parbattanews

দিঘীনালায় উপজাতি হামলাকারীরা বিজিবি’র স্থাপনা, তাঁবু ও দুটি অস্ত্র ভেঙে ফেলেছে

সরেজমিন প্রতিবেদন

(khagrachari) pic-(01), 11-06-2014

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মঙ্গলবার সন্ধায় উপজাতি সদস্যরা বিজিবি’র উপর হামলা করে তাদের নতুন স্থাপনা, তাঁবু ও বাঁশের সীমানা খুঁটি তুলে ফেলেছে। শারিরীকভাবেও তাদের উপর হামলা করে আক্রমণকারীরা। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি ফাঁকা গুলি করলে এসময় তারা বিজিবি’র দুটি অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তা ভাঙচুর করে। দিঘীনালার ঘটনাস্থল সরেজমিনে ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

 

এদিকে খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার বাবুছড়ায় নবগঠিত ৫১ বিজিবি’র সদর দপ্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পাহাড়িদের সাথে বিজিবি-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জ্ঞাত-অজ্ঞাত ২০০ থেকে ২৫০জনকে আসামী করে দিঘীনালা থানায় একটি মামলা করেছে বিজিবি।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, সম্প্রতি দিঘীনালা উপজেলা বাবুছড়া এলাকায়  নবগঠিত ৫১ বিজিবি’র সদর দপ্তর স্থাপনের কাজ শুরু হলে, স্থানীয় পাহাড়িরা শুরু থেকেই সেখানে বাঁধা দিয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে একদল পাহাড়ি নারী-পুরুষ নির্মাণাধীন বিজিবি’র সদর দপ্তরের সেনাবাহিনীর হেলিপ্যাডে কলাগাছ লাগাতে গেলে সেনা সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ৪০/৫০ পাহাড়ি নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে নির্মাণাধীন বিজিবি’র স্থাপনার উপর হামলা চালিয়ে ভাংচুর শুরু করে। বিজিবি সদস্যরা বাঁধা দিতে গেলে তাদের উপরও হামলা করে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বিজিবি’র দু’টি রাইফেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় হামলাকারিরা বিজিবির নতুন নতুন স্থাপনা, তাবু, ও সীমানা ঘেরা বাশঁগুলো তুলে ফেলে এবং সেখানে ভাংচুর চালায়। একটি সূত্র জানায়, একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এ হামলা ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ছয় বিজিবি সদস্যসহ অন্তত ২১ জন আহত হয়।

বিজিবি’র আহতরা, মাহাবুব আলম, সিগনাল ম্যান অশুক, ন্যান্স নায়েক উত্তম কুমার, দর্জি আসলাম হোসেন, ভাভার মনির হোসেন ও পুলিশ সদস্য এ বি সিদ্দিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি করে। ঘটনাস্থলে আইন-শৃংখলা বাহিনীর শক্ত অবস্থান করায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।

খাগড়াছড়ি বিজিবির ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার ও বাবুছড়া ৫১ বিজিবি’র অধিনায়ক লে.কর্ণেল আবুল কালাম আজাদ জানান, সরকারিভাবে জায়গা অধিগ্রহন করে বিজিবির সদর দপ্তর ‘স্থাপন করলে মঙ্গলবার কতিপয় পাহাড়ি লোকজন অহেতুক বাধাঁর সৃর্ষ্টি করে এবং সরকারি আইনশংখলা লোকদের উপর হামলা করে। এতে ছয় বিজিবির সদস্য আহত হয়েছে। সরকারি কাজে বাধাঁদান, আইন শংখলা বাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাবুছড়া এলাকায় বিজিবি’র একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের লক্ষে ১৯৯১ সালে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। নিজেদের বসত-বাড়ী থেকে উচ্ছেদ হতে হবে এমন আশংকা থেকে স্থানীয় পাহাড়িদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রীট পিটিশন দায়ের করে। চলতি বছরের ২২ মে বাবুছড়া বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আনুষ্ঠানিকভাবে বাবুছড়াতেই পালন করা হয়। এরপর থেকে জায়গা-জমি নিয়ে বিজিবি’র সাথে স্থানীয় পাহাড়ীদের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। ফলে গত মঙ্গলবার বিকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পাহাড়িরা এসব জমির মালিকানা দাবী করলেও জমির মালিকানার  সমর্থনে কোন প্রকার দলিল বা কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

Exit mobile version