ডেঙ্গুতে মৃত্যু’র হার তলানীতে, তবে সচেতনতার অভাব

fec-image

বর্ষা মৌসুমে’ই ডেঙ্গুতে বাড়ে মৃত্যুও হার। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে ডেঙ্গু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যে, কক্সবাজারে গেল দুই বছরে ২০২২-২০২৩ ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৬৮ জন। আর এই বছর ২০২৪ তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ জনে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হাতে কমে আসলেও বরাবরই জনসচেতনতার কমতি রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজারের ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের ৫’ম তলায় ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, গেল বছরগুলোর মত এবারে তেমন রোগীর চাপ নেই। ওই ওয়ার্ডে’র দৈনিক প্রতিবেদন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩ জন। তার মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় পজেটিভ রোগীর সংখ্যা ছিল ৫ জন।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানবিদ পঙ্কজ পালের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২২ সালে’র হিসাব (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীর সাংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৯০ জন। তার মধ্যে রোহিঙ্গা রোগী ১৫ হাজার ৩৫২ জন। আর স্থানীয় (বাংলাদেশি) রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৮ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৬৮ জন। মৃতদের মধ্যে রোহিঙ্গা ৩০ জন। স্থানীয় ৯ জন।

২০২৩’এ ডেঙ্গু রোগীর সাংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ২১১ জন। এতে রোহিঙ্গা রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৯৫ আর স্থানীয় ৪ হাজার ৩১৬ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১৯ জন। মৃতদের মধ্যে রোহিঙ্গা ১৫ জন। স্থানীয় ৪ জন। কিন্তু এই চিত্র ভিন্ন। ২০২৪’এ ছয় মাস ৮ দিনে মারা গেছে মাত্র ১ জন।তিনি রোহিঙ্গা। যদিও এই সময় অন্যান্য বছর ১৫ থেকে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আসিফ আহমেদ হাওলাদার জানান, কক্সবাজারে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে। এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বড় সফলতা। তবে জনসচেতনতাই যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। লোকজনকে আরো সচেতন হতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জমে থাকা পানিতে জন্মে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা। এমনকি পরিষ্কার পানিতেও জন্মায়। সাধারণত বর্ষাকালে এর প্রকোপ বাড়ে। সাধারণত ৪-৫ দিনের জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই এডিস মশা জন্ম নিতে পারে। অসাবধানতাবশত অনেক সময়ে ঘরে বা ঘরের চারপাশ থেকেই জন্মে এডিস মশা। বাড়ির চারদিকে ডাবের খোসা, পলিথিনের ব্যাগ বা অপ্রয়োজনীয় পাত্রে জমে থাকা পানি এই মশা সৃষ্টির উৎস। তাই ঘর ও চারপাশ পরিষ্কার করেই কেবল ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব।

এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসায় সন্তুষ্ট হলেও সচেতন মহল বলছেন মশা নিধনে পৌরসভার ভূমিকা আরো জোরদার হওয়া দরকার।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, ডেঙ্গু, রোহিঙ্গা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন