থানচি সদরের জনগুরুত্বপূর্ণ ২টি কালভার্টে ফাঁটল : এলাকাবাসীর দুর্ভোগ

fec-image

বান্দরবানে থানচি সদর হতে ছাংদাক পাড়া যাওয়ার রাস্তায় উপর জনগুরুত্বপূর্ণ এক সাথে ২টি কালভার্ট সেতু গত এক বছরে ৩বার ফাঁটল হয়ে আছে। গত তিন মাস ধরে মেরামত বা সংস্কারের দাবি তুললেও সংশ্লিষ্টরা নীরব রয়েছে। উপজেলায় অভ্যন্তরীনভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ায় যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। জুমের ফসল, কাঁচা মালামাল, ফলজ বনজ দ্রব্যাদি পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

উপজেলা সদর থেকে দেড় কিলোমিটার দূরত্বে ছাংদাক পাড়া যাওয়ার রাস্তার উপর কয়েকটি কালভার্ট সেতু নির্মানের সময় স্থানীয় বালির পাথর ব্যবহারের কারণে গত এক বছরে ৩বার বিশাল গর্ত ও ফাঁটল ধরেছে। এ রাস্তায় এবং কালভার্ট সেতু দিয়ে জিনিংঅংপাড়া, শাহজাহান পাড়া, তংক্ষ্যং পাড়া, হাবরু হেডম্যান পাড়া, ছাংদাক পাড়াসহ অর্ধশতাধিক পাড়াবাসী যাতায়াত করেন।

কালভার্ট সেতুটি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দৈনিক ৫ শতাধিক জনসাধারণ ও জুমিয়াদের জুম ও ফলজ বনজ বাগানের উদ্পাদিত ফসল পরিবহনের সুযোগ না থাকায় জুম ও ফলজ বনজ বাগানে উৎপাদিত ফসল আম, কাজুবাদাম, মার্ফা, আদা, হলুদ, কলা ইত্যাদি বাজারজাত করতে না পাড়ায় ঐ সব উৎপাদিত ফসলের পঁচন ধরেছে। অপরদিকে উপজেলা সদর থেকে অভ্যন্তরীন যোগাযোগে জনদুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে কালভার্ট সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে । কিন্তু সংস্কারের জন্য অনেকবার বলা হলেও সংশ্লিষ্টরা আমাদের কথা কেউ কর্নপাত করেননা।

সদর ইউপি মহিলা সদস্যা ডলিচিং মারমা বলেন, গত ২০১৯ সালে কয়েকটি সংবাদ পত্রে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথম ফাঁটল ধরার সময় আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশে সংস্কার করেছি। ফের তৃতীয় দফা ফাঁটল ধরলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা বলতে ভীষন ভয় পাই। পথচারী চামলো ম্রো বলেন, আমাদের কৃষি খাতে উৎপাদিত ফসল এই সেতুটির কারণে পঁচন ধরেছে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এমন নাজুক অবস্থা রেখেছে কি বলবো ভাষা হারিয়ে ফেলেছি ।

থানচি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় (পিআইও)এর সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে অর্থায়নে উপজেলা সদর হতে ছাংদাক পাড়া যাওয়ার রাস্তার উপর গত কয়েক বছরের মধ্যে ৩টি কালভার্ট সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটিতে ২৭ লক্ষ টাকা করে মোট ৮১ লক্ষ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে ।

নির্মানের অত্রুটিপূর্ণভাবে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যে কালভার্ট সেতুটি ফাঁটল ধরেছে সেটি জনসংহতি সমিতির প্রভাবশালী নেতা ও যুব সমিতি সভাপতি নুমংপ্রু মারমা(টাইগার) ঠিকাদারকে বাস্তবায়নে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঔ ঠিকাদার একাধারে ২০১৯-২০ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নের প্রায় কোটি টাকা উপরে ছাংদাক পাড়া বৌদ্ধ বিহার ভবন নির্মাণ, বিদ্যামনি পাড়া গীর্জা ভবন নির্মাণ , থানচি রেষ্ট হাউজ থেকে বাজার পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণসহ বহু নির্মাণ কাজের স্থানীয় বালির পাথর, পুরোনো রড, সিমেন্ট ব্যবহার করেই যাচ্ছে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার সুশীল সমাজের কয়েকজন জানান, পরিকল্পিতভাবে ঐ সিন্ডিকেট ঠিকাদার সংস্থা বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন সাফল্য অর্জনকে সংকটে ফেলার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে পিআইও মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, ঐ কালভার্ট সেতুটিতে কয়েকবার ফাঁটল ধরার বিষয়ে আমি অবগত নই, সাংবাদিক সাহেব অবগত করছেন আমি শুনেছি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × two =

আরও পড়ুন