নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড় থেকে নিষিদ্ধ সময়ে মা বাঁশ কেটে পাচার

fec-image

বাঁশ উৎপাদন বাড়াতে ১ জুন থেকে তিন মাসের জন্য পাহাড়ে বাঁশ কাটা ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নাইক্ষ্যংছড়ি তা মানা হচ্ছে না। এ উপজেলার দু’রেঞ্জ অফিস আওতাধীন ১৭ মৌজার সর্বত্র যার যার মতো করে বাঁশ কেটে পাচার করছে অন্য উপজেলায়। বিশেষ করে উপজেলার বাইশারী ও ঘুমধুমের সব মৌজা আর দৌছড়ির বাঁকখালী মৌজায় শতশত কাঠুরিয়া চারা বাঁশ ধ্বংস করে সেই মা বাঁশগুলো কেটে পাচার করছে প্রকাশ্যে।

প্রত্যক্ষ্দর্শী আবদু রহিম, আবু ইউছুপ ও হাবিবুর রহমান জানান, বাঁকখালী, রেজুআমতলী খাল, ঈদগড় খাল, খুটাখালী ছড়া ও গর্জনিয়া খাল দিয়ে বন্ধের এ সময় প্রতি সপ্তাহের হাটের দিন নাইক্ষ্যংছড়ির বনের মা বাঁশ গুলো কেটে অন্য উপজেলায় পাচার করছে বাঁশ দস্যুরা । তাদের দাবি টাকা দিয়ে কাগজ সৃজন করে বৈধ করেই তারা এ কাজ করে আসছেন। প্রত্যক্ষ্দর্শীরা আরও জানান, গেল বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সাপ্তাহিক হাট থাকায় বাঁকখালী মৌজা থেকে অন্তত ২০/৩০ হাজার মূলি, টেংরা ও মিতা বাঁশসহ নানা প্রজাতির বাঁশ বাঁকখালী নদী দিয়ে রামু ও ককসবাজারে পাচার করেছে সকাল ১০ টায়। যে বাঁশ বাঁকখালী নদীর আঁকে-বাঁকে সবাই প্রত্যক্ষ করছেন।

সচেতন মহলের অভিযোগ, এ সব বাঁশ পাচারে ভুয়া কাগজ সৃজন করে দিচ্ছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। কেননা বাঁশ ব্যাপারী সর্বত্র বলে বেড়াতে থাকে তাদের কেউ ঠেকাতে পারবে না। কারণ বন বিভাগ বাঁশ ব্যবসায়ীদের সাথে চুক্তি করে অগ্রিম লাখ লাখ বাঁশের দাখিলা কেটে রেখে দিয়েছেন। অথচ এখন জুলাই মাস। বাঁশ কাটা বন্ধ হয়েছে ১ জুন থেকে। এখন ১৬ জুলাই। বাঁশ কাটা বন্ধ দেড়মাসের বেশী। কিন্তু বনের মা বাঁশ সব নদী, খাল বা ছড়াতে।

ফলে একদিকে সারা বছরের জন্যে প্রজনন দেয়া চারা বাঁশ নিধন হওয়ার পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জকর্মকতা হাফিজুর রহমানের সাথে এ বিষয়ে জানতে সরাসরি ও মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে নাইক্ষ্যংছড়ির ২ বন রেঞ্জ দেখবালকারী কতৃর্পক্ষ লামা বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এস এম কায়চার এ প্রতিবেদককে বলেন, জুন, জুলাই ও আগস্ট এ ৩ মাসে পার্বত্য অঞ্চলে বাঁশের বংশ বৃদ্ধি সহ নানা কারণে এ সময় যে কোন ধরণের বাঁশ কাটা ও বেচা- বিক্রি নিষিদ্ধ । এ সময়ে সব ধরনের সবুজ, কাঁচা ও নতুন বাঁশসহ কচি ও চারা বাঁশ কর্তন, আহরণ ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ১ জুন থেকে নতুনভাবে কোনো বাঁশ কর্তন, পরিবহন, আহরণ ও বাণিজ্যিকভাবে যেন সরবরাহ কেউ করতে না পারে, সে জন্য বন বিভাগ সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের দাখিলা-টিপিসহ সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বান্দরবানের জেলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিয়া বলেন, বন্ধ মৌসুমে বান্দরবানের বিভিন্ন বন বিভাগ সংশ্লিষ্টদের বাঁশের নতুন পরিবহন ছাড়পত্র প্রদান বন্ধ রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর কেউ এ সব করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বনবিভাগ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 − seven =

আরও পড়ুন