parbattanews

নাইক্ষ্যংছড়িতে সড়ক নির্মাণ, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প এখন দুর্নীতি ও অনিয়মের জ্বলন্ত উদাহরণে পরিণত হয়েছে। উন্নয়নের নামে যা হয়েছে, তা কার্যত জনগণের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা। কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে মানসম্মত কাজ তো দূরের কথা—ন্যূনতম নিয়মও মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার সওদাগরের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ বাস্তবায়নের সময় নিম্নমানের ইট, মাটি মিশ্রিত বালি এবং প্রয়োজনের তুলনায় সিমেন্টের পরিমাণ কম রেখে বালির পরিমাণ বেশি দেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে ইট সঠিকভাবে বসানো হয়নি এবং জয়েন্ট ও বেস প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলী প্রাইমারি স্কুল থেকে ইউসুফের বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ করার কথা। কিন্তু সেই রাস্তাটি সেখানে না করে তালেব নামে এক ব্যক্তির বাড়ি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। রাস্তা নির্মাণে অনেক স্থানে সঠিকভাবে বসানো হয়নি ইট এবং জয়েন্ট, বেস প্রস্তুতিতেও ঘাটতি রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী তথ্য মতে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের আওতায় এক কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা এইচবিবি করণের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। যার বরাদ্দ ধরা হয়েছে সাড়ে ৯৬ লাখ টাকা। রাস্তাটি বাস্তবায়ন করছেন মেসার্স ইয়াসিন অ্যান্ড ব্রাদার্সের ঠিকাদার সওদাগর। কিন্তু রাস্তার কাজে মানা হয়নি কোনো নিয়ম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রাইমারি স্কুলের মুখ থেকে রাস্তাটি নির্মাণ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু রাস্তার পাশে নিম্নমানের ইট ও বালু জমাট করে রাখা আছে। রাস্তাটি ধরে গেলে ইউসুফের বাড়ি নয়, বরং তালেব নামে এক ব্যক্তির বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা করা হয়েছে। কোথাও আধা ইট, কোথাও ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। ইট বসানোর আগে বালু ভরাট ও সমতল করার নিয়ম থাকলেও তা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক স্থানে মাটির ওপর সরাসরি ইট ফেলে সলিং সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলে মুহূর্তেই লাখ টাকার রাস্তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ওই এলাকার বাসিন্দা ইকবাল, সায়েদসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, রাস্তাটি ফুলতলী প্রাইমারি স্কুলের মুখ থেকে ইউসুফের বাড়ি পর্যন্ত নির্মাণ করার কথা। কিন্তু তা না করে তালেবের বাড়ি পর্যন্ত করা হয়েছে। আর কাজ করার সময় নিম্নমানের ইট, পরিমাণমতো বালি ও সিমেন্ট দেয়নি ঠিকাদার। এক কথায় তিনি নিজের মনের মতো কাজ করেছেন।

মেসার্স ইয়াসিন অ্যান্ড ব্রাদার্সের বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার সওদাগর জানান, নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার কাজ করছেন এবং প্রকল্পের কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। তিনি রাস্তার কাজে কোনো অনিয়ম করছেন না বলেও দাবি করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমি এখনো কাজটি বুঝে নেইনি। বুঝে নেওয়ার সময় সবকিছু যাচাই করে বুঝে নেব। যদি কোনো অনিয়ম পাই, তাহলে বিলটি বন্ধ করে রাখা হবে।”

Exit mobile version