দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি সংযোগ মহাসড়কের কাজ

fec-image

কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামায় প্রথমবারের মতো নির্মিতব্য শেখ হাসিনা বানৌজা সাবমেরিন নৌঘাঁটিতে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ও চকরিয়া-পেকুয়ায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বরইতলী একতাবাজার থেকে মগনামার লঞ্চঘাট হয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি পর্যন্ত ‘বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি’ মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

৩৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ কাজে এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেছেন। নির্ধারিত ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজটি শেষ করার জন্য ইতোমধ্যে প্রতিটি পয়েন্টের কালভার্ট ও বাজার সংলগ্ন এরিয়ায় ড্রেনেজ নির্মাণ কাজও অব্যাহত রাখা হয়েছে। সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলে চকরিয়া-পেকুয়ার উন্নয়ন দৃশ্যপট যেমন পাল্টে যাবে তেমনি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে আমুল পরিবর্তন হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গত ২২ নভেম্বর ২০২০ সালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সড়কটির নির্মাণকাজের ভিস্তিপ্রস্তর স্থাপন ও কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। তারপর থেকে সড়কটির নতুন করে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘একতা বাজার হতে বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি’ সংযোগ সড়ক। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬১ কোটি টাকা।

চকরিয়ার বরইতলী একতাবাজার থেকে মগনামা পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ কিলোমিটার সড়ককে ১০ দশমিক ৩ পয়েন্টে উন্নীত করা হবে। তিন প্যাকেজে এই সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে আগামী ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে। সড়কটির বর্তমান প্রস্থ ৫ দশমিক ৫ পয়েন্ট থেকে ১০ দশমিক ৩ পয়েন্ট উন্নীত করা হবে। চকরিয়া-পেকুয়ার সাংসদ জাফর আলম এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে এ যাবতকালের বৃহত্তর সড়ক উন্নয়ন কাজটি ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স, জামিল ইকবাল, রানা ডিল্ডার্স ও হাসান টেকনো বিল্ডার্স নামে ৪ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে পশ্চিমে চলমান একতা বাজার-পহরচাঁদা-মগনামাঘাঁট-বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি জেলা মহাসড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম প্যাকেজের ১ দশমিক ৯১০৮২৭৩ লাখ ঘনমিটার সড়ক বাঁধে মাটির কাজ, দশমিক ৪ কিমি বাঁক সরলীকরণ, ৬ দশমিক ৫৪ কিমি পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ ও প্রশস্তকরণ, ৫ দশমিক ৭৬ কিমি পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ, প্রশস্তকরণ ও উঁচুকরণ, দশমিক ৭০ কিমি রিজিভ পেভমেন্ট, আরসিসি বক্স কালভার্ট ৪টি, ইন্টারসেকশন ৩টি ও আরসিসি সসার ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

দ্বিতীয় প্যাকেজে ১ দশমিক ৯২৯১৬২৫ লাখ ঘনমিটার সড়ক বাঁধে মাটির কাজ, ৩ দশমিক ৫ কিমি নতুন পেভমেন্ট, দশমিক ৪ কিমি বাঁক সরলীকরণ, ৫ দশমিক ৪০ কিমি পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ ও প্রশস্তকরণ, দশমিক ৩০ কিমি রিজিভ পেভমেন্ট, আরসিসি বক্স কালভার্ট ৫টি, আরসিসি ড্রেনেজ সুইস গেট ২টি, ইন্টারসেকশন ১টি, আরসিসি সসার ড্রেন, সাইন-সিগন্যাল, গাইড পোস্ট, রোড মার্কিং নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত সড়কাংশ সাবমেরিন ঘাঁটি ‘বানৌজা শেখ হাসিনাতে’ যাতায়াতের জন্য ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে নির্মিত মহাসড়কের কাজ চলমান রয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বরইতলির একতা বাজার থেকে পহরচাঁদা মাদ্রাসার পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হয়েছে। ওই অংশে কালভার্টের কাজ চলমান রয়েছে। পহরচাঁদা থেকে চৌমুহনী পর্যন্ত কার্পেটিং কাজ চলমান রয়েছে। কিছু কিছু অংশে কার্পেটিং কাজ শেষ হয়েছে। চৌমুহনী থেকে পেকুয়া বাজার পর্যন্ত আরসিসি কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। পেকুয়া বাজার থেকে মগনামা লঞ্চঘাট পর্যন্ত কার্পেটিং কাজ চলমান রয়েছে। লঞ্চঘাট থেকে সাব মেরিন নৌঘাঁটি পর্যন্ত বেড়িবাঁধটি সংস্কার করে মহাসড়কে রুপান্তর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিটি পয়েন্টের কালভার্ট ও ড্রেনেজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। চলমান রয়েছে পেকুয়া চৌমুহনীস্থ চৌরাস্তায় গোলচত্বরের নির্মাণ কাজ।

পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন-সম্পাদক জালাল উদ্দিন বলেন, বানৌজা শেখ হাসিনা সাব মেরিন নৌঘাঁটি প্রকল্প যেমন আমাদের জন্য স্বপ্নের মত তেমনি মহাসড়কও স্বপ্নের মত। যা বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে। বহির্বিশ্বের কাছেও সড়কটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ । কারণ সড়কটি দিয়ে আমরা যেমন চলাচল করবো তেমনি দেশ ও বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সড়কটি ব্যবহার করে সাব-মেরিন নৌঘাঁটিতে যাতায়াত করবে। চলাচল করবে বড় বড় যানবাহন। যানজট মুক্ত হবে পেকুয়াবাসী।

পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পেকুয়ায় বানৌজা শেখ হাসিনা সাব মেরিন নৌঘাঁটি প্রকল্প চলমান রাখার মধ্যেই বানৌজা শেখ হাসিনা মহাসড়কের কাজ শুরু করে গত ২০২০ সালে। অতিতের কোন সরকার এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেনি। যা আমাদের জন্য স্বপ্নের মত। দৃষ্টিনন্দন সড়কটির উন্নয়ন কাজ শেষ হলে পেকুয়ায় সড়কের যানজট যেমন দূর হবে তেমনি উন্নয়নের আমূল পরিবর্তন হবে।

পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নে কক্সবাজারকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় ৩৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়কের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। যুগান্তকারী সড়ক উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন শেষ হলে উন্নয়নে বহু বছর এগিয়ে যাবে পেকুয়া।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া -পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, ‘৩৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া এই সড়কটিই হয়ে উঠবে চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও মহেশখালীর মানুষের অর্থনীতির চাকা সচলের। একইসাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে মগনামায় দেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি তথা ‘বানৌজা শেখ হাসিনা সাবমেরিন ঘাঁটিতে’ যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হবে এই সড়কটি। চকরিয়া-পেকুয়ার সাংসদ হিসেবে প্রতিটি সময় সড়কটির উন্নয়ন কাজ দেখভাল করে থাকি। দৃষ্টিনন্দন সড়কটির কাজ শেষ হলে চকরিয়া-পেকুয়াবাসীকে দেয়া ওয়াদার একটি পূরণ হবে ইনশাল্লাহ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 12 =

আরও পড়ুন