মহেশখালীর কুহেলিয়া নদী মৃত প্রায় !

‘নদী ভরাট করে উন্নয়ন পৃথিবীর কোন দেশে হয়নি’

fec-image

মাতারবাড়ীতে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প হওয়ার কারণে মানুষ কর্ম-জীবিকাহীন হচ্ছে, নদী-মাছ ধ্বংস হচ্ছে, কোহেলিয়ার তীরে যুগ যুগ ধরে বসবাস করা মানুষের সভ্যতা বিলীন হওয়ার পথে। পৃথিবীর কোন দেশ এভাবে কোহেলিয়া নদীর মত নদী দখল করে তাদের উন্নয়ন করছেনা মহেশখালীর কোহেলিয়া নদী পরিদর্শন ও সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময়কালে এমন কথা বলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সদস্য শারমিন মুরশিদ।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও জাতীয় নদী জোটের নেতৃবৃন্দ কক্সবাজারের কোহেলিয়া নদী পরিদর্শন ও ইউনুছখালী মৎস্যজীবি অফিসে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। তিনি বলেন, মহেশখালী একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। যেখানে পাহাড় আছে, বন আছে, অন্যরকম জীববৈচিত্র আছে। এই এলাকার মানুষ তাদের উত্তরাধিকারীদের জন্য জায়গা রেখে দিতে চায়। রাষ্ট্রে উন্নয়ন দরকার আছে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কোহেলিয়া নদীর সাথে অন্যায় করা হচ্ছে, নদী দখল হচ্ছে। নদী জীবন্ত, তার প্রবাহ পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নদী রক্ষার জন্য নদী রক্ষা কমিশন, নদী উদ্ধার-বাজেট ঘোষণা করেছেন। মানুষের সাগরের সাথে বসবাস করতে শিখতে বলেছেন। মানুষের জীবনকে হুমকি দিয়ে তিনি কখনো উন্নয়ন করবে না। সরকার জনগণের ভাল চায়। বরং সবাই ওনাকে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না, সঠিক তথ্যগুলো ওনার কাছে আমরা পৌঁছে দিব।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় জেলে এবং জমির মালিকরা তাদের বক্তব্যে বলেন, স্থানীয় জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের চাকরি হচ্ছে না। অনেক পরিবার অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না। তাদের জালগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবারের ভরনপোষণ-সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। তারা জমির নায্যমুল্যে এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পায়নি। তারা দ্রুত কর্মসংস্থান এবং ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। কোহেলিয়া নদী পরিদর্শন শেষে স্থানীয় ওজেলেদের সাথে মতবিনিময় করনে শারমিন মুরশেদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় নদী জোটের সদস্য সাইদা রোকসানা শিখা, বাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি এডভোকেট রাওশান সিতা, বাপার জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম, সহ সভাপতি মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম, দৈনিক মেহেদী পত্রিকার সম্পাদক স.ম ইকবাল বাহার চৌধুরী, মহেশখালী বাপার সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ বাপা’র কক্সবাজার জেলা শাখা, সদর-পৌর শাখাসহ পেকুয়া এবং মহেশখালী শাখার অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 2 =

আরও পড়ুন