণী অবাধ বিচরণ করতে পারে।পার্কের পূর্বপাশের এলাকায় একটি ছড়াখাল রয়েছে। সম্প্রতি ওই এলাকা দিয়ে ২২-২৩টি বন্যহাতির দল পার্কে ঢুকে অবস্থান নিয়েছে। রাতে ওই বন্যহাতির দল ওই ছড়াখাল দিয়ে প্রবেশ করেছে। নষ্ট করেছে বেশ কয়েকটি বেস্টনী।

সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, গেল ডিসেম্বর মাসে দুই দফায় ক্ষুধার্ত বন্যহাতির দলটি গহীণ জঙ্গল থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় এসে পার্কে ঢুকে পড়ে। ওইসময় হাতিগুলো দুই দলে ভাগ হয়ে পার্কের অভ্যন্তরে তাণ্ডব চালায়। এসব হাতি পার্কের বন্যপ্রাণী আবাসস্থল উন্নয়নে সুফল প্রকল্পের আওতায় ১০০ হেক্টর এলাকায় সৃজিত পশুখাদ্য বাগানের ব্যাপক ক্ষতি করে। নষ্ট করে দেয় উড়ি আমের ৮ হাজার ৫শ চারা। ওইসময় হাতিগুলো সেখানে প্রায় পাঁচদিন অবস্থান করেন।

সর্বশেষ একসপ্তাহ আগে পার্কের পুর্বদিকে ছড়াখাল সমেত বাগান দিয়ে সাফারি পার্কে ঢুকে পড়ে দুইটি বন্যহাতির পাল। তৎমধ্যে একটি দলে ১০টি ও অপরটি দলে ১৩টি হাতি রয়েছে। বর্তমানে পার্কের ওই বাগানটিই এখন বন্যহাতির খাবারের এবং চারণভূমির উপযুক্ত স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে। গহীণ জঙ্গল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে পার্কের ওই বাগানে এসে রাতভর খাবার খেয়ে ভোরের আলো ফুটলেই ফের চলে যাচ্ছে। এভাবে গত একসপ্তাহ ধরে হাতিগুলো পার্কের ভেতর আসা-যাওয়া করছে।

ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ২৩টি বন্যহাতির পাল দুইভাবে বিভক্ত হয়ে গত একসপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই পার্কের অভ্যন্তরের পশুখাদ্যের বাগানে ঢুকে পড়ছে। আবার ভোরের আলো ফোটার আগেই গহীন জঙ্গলের নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন যাওয়া-আসা করায় পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকর্তাবস্থায় রাখা হয়েছে। যেসব এলাকায় বন্যহাতি অবস্থান করছে সেখানে কিছুদূর পর পর পার্কের কর্মচারীরা অবস্থান নিয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে হাতির বেস্টনীতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছি। যাতে পার্কে আগত পর্যটক-দর্শনার্থীরা ভুল করে ওইদিকে যেতে না পারে।

তিনি বলেন, গত ডিসেম্বর মাসের শেষদিকেও দুইদফায় বন্য হাতিগুলো পার্কের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। ওইসময় তারা পশুখাদ্যের বাগানে তাণ্ডবও চালায় এবং বেশ কয়েকদিন অবস্থান করে।

পার্ক সূত্রে জানা গেছে, পার্কের সীমান্তবর্তী এলাকায় জেব্রার বেস্টনীর কাছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০০ হেক্টর এলাকায় সৃজন করা হয় পশুখাদ্যের উপযোগী বাগান তথা চারণভূমি। সেখানে রোপন করা হয় প্রায় ১০ হাজার উড়ি আমের চারা। এছাড়াও নেপিয়ার ঘাস, প্যারা ঘাস, শাপলা, বাঁশঝাড়, পিটালি পাতা, বৃদ্ধরী পাতা, মেলোনী পাতাসহ পশুখাদ্যের উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির লতাগুল্মের বাগান। বর্তমানে সেই চারণভূমিই নিরাপদ খাদ্য ভাণ্ডারে পরিণত হওয়ায় বন্যহাতির দলটি প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পার্কের অভ্যন্তরে ঢুকছে আর ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে গহীণ জঙ্গলে চলে যাচ্ছে।

সাফারি পার্কের পাশের এলাকার বাসিন্দা ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী বলেন, ‘গত একসপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শাবকসহ ২৩টি বন্যহাতি দুই দলে ভাগ হয়ে আশপাশের বসতবাড়ির কাছের পার্কের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছে। তবে ভোরের আলো ফোটার পর পরই ফের গহীন জঙ্গলে চলে যাচ্ছে হাতিগুলো। এরপরও বন্যহাতি আসার কারণে প্রতিরাতেই আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় অধিবাসীরা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 16 =

আরও পড়ুন