যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি বহুতল অফিস ভবনে বন্দুকধারী হামলা করেছে। এতে সন্দেহভাজন হামলাকারী এবং এক বাংলাদেশি অভিবাসী পুলিশ অফিসারসহ ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত পুলিশ অফিসার বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস। তিনি আরো জানান, নিহত পুলিশ অফিসার ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিউইয়র্ক পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি বাংলাদেশ থেকে আসা একজন অভিবাসী। মেয়র অ্যাডামস তাকে ‘অফিসার ইসলাম’ বলে উল্লেখ করেন।
পুলিশ অফিসার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চূড়ান্ত ত্যাগ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের কমিশনার জেসিকা টিশ। জেসিকা টিশ জানান, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ওই কর্মকর্তার নাম দিদারুল ইসলাম। দিদারুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন এবং তার ২টি সন্তান। তার স্ত্রী তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন। পুলিশ কমিশনার বলছেন, আমরা তাকে যে কাজটি করতে বলেছিলাম তিনি সেই কাজটিই করছিলেন। তিনি চূড়ান্ত ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তির গাড়িতে একটি এম-ফোর রাইফেল এবং গুলিবিদ্ধ ম্যাগাজিনসহ একটি রিভলবার পাওয়া গেছে। তার নেভাদা রাজ্যের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, নেভাডা হলো পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাজ্য। রাজ্যটি উত্তর-পশ্চিমে অরেগন, উত্তর-পূর্বে আইডাহো, পশ্চিমে ক্যালিফোর্নিয়া, দক্ষিণ-পূর্বে অ্যারিজোনা এবং পূর্বে ইউটা দ্বারা সীমাবদ্ধ। নেভাদা হল সপ্তম সর্বাধিক বিস্তৃত, ৩২তম সর্বাধিক জনবহুল, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবম স্বল্পতম ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্য।
নেভাদা রাজ্যের ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী সন্দেহভাজন এই বন্দুকধারীকে নিষ্ক্রিয় করার পর ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কথা জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ। তবে কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।
মেয়র অ্যাডামস আরো বলেন, বন্দুক সহিংসতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষকে স্পর্শ করেছে। আমাদের অবশ্যই নিরীহ নিউইয়র্কবাসীদের রক্ষা করার জন্য লড়াই করতে হবে।
সূত্র : বিবিসি
