নানা শঙ্কায় কাল খাগড়াছড়ি সদরসহ তিন উপজেলায় নির্বাচন

fec-image

নানা শঙ্কার মধ্যে রাত পোহালে কাল মঙ্গলবার (২১ মে) খাগড়াছড়ি সদরসহ তিন উপজেলা পরিষদে নির্বাচন। ভোট গ্রহণে প্রশাসনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচন সরঞ্জাম। তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১০ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

নির্বাচনে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলসহ সহিংসতার আশঙ্কা করেছেন খোদ খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী দিদারুল আলম। জেলার পানছড়িতে দুই আঞ্চলিক সংগঠনের প্রার্থীর কারণে সংঘাতের আশঙ্কায় শঙ্কিত ভোটাররা।

দ্বিতীয় ধাপে খাগড়াছড়ি সদরসহ উপজেলার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ভোট কেন্দ্র ৪১টি। মোট ভোটার ৯২ হাজার ৮৬৪ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৭ হাজার ৮৯৫ ও নারী ভোটার ৪৪ হাজার ৯৬৯ জন।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম (আনারস), সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মো. আকতার হোসেন (মোটরসাইকেল), গোলঅবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা (কৈ মাছ) জাতীয় পাটির নজরুল ইসলাম (লাঙল), বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুশীল জীবন ত্রিপুরা (টেলিফোন) ও ভারত প্রত্যাগত নেতা সন্তোষিত চাকমা (দোয়াত কলম) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. আসাদ উল্লাহ (বই), ক্যাউচিং মারমা (তালা), মো. আবু হানিফ (টিয়াপাখি), মো. এরশাদ হোসেন (চশমা) ও শাহাবুদ্দিন সরকার পেয়েছেন (টিউবওয়েল) প্রতীক।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কল্যাণী ত্রিপুরা (কলস), নিউসা মগ (প্রজাপতি) ও নিপু ত্রিপুরা (ফুটবল) নিয়ে নির্বাচিত করছেন।

এদিকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী দিদারুল আলম প্রতিপক্ষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে পৌর এলাকার ৬টি কেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ভোট বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন।

তিনি রবিবার (১৯ মে) দুপুরে তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এমন অভিযোগ করে এ বিষয়ে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, জনৈক প্রার্থী নিজেকে মন্ত্রী ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সমর্থিত প্রার্থী বলে মিথ্যাচার করে ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যা আদৌ সত্য নয়।

পানছড়ি উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হননি। সেখানে দুই আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ প্রসীত ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পানছড়ি উপজেলার ২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টিতে শূন্য ভোট ও অপর কেন্দ্রে মাত্র একটি ভোট পড়ে। পানছড়িতে মোট ভোটার ৫৬ হাজার ৫ ভোট। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৮ হাজার ২৪ ভোট ও নারী ভোটার ২৭ হাজার ৯৮০ ভোট।

পানছড়িতে চেয়ারম্যান পদে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক সমর্থিত প্রার্থী মিটন চাকমা (আনারস) ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের ইউপিডিএফ প্রসীত সমর্থিত চন্দ দেব চাকমা (কাপ-পিরিচ)।

পানছড়িতে ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে লোকমান হোসেন (বৈদ্যুতিক বাল্ব), জয়নাথ দেব (তালা), সৈকত চাকমা, (টিউবওয়েল) ও কিরণ ত্রিপুরা পেয়েছেন (চশমা)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনিতা ত্রিপুরা (ফুটবল) ও সুজাতা চাকমা (কলস) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভোটার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই আঞ্চলিক দলের প্রার্থীর কারণে এ উপজেলার সাধারণ ভোটাররা নির্বাচনের দিন সংঘাতে আশঙ্কায় আতঙ্কিত বলে জানিয়েছেন।

দীঘিনালা উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দুই জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দীঘিনালা উপজেলার ভোট কেন্দ্র ৩৬টি। মোট ভোটার ৯০ হাজার ১৯৪। পুরুষ ভোটার ৪৬ হাজার ৮১ জন ও নারী ভোটার ৪৪ হাজার ১১২জন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীঘিনালা উপজেলায় তিনটি কেন্দ্র ভোট শূন্য ও পাঁচটি কেন্দ্রে ১৮ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন।দুর্গম নাড়াইছড়িতে ভোটার সরঞ্জাম যাবে হেলিকপ্টার।

দীঘিনালায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কাশেম (আনারস) ও ইউপিডিএফ প্রসীত সমর্থিত প্রার্থী প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা (মোটরসাইকেল)।

এছাড়া দীঘিনালায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোস্তফা কামাল মিন্টু (টিউবওয়েল), সোলাইমান (টিয়াপাখি) ও সুসময় চাকমা (চশমা)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সীমা দেওয়ান (কলসি) ও বিলকিছ বেগম পেয়েছেন (প্রজাপতি) প্রতীক।

পঞ্চম উপজেলা জেলা পরিষদ নির্বাচনে মো. কাশেম বিজয়ী হলেও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবার ফলাফল ভিন্ন হতে পারে বলে ধারণা পর্যবেক্ষণ মহলের।

রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জোনায়েদ কবীর সোহাগ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং এ ব্যাপারে সকল প্রার্থীর সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।

প্রার্থীদের নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, আচরণ বিধি লঙ্ঘিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করতে প্রতিটি উপজেলাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমন্বয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে সোমবার এক প্রেস ব্রিফিং-এ খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে তার জন্য পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-বিজিবিসহ চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান।

পাহাড়ে জাতীয় রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলো নানা ভাবে আলোচিত। খাগড়াছড়ি উপজেলা নির্বাচনেও কাজ করে নানামুখী সমীকরণ। তাই নির্বাচনে কোন কোন প্রার্থী নির্বাচিত হবেন, তা অপেক্ষা করতে হবে শেষ দিন পর্যন্ত।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, নির্বাচন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন