নওমুসলিম ওমর ফারুক হত্যা: ‘ঘটনার ক্লু স্পষ্ট হলেও’ আসামি আটক নেই

fec-image

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে নওমুসলিম ওমর ফারুক (বেরণ চন্দ্র ত্রিপুরা) হত্যার পাচঁদিন অতিবাহিত হলেও জড়িত উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের মধ্যে কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি আইন শৃংখলা বাহিনী। তবে ‘ঘটনার ক্লু অনেকটা ষ্পষ্ট দাবি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের’।

এদিকে নিহতের স্ত্রী হত্যার ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিলেও বর্তমানে তিনি নিজেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোন মুহুর্তে হামলার আশংকা করছেন তার পরিবার।

ঘটনার পরদিন ১৯ জুন নিহতের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে রোয়াংছড়ি থানায় অজ্ঞাতনামা পাচঁ আসামির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগের দিন ১৮ জুন জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কি.মি দূরে তুলাছড়িপাড়ায় উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে নিহত হন নওমুসলিম ওমর ফারুক। এসময় তিনি মসজিদ থেকে নামাজ আদায় শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন।

ধর্মান্তরিত হয়ে মসজিদ নির্মাণ এবং ইসলাম ধর্ম প্রচারের কারনে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অনেকটা প্রশাসন নিশ্চিত হলেও হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজাতীয় উগ্রপন্থী সন্ত্রাসীদের এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি আইন শৃংখলা বাহিনী।

এই বিষয়ে রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম তৌহিদ কবির বলেন, উপজেলা সদর থেকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল প্রায় ১৮ কি.মি দুর্গম এলাকায়। ঘটনার পর বিরূপ আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুলিশ ওই এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে উগ্রপন্থি উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা একই কায়দায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ৮জন নেতাকর্মী ও একাধিক ব্যবসায়ীকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করেছে।

এদের মধ্যে কাউকে সরকারী দল করার কারনে, কাউকে আঞ্চলিক দল ছাড়ার কারনে আবার কাউকে চাঁদার জন্য হত্যা করা হয় বলে আইন শৃংখলা বাহিনীর তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে।  কিন্তু ধর্ম প্রচারের কারণে সাধারণ মানুষকে হত্যার ঘটনা এটিই প্রথম।

যার কারণে ওমর ফারুকের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, একই কায়দায় খুনের ঘটনাগুলোর একটিরও এখনও পর্যন্ত কোন ক্লু বা সুরাহা না হওয়ার কারণে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম নাগিরক পরিষদের জেলা সভাপতি কাজী মজিবুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত প্রত্যেক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জেএসএস জড়িত।

তাই এই বাহিনীর অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের আটকের দাবি জানান তিনি। এছাড়া পাহাড় থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া সেনা ক্যাম্প পুন:স্থাপনের দাবি জানান আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা।

অন্যদিকে বান্দরবানের একাধিক আলেম-ওলামা জানান, সাম্প্রতিক বান্দরবানে বহু সংস্থা খ্রিষ্টান মিশনারির মাধ্যমে ধর্মান্তিরিত করণের কাজ প্রকাশ্যে চালাচ্ছে।

কখনো-কোথাও মুসলিম সম্প্রদায়ের কেউ তাদের বাঁধা প্রদান করেনি, অথচ ত্রিপুরা থেকে একজন সাধারণ মানুষ মুসলমান হওয়ার কারণে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করলো পাহাড়ের সন্ত্রাসীরা।

বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ পাহাড়ে আইন শৃঙ্খলায় নিয়োজিত সংস্থার প্রতি দাবি জানান।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার জেরিন আকতার বলেন, যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো সব দুর্গম এলাকায়। যার কারণে সন্ত্রাসীরা ঘটনার পর দ্রুত গহীণ অরণ্যে আশ্রয় নেয়। এছাড়া জেলার আইন শৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে পুলিশ।

তিনি আরও জানান, পাহাড়ে হত্যাকাণ্ডের অনেক ঘটনায় মামলা হয়েছে, আসামিও আটক হয়েছে। সন্ত্রাসীরা যে দল বা গোষ্ঠীর হউক-না কেন পুলিশের জালে তাদের আটকা পড়তেই হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আসামি, ওমর ফারুক, নওমুসলিম
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × five =

আরও পড়ুন