ড. ইউনূসকে কথা বলায় সংযত থাকার আহ্বান ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

fec-image

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘কথা বলার ক্ষেত্রে সংযত হওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

ভারতের নেটওয়ার্ক ১৮ গ্রুপের প্রধান সম্পাদক রাহুল যোশীকে দেওয়া একান্ত আলাপনে এ আহ্বান জানান রাজনাথ সিং। শুক্রবার এই গ্রুপের সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে এ সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়েছে।

রাজনাথ সিং তার সাক্ষাৎকারে বলেন, নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে কোনও ‘উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক’ চায় না। অধ্যাপক ইউনূসের উচিত, তিনি কী বলছেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারত যেকোনও ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। যদিও আমাদের লক্ষ্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।’

ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসার পর থেকেই ভারতবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন ড. ইউনূস। সম্প্রতি তিনি পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা এবং সফররত তুর্কি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের কাছে একটি বিতর্কিত শিল্পকর্ম উপহার দেওয়ার পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সফররত পাঁচ সদস্যের তুর্কি সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে ‘আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ নামের একটি বই উপহার দেন। বইটি মূলত গত আগস্টে দেশজুড়ে সংঘটিত শিক্ষার্থী–নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ চলাকালীন এবং তার পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আঁকা গ্রাফিতির সংগ্রহ।

তবে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮–এর তথ্য অনুযায়ী, বইটিতে তথাকথিত ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে, যেখানে ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো, বিশেষ করে আসামকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো নিউজ১৮–কে জানিয়েছে, ড. ইউনূসের উপহার দেওয়া বইটিতে কথিত ‘যুদ্ধ পরিকল্পনা’ এবং ‘বিজয়ের পর প্রশাসনিক কাঠামো’র বিবরণ রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো আসামকে ঢাকার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ‘উৎপাদনশীল ও কার্যকর অঞ্চল’ হিসেবে রূপান্তরিত করা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ, ভারত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন