parbattanews

নানিয়ারচরের ইউএনও নুরুজ্জামানকে আবারো প্রাণনাশের হুমকি: দু’কোটি টাকা চাঁদা দাবি

nurujjaman 1

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

দুই মাসের মাথায় দ্বিতীয় বারের মতো হত্যার হুমকি দেয়া হলো জনপ্রিয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামানকে।

সরকারী দায়িত্ব পালনকালে এর আগে তার উপর সরাসরি আক্রমণ করে লাঞ্ছিত করেছিল পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। এবার বিকল্প একটি নাম্বার থেকে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের মোবাইল ম্যাসেজের মাধ্যমে দেয়া হুমকিতে বাঁচতে চাইলে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে বলা হয়েছে, না হলে তার পরিবারকে অভিজিত রায়ের ভাগ্যবরণ করতে হবে।

দুই মাস পূর্বে মোবাইল ফোন কোম্পনী রবি আজিয়াটা‘র ০১৮৬৯১০৩৫৭২ নাম্বার থেকে পাঠানো পৃথক তিনটি এসএমএস-এ ইউএনও নুরুজ্জামানকে ফ্যামিলি নিয়ে সড়ক ও নদী পথে নানিয়ারচর না আসার কথা বলা হলেও এবার একই অপারেটরের ০১৮৭২১৬৭৬৮১ নাম্বার থেকে ২ মার্চ পাঠানো এসএমএম-এ বলা হয়েছে, ‘‘আপনি দূরের মরণ কাছে নিয়ে এসেছেন, আপনি যতোই আর্মি ও পুলিশ গার্ড দিয়ে যান কোন লাভ হবেনা। পেট্রোল বোম দিয়ে মারবো না হয় বুলেট, পারলে বদলী হয়ে যাও। না হয় আমরা বিদায় করে দিবো, না হয় তোমার ফ্যামিলির অবস্থা অভিজিত রায়ের মতো হবে। না হয় দুই কোটি টাকা রেডি রাখো। গুড বাই’’

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান পার্বত্যনিউজ প্রতিনিধিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি নানিয়পারচরে টিআর, কাবিখা, এডিবিসহ সরকারী সম্পত্তির সুষম বণ্টন করে সরকারী সব সুযোগ-সুবিধা সাধারণ জনগণের কল্যাণে কাজ করছি বলেই সন্ত্রাসীদের গাত্রদাহ হচ্ছে। তিনি বলেন, যতোই হুমকি-ধামকি আসুক আমি আমার অবস্থান থেকে পিছপা হবো না।

তার জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড স্থানীয় অনেকেই সহ্য করতে পারছেনা উল্লেখ করে, ইউএনও নুরুজ্জামান বলেন, তারা সরকারী সম্পত্তির অসম বণ্টন বা অপব্যবহার করতে পারছে না বলেই অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে আমাকে হুমকি দিয়ে তারা তাদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমি আগেও তাদের এধরনের হুমকিতে ভীত হইনি আর এবারও আমি ভীত না। আমি জনগণের কল্যাণে নিবেদীত আছি আর থাকবো। সরকারী সম্পদের সুষম বণ্টন করতে গিয়ে জীবন দিতেও কার্পণ্য করবেননা বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে তিনি তার কর্মস্থল নানিয়ারচরে আছেন জানিয়ে বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আর এবিষয়ে নানিয়ারচর থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছেন। যার নাম্বার ১০২, তারিখ-০৩/০৩/২০১৫ইং।

নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান পার্বত্যনিউজকে জানান, এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারের অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ বিষয়ে অগ্রগতিও হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সবকিছু নিশ্চিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তিনি আশা করেন খুব শীঘ্রই সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, মাত্র ক‘দিন আগে, পহেলা মার্চ সরকারি কাজে জমি দেখতে গিয়ে পাহাড়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠির হামলার মুখে পড়ে রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: তানভীর আযম সিদ্দিকী। এসময় তিনি পাহাড়ি এলাকা দৌড়ে এবং নদীতে সাঁতরিয়ে কোন রকমে জীবন নিয়ে রাঙামাটি ফিরে আসেন। এসময় তিনি শারিরীকভাবে কিছুটা আঘাতপ্রাপ্তও হন।

প্রসঙ্গত, মহান স্বাধীনতার মাস মার্চের শুরু থেকেই পার্বত্য রাঙামাটির জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের উপর চিহ্নিত পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলা আর হত্যার হুমকির ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, পার্বত্যনিউজের কাছে এমনটাই দাবি করেছেন পাহাড়ের সচেতন মহল। এসব তাদের জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন চলছে তারই অংশ বিশেষ। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা আর হত্যা করার মতো হুমকির ফলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে বিজয় দিবসের প্রক্কালে নানিয়ার চরে চাঁদা না দেয়ায়, বাঙালীদের সাড়ে ৫ লাখ আনারস বাগান ও ২২ হাজার সেগুন কর্তন করে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় প্রশাসন এ ঘটনার পুলিশ, প্রশাসন ও আর্মির সামনেই উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপর হামলা করে বসে। কিন্তু সে সময় রহস্যজনক কারণে প্রশাসন এ ঘটনায় নূন্যতম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পার্বত্য জন সংহতি সমিতি জেএসএস এই বাগান কর্তনের জন্য ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা দায়ী বলে অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তী কালে প্রশাসনের তদন্তেও একই কথা বেরিয়ে আসে। স্থানীয়রা মনে করে প্রথম দুই বার ছাড় দেয়ায় পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা এতোটা সাহসী হতে পেরেছে।

Exit mobile version