নেত্রকোনার পুর্বধলায় ধর্ষণে কিশোরী (১৬) অন্তঃসত্ত্বায় শফিকুল ইসলাম (৪৮) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত উপজেলার বিশকাকুনি ইউনিয়নের ধলা যাত্রাবাড়ী সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্ধা এবং ধলা গ্রামের মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে।
বুধবার রাতে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গোয়ালাকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। আটককৃত কোন কর্মই স্থায়ী করে না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল ১০ বছর পূর্বে শফিকুলের স্ত্রী ৬ বছরের শিশু কন্যাকে রেখেই শফিকুলকে ত্যাগ করে চলে যায়। সে-সময় থেকে শিশুটি তার বাবার সাথে থাকে। কিছুদিন পরে ঢাকায় গৃহ পরিচারিকার কাজের জন্য পাঠায় শিশুটিকে। এরপর থেকেই শিশুর কাজের টাকায় চলে শফিকুল।
গত ছয় থেকে সাতমাস পূর্বে কিশোরী বাড়িতে চলে আসে। এরপর বাড়িতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়। এর মাঝে ময়মনসিংহে এক বাড়িতে কাজে দেয়ার পর শারিরীক অবস্থার কারণে চিকিৎসকের কাছে নিলে ধরা পড়ে। পরে ওই মালিক কিশোরির বাবাকে ডেকে নিয়ে মেয়ে দিয়ে দেন।
এদিকে কিশোরীকে বাড়ি এনে কাউকে কিছু না বলতে আবারো ভয় দেখায়। পর প্রতিবেশিদের কাছে বিষয়টি আর গোপন থাকে না। স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তারা শফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় ভুল স্বীকার করে পালিয়ে যায় শফিকুল। পরে থানায় কিশোরীকে নিয়ে গেলে পুলিশ মামলা নিয়ে বুধবার রাতেই অভিযান চালিয়ে আটক করে।
পুর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, স্থানীয়রা বিষয়টি জেনেই গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন, ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান অন্যদের নিয়ে ভিকটিম কিশোরীকে থানায় নিয়ে হাজির হন। পরে ওই কিশোরী নিজে বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নিয়মিত মামলা রুজু হয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর তদন্ত হাবিবুর রহমান পিপিএম সঙ্গীয় এসআই আব্দুল্লাহ আল রাহিদ, এসআই নাজমুল হোসেনসহ ভিকটিমের ধলা যাত্রাবাড়ীস্থ পিতার বাড়ীতে গিয়ে ভিকটিমকে হেফাজতে নেন। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা বর্ণনা করে। অরপদিকে গোয়ালাকান্দা থেকে আসামিকে আটক করা হয়েছে। আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
