পবিত্র ঈদুল আজহায় ভাইরাল হওয়া বিরল অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে এরইমধ্যে ঢাকার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের জন্য নেওয়া হয়েছে। তাকে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও সঠিক পরিচর্যার জন্য সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মহিষটির জন্য বড় শেড প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বুধবার ( ২৮ মে ) দিবাগত রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে মন্ত্রী নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন ।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তার ফেসবুকে লেখেন, আজ বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা যুক্ত হয়েছে। বিরল ‘অ্যালবিনো’ প্রজাতির একটি মহিষ ইতোমধ্যে ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের জন্য আনা হয়েছে।
“বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিষটির শরীরে ‘মেলানিন’ নামক রঞ্জক পদার্থের স্বল্পতার কারণে এমন গোলাপি বর্ণের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। পৃথিবীব্যাপী এ ধরনের প্রাণী অত্যন্ত বিরল। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০ হাজার মহিষের মধ্যে মাত্র একটি এ ধরনের অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নিতে পারে। ফলে এটি শুধু একটি বিরল প্রাণীই নয়, বরং গবেষণা, সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। প্রাণীটিকে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও সঠিক পরিচর্যার জন্য ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহিষটির জন্য বড় শেড প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছি।” বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘আমি বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অবগত করেছি। তিনি এ ধরনের বিরল প্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগকে গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’
মন্ত্রী লেখেন, এছাড়া, মহিষটির ক্রেতা মনিরুজ্জামানকে তার পশুর ন্যায্য মূল্য প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির জন্য বিকল্প গরুরও ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তিনি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ, প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, বিরল এই অ্যালবিনো মহিষ শুধু দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুই হবে না, ভবিষ্যৎ গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণিসম্পদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।
