তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের গুলিবর্ষণ, আতঙ্কে রোহিঙ্গারা : বিজিবির প্রতিবাদ

fec-image

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু শূন্যরেখার কাছাকাছি এলাকায় ব্যাপক গুলিবর্ষণ করছে মিয়ানমার। এতে কোনারপাড়া শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করছিল তারা। এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ৩টায় এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে সীমান্তের শূন্যরেখায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বলেছে, দেশটির ৫শ’ গজ ভেতরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিপি যৌথভাবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালিয়েছিল। সেই অভিযানের সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, ‘গুলিবর্ষণের শুরুতে শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা ভয়ে ছিল। পরে তারা জানতে পারে ঘটনাটি সে দেশের ভেতরে ঘটছে। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় কোনারপাড়া এলাকার একটি খাল তুমব্রু খাল হিসেবে পরিচিত। সেখানে এক হাজারের বেশি পরিবারের ৫ হাজারের মতো রোহিঙ্গারা বসবাস করে আসছেন। তারা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় সেখানে আটকা পড়েন। সেখান থেকে তারা যেন বাংলাদেশে ঢুকে পড়েন এ লক্ষ্যে মিয়ানমার বারবার গুলিবর্ষণ করে আসছিল। পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাতারের বেষ্টনীর পাশঘেঁষে মিয়ানমার সেনাবাহিনী একটি সড়ক নির্মাণ করেছে। এটি তুমব্রু থেকে বাইশ ফাঁড়ি পর্যন্ত চলে গেছে। এই সড়ক দিয়েই এখন প্রতিদিন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যানবাহন চলাচল করে থাকে।

শূন্যরেখার এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জিরো লাইনের কাছাকাছি মিয়ানমারে ব্যাপক গুলিবর্ষণ চলে। প্রায় ঘণ্টাখানেক গুলিবর্ষণের শব্দ পাওয়া গেছে। এতে রোহিঙ্গা শিবিরের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী মাঝে মাঝে রোহিঙ্গাদের ভয় দেখানোর জন্য গুলিবর্ষণ করে।

সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গতকাল বিকালে নো-ম্যানস ল্যান্ডে গুলিবর্ষণের খবর পওয়া গেছে। তবে ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটেছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল মিয়ানমার সফরে যান। ওই সময় দেশটি গত ১০ আগস্ট থেকে শূন্যরেখায় ত্রাণ বন্ধের প্রস্তাব দেয় এবং বলে সেখানে অবস্থানরতদের মাঝে দেশটির মানবিক সংস্থার মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ এই প্রস্তাব মেনে নিলেও শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গারা এতে আপত্তি জানায়। এর আগে বাংলাদেশের সঙ্গে এক বৈঠকে মিয়ানমার নিঃশর্তভাবে শূন্যরেখায় আটকে থাকা এই রোহিঙ্গাদের উত্তর রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগও কার্যকর হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − six =

আরও পড়ুন