নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্তে ফের গুলির শব্দ

fec-image

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকার চেরারমাঠ ও নিকুছড়িতে ফের গোলাগুলির আওয়াজ ভেসে আসার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৪ জুন) বিকেলে চেরারমাঠ এবং এর আগে সোমবার রাত ৯টা ২০ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিট পযর্ন্ত, সীমান্ত পিলার ৪২ এবং ৪৩ এলাকা দিয়ে থেমে থেমে প্রায় ২৫ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে।

চেরারমাঠের মোহাম্মদ ইউনুছ ও আলী আহমদ জানান, দীর্ঘ ১ বছর ধরে চেরারমাঠে সীমান্ত পয়েন্টে বিদ্রোহীরা দখলে রয়েছে। এর আগে ছিল জান্তা সরকারের বিজিপির সশস্ত্র যোদ্ধারা।

গেল বছরের জুন মাসে গেরিলা হামলা চালিয়ে বিদ্রোহী আরকান আর্মি চেরারমাঠের বিপরীতে মিয়ানমার অভ্যন্তরে রাখাইনের পুরানমাইজ্জা ঘাঁটিটি দখলে নেয়। এভাবে সীমান্তের সব ঘাঁটি আরকান আর্মি দখলে নিয়েছে।

এরপর থেকে প্রায় সময় সন্ধ্যা নামলেই ২-১টি করে মিস ফায়ার করে জান্তা বাহিনী। মঙ্গলবার বিকেলের ঘটনাটিও তার অংশ মনে করেন তারা।

অপর একটি সূত্র দাবি করে, বাংলাদেশ সীমান্তের অংশে ঘাঁটিগুলো হারানোর পর জান্তা সরকার আবারও শক্তি সঞ্চয় করছে বিদ্রোহীদের হঠিয়ে তাদের সীমান্ত পোস্টগুলো পুনরুদ্ধার করতে। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জান্তা বাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও মিয়ানমারে অবস্থান করা রোহিঙ্গা মুসলিম যুবকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা আটছে। এ আতঙ্ক এখন বিদ্রোহী আরকান আর্মির মাঝে। তাই তারা ফায়ার করছে মাঝে মধ্যে।

জামছড়ি এলাকার মোহাম্মদ ছৈয়দুর রহমান জানান, সীমান্ত পিলার ৪৬/৪৭ এলাকা দিয়ে গত এক মাসের ভেতরে কোন গোলাগুলি, স্থল মাইন বিস্ফোরণের শব্দ মিয়ানমার থেকে আসেনি। এ সীমান্ত এলাকার বতর্মান পরিস্থিতি একেবারেই শান্ত।

নাইক্ষ‍্যংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি একেবারেই শান্ত। তবে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার জন্যে মাঝে মধ্যে গুলি ছোড়ে আরাকান আর্মি

উল্লেখ্য, চলতি সময়ে নাইক্ষ‍্যংছড়ি উপজেলার আওতাধীন ঘুমধুমের ৩৪ পিলার থেকে দৌছড়ি ইউনিয়নের
তাগুছড়া ৫৫ নং পিলার পর্যন্ত আগের মতো মর্টারশেল, গোলাগুলির প্রকট আওয়াজ শোনা যায় না।

সূত্রে জানা যায়, বতর্মানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার মিয়ানমার অংশের প্রায় জায়গা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের ওই এলাকায় কোন প্রতিপক্ষ না থাকায় আগের মত গোলাবারুদ বিস্ফোরণের আওয়াজ এখন আর তেমন শোনা যায় না।

তবে হঠাৎ করে সীমান্তের ৪৪ পিলারের আশপাশের গোলাগুলির আওয়াজে লোকজন মনে করছে জান্তা বাহিনী আতঙ্কে বিদ্রোহী আরকান আর্মি এসব ফাঁকা গুলি ছুড়ছে পুরো সীমান্ত জুড়ে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার, সীমান্ত উত্তেজনা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন