সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :
খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় ৫১, বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থানান্তর, পাহাড়ীদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় পাহাড়ী ২১ পরিবারের বসতি স্থাপনের দাবীতে বিজিবি সদর দপ্তরকে অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউনাইডেট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ সমর্থিত দীঘিনালা ভুমি রক্ষা কমিটির নেতৃত্বাধীন পাহাড়ীদের সাথে সেনাবাহিনী ও পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটনা ঘটেছে। এতে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের হামলায় ১০ সেনা সদস্য সহ ১৫জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলেও কারোর নাম জানা যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাহাড়ীরা দিঘীনালা- বাবুছড়া সড়কের বিভিন্নস্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বলে জানা গেছে।
খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রি. জে. স. ম মাহবুবুল আলম পিএসসি পার্বত্যনিউজকে বলেন, দিঘীনালা উপজেলা নোয়াপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের উপর অতর্কিতে পাহাড়ীরা ইটপাটকেল ও গুলতি দিয়ে আক্রমণ করে বসে। কিন্তু সেনাবাহিনী অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির দিঘীনালার বাবুছড়া এলাকায় বিজিবি‘র ৫১ নং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর উচ্ছেদের দাবীতে দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই শতাধিক লোকের একটি মিছিল দিঘীনালা থেকে বাবুছড়ার পথে রওনা হলে পুলিশ মাইনী ব্রিজের উপর বাঁধা দেয়। বাঁধা পেয়ে মিছিলটি সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকে। রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কারবারি টিলা এলাকায় বাবুছড়া সড়কে এ সংঘর্ষ ঘটে বলে পার্বত্যনিউজকে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী দীঘিনালা জোনের অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন তৌহিদুল ইসলাম। তবে তাৎক্ষনিকভাবে তিনি আহত সেনা সদস্যদের নাম জানাতে পারেননি তিনি।
খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের ব্রিগ্রেড মেজর রুবাইয়াত পার্বত্যনিউজকে বলেন, একই সময়ে পাহাড়ীদের আরেকটি জঙ্গী মিছিল বাবুছড়ার দিকে যেতে চাইলে পুলিশ নোয়াপাড়া এলাকায় বাঁধা দেয়। এতে পুলিশের সাথে পাহাড়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী নোয়াপাড়ার দিকে মুভ করলে পাহাড়ের উপর থেকে সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর টহলযানের উপর ইটপাটকেল, পাথর ও গুলতি দিয়ে মারবেল নিক্ষেপ করে। এতে করে ৬ সেনাসদস্যের মাথা ফেটে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে।
দিঘীনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সাহাদাত হোসেন টিটু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাহাড়ীদের হামলায় কমপক্ষে ১০ সেনা সদস্য আহত হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। এখনো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটু জানান।
এদিকে স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্র পার্বত্যনিউজকে জানিয়েছে, লংমার্চে যোগদানের উদ্দেশে চুক্তি বিরোধী পাহাড়ী একটি সংগঠন স্থানীয় পাহাড়ী জনগণকে পরিবার প্রতি দুইজন লোককে মিছিলে যোগ দেয়ার জন্য চাপ দেয়। কোনো পরিবার তা দিতে সমর্থ না হলে ১ হাজার টাকা জরিমানা দেয়ার জন্য নির্ধারণ করে দেয়।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষায় দীঘিনালার বাবুছড়া এলাকায় বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি‘র একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য ১৯৯১ সালে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। গত বছরের ২২ মে বাবুছড়া বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আনুষ্ঠানিকভাবে বাবুছড়াতেই পালন করা হয়। এরপর থেকে বিজিবির সদর দপ্তরের ভুমি নিজেদের দাবী করে বিবিজি‘র সদর দপ্তর স্থাপনে বিরোধীতা করে আসছে স্থানীয় পাহাড়ীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ইউপিডিএফ‘র মদদে ১০ জুন সন্ধ্যায় কয়েকশ সংঘবদ্ধ পাহাড়ি নারী-পুরুষ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে নির্মাণাধীন বাবুছড়া ৫১, বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি‘র সদর দফতরে হামলা চালায়। এতে ছয় বিজিবি ও এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২২ জন আহত হন। হামলায় বিজিবি‘র দুটি রাইফেলসহ বেশকিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পুলিশ পাঁচ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও পাঁচ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দিঘীনালায় বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন নিয়ে আরো সংবাদ দেখুন:
♦ দীঘিনালার বাবুছড়ায় বিজিবি জোন সদরে উপজাতিদের হামলা: আহত ২০
♦ দিঘীনালায় বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম
♦ সন্ত্রাস ও অপরাধ নির্বিঘ্ন রাখতেই দিঘীনালায় বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের বিরোধিতা করা হচ্ছে
