দল পেলেন না সাকিব, পেলেন মাশরাফি

fec-image

আগ্রহী প্রতিষ্ঠান ছিল ৯টি, সেখান থেকে বাছাই করে দুটি বাদ দিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সাতটি ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল এক বিবৃতিতে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন শেষে সাতটি দলের সম্ভাব্য মালিকানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গভর্নিং কাউন্সিল। বরিশাল, খুলনা, ঢাকা, সিলেট, রংপুর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা- নির্বাচিত এই দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিপিএলের তিন বছরের সত্ত্ব চূড়ান্ত করতে আহবান জানিয়েছে বিসিবি।

এই দল ঘোষণার পরই সকলের নজর ছিল তালিকায়। কেননা বেশ কিছুদিন থেকেই শোনা যাচ্ছিল এবারে তিন মৌসুমী বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজি কিনতে আগ্রহী বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। রংপুরের স্বত্ত্ব পেতে আবেদনও করেছিল তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মোনার্ক মার্ট লিমিটেড। সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ‘মোনার্ক পদ্মা’ নামে ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব পাওয়ার গুঞ্জন গুঞ্জনই রয়ে গেল। তার বদলে রংপুরের মালিকানা দেওয়া হচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ/টগি স্পোর্টসকে। তবে ঠিকই দল পেয়েছেন সাবেক সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কয়েক বন্ধু মিলে তার গঠিত ফিউচার স্পোর্টসের মালিকানায় গেছে সিলেট ফ্রাঞ্চাইজির স্বত্ত্ব।

গতবারের মতো বরিশালের ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা এবারও থাকছে ফরচুন বরিশাল স্পোর্টস লিমিটেডের। মাইন্ড ট্রি গ্রুপ আগেরবারের মতো পেয়েছে খুলনার সত্ত্ব। ডেল্টা স্পোর্টস লিমিটেড পেয়েছে চট্টগ্রামের স্বত্ত্ব। অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম. মোস্তফা কামালের মেয়ে নাফীসা কামালের কুমিল্লা লিজেন্ডস লিমিটেড আগের মতোই পাচ্ছে কুমিল্লার ফ্র্যাঞ্চাইজি। আর গত মৌসুমে শেষ মুহূর্তে গিয়ে বদল এসেছিল ঢাকার দলের মালিকানায়, শেষ পর্যন্ত সেটি নিজেদের কাছে রেখেছিল বিসিবি। গতবারের সিলেট ফ্যাঞ্চাইজির মালিকানায় থাকা প্রগতি গ্রিন অটো রাইস মিলের হাতে গেছে ঢাকার দায়িত্ব।

এর মাধ্যমে আবার সাত দলের টুর্নামেন্টে ফিরছে বিপিএল, দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানাও। কেননা ২০১৯ সালে তখনকার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে চার বছরের চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেটি আর নবায়ন করেনি বিসিবি। আইপিএলের মতো লভ্যাংশ ভাগাভাগির মডেলে যেতে চেয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো, বিসিবি তাতে রাজি ছিল না। এর পর থেকেই বিপিএল চলেছে কিছুটা জোড়াতালি দিয়েই। ২০১৯-২০ মৌসুমে সাতটি দলের মালিকানা দেওয়া হয়েছিল সাতটি প্রতিষ্ঠানকে। এরপর করোনাভাইরাসের কারণে বিপিএলের বদলে শুধু স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), যেটি ছিল পাঁচ দলের। সর্বশেষ গত আসরে বিপিএল হয়েছিল ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিপিএলে এক বছরের জন্যই দলগুলোর মালিকানা বিক্রি করেছিল বিসিবি।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৩ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে বিপিএলের নবম আসর, শেষ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি। তবে ওই সময় আমিরাত প্রিমিয়ার লিগ ও সাউথ আফ্রিকার টি২০ লিগের কারণে প্রভাব পড়বে বিপিএলে। দল চূড়ান্ত করলেও এখনো পর্যন্ত প্লেয়ার্স ড্রাফটসহ অন্যান্য অনেক বিষয় ঠিক করতে পারেনি বিসিবি। প্রথমবারের মতো টানা আসরের সম্ভাব্য সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। পরের বছর ৬ জানুয়ারি বিপিএলের দশম আসর শুরু হয়ে চলবে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ২০২৫ সালের বিপিএল হবে ১ জানুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

৩ মৌসুমী বিপিএলের তারা ৭ ফরচুন বরিশাল স্পোর্টস লিমিটেড (বরিশাল), মাইন্ডট্রি লিমিটেড (খুলনা), প্রগতি গ্রিন অটো রাইস মিলস লিমিটেড (ঢাকা), ফিউচার স্পোর্টস বাংলাদেশ লিমিটেড (সিলেট), টগি স্পোর্টস লিমিটেড/বসুন্ধরা গ্রুপ (রংপুর), ডেল্টা স্পোর্টস লিমিটেড (চট্টগ্রাম), কুমিল্লা লিজেন্ডস লিমিটেড (কুমিল্লা)।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − 14 =

আরও পড়ুন