নাইক্ষ্যংছড়ির তিন ইউপির মেয়াদ শেষ: যেকোন মূহুর্তে তফসিল

fec-image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তিন ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ। এর মধ্যে ঘুমধুম ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের পাঁচ বছর মেয়াদপূর্তি হয়েছে। এ দুটি পরিষদের নির্বাচন হয়েছিল ২০১৪ সনের ২ জুন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা শপথ গ্রহণ করেন ১৭ জুন। এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপির উপ-নির্বাচন অনুষ্তঠিত হয় ২০১৭ সালের ২৩ মে। ওই পরিষদের শপথ হয় ২২ জুন। সেই অনুযায়ী এই তিন পরিষদের মেয়াদ পার হয়েছে।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনানুযায়ী, নির্বাচনের পর পরিষদের প্রথম সভা থেকে পরবর্তী ৫ বছরের মেয়াদ গণনা হয়। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে চলতি মাসের শেষের দিকে তফসিল ঘোষনা হতে পারে এই তিন ইউনিয়নের।

এই প্রসঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু জাফর ছালেহ বলেন, তিনটি ইউপির যেহেতু আইনী কোন জটিলতা নেই সেহেতু খুব শীঘ্রই তফসিল হবে। কখন নাগাদ নির্বাচন হবে তা ষ্পষ্ট বলা না গেলেও দ্বিতীয় ধাপে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হতেই ইউনিয়ন জুড়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ ভোটারদের দ্বারে গিয়ে নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন এবং অতীত ও আগামীর কর্মকান্ড ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন ভোটারদের মাঝে।

৫নং সোনাইছড়ি ইউনিয়ন: উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসবে মাঠে নেমেছেন জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যানিং মারমা। রাজনীতি ছাড়াও তার রয়েছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও ভোটারদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান বাহান মার্মার সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন। যদিওবা বয়সের কারনে বর্তমান চেয়ারম্যান আসন্ন নির্বাচন করবেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট করেননি।

নির্বাচনকে সামনে রেখে বাহান মার্মা গতানুগতিক নিয়মে কাজ করে গেলেও তাঁর প্রতিদ্বন্ধী সম্ভাব্য প্রার্থী এ্যানিং মারমা এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে উপস্থিত হয়ে আগাম প্রচারণা শুরু করেছেন।

১নং নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়ন: নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী। তিনি উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তিনি প্রতিদ্বন্ধিতা করতে পারেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আবছার এর সাথে। উভয় প্রার্থীই হেভিওয়েট। একজনের অতীত রাজনীতি ও চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সেবা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। অপরজনের রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য ও গোষ্টীগত শক্তি। তবে রাজনীতির মারপ্যাচে এই দুজনের বাইরে অন্য কেউ প্রার্থী হলে সেক্ষেত্রে ভোটের মাঠ হবে ভিন্ন ধরনের।

৪নং ঘুমধুম ইউনিয়ন:: ২০১৪ সালের ২ জুন ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্ধিতা করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ। ওই নির্বাচনে সাবেক এক চেয়ারম্যানের সাথে একটি সম্প্রদায় ভিত্তিক বিরোধের সুযোগে জাহাঙ্গীর আজিজ বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার সেই বিরোধ নেই। তবে তৎসময়কার প্রার্থীদের মধ্যে একজন কারাগারে এবং অপরজন এখনো নিরব। যার কারনে আসন্ন নির্বাচনে ঘুমধুমে এখনো পর্যন্ত জাহাঙ্গীর শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।

তবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে পরিষদে অনিয়ম ও নিজ দলীয় প্রতিপক্ষের কূটকৌশল থেকে তিনি সহজেই পার পাচ্ছেন না! আসন্ন নির্বাচনে এই ইউনিয়নে প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন গতবারের শক্ত প্রতিদ্বন্ধি সনজিত তংচঙ্গ্যা ও সমাজ সেবক ছালেহ আহমদ।

নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হওয়া প্রসঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, তিনটি ইউপির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন জানেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অবগত করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই পরিষদগুলোর তফসিল ঘোষনা করতে পারেন নির্বাচন কমিশন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 − three =

আরও পড়ুন