নিজের টাকায় ৩শ ছাত্রছাত্রীকে অ্যাসাইনমেন্ট সরবরাহ শিক্ষকের

fec-image

প্রায় ৩শ শিক্ষার্থীকে নিজের টাকায় অ্যাসাইনমেন্ট কিনে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক প্রধান শিক্ষক। সরকারি নির্দেশনায় অ্যাসাইনমেন্ট বিনা ফি-তে নিতে বলা হলেও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে ফটোকপি দোকান থেকে টাকার বিনিময়ে অ্যাসাইনমেন্ট কিনতে হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এই খারাপ খবরের মাঝেও কর্মক্ষেত্রে সততা দেখালেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ১নং ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা।

চারদিকে যেখানে দুর্নীতি-অনিয়মের মহামারি চলছে, সেখানে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাজের স্বচ্ছতা বর্তমান সময়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত মনে করছেন সচেতন অভিভাবক সমাজ। এই শিক্ষক গত জুলাই ও আগস্ট মাসে দুই দফায় ৩শ শিক্ষার্থীর মাঝে নিজ পকেটের ৩৭ হাজার টাকায় অ্যাসাইনমেন্ট সরবরাহ করে আলোচনায় এসেছেন।

জানা গেছে, চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন ও পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের। সেই লক্ষে গত মে মাসের ২তারিখ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সপ্তাহের একদিন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ শুরু হয়। তখন দুই সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্টের টাকা স্লিপ ফান্ডে (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট-প্ল্যান) থেকে খরচ করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৬তম সপ্তাহর অ্যাসাইনমেন্ট নিচ্ছে স্কুলগুলো। কিন্তু এরপর থেকে নাইক্ষ্যংছড়িতে এই অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া-নেওয়া নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১নং উত্তর ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০০জন। চলতি বছর সরকারি নির্দেশনা মতে, জুলাই ও আগস্ট মাসে ১ম ও ২য় দফায় অ্যাসাইনমেন্ট সরবরাহ শুরু হলে নাইক্ষ্যংছড়ির অধিকাংশ স্কুল থেকে সরাসরি অ্যাসাইনমেন্ট সরবরাহ করা হয়নি। তবে, শিক্ষকদের দেখিয়ে দেওয়া বাজারের লাইব্রেরি ও ফটোকপি দোকান থেকে বিভিন্ন দামে অ্যাসাইনমেন্ট কিনতে হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। এই নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা গেছে। তবে গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত অভিভাবকসহ অন্যান্য শিক্ষক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

এদিকে প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা নিজের এই সততার কাজকে গোপন রাখতেই চেয়েছেন। জানতে চাইলে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, স্কুল ফান্ডে তেমন কোন অর্থ জমা থাকেনা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে গরীব হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েদের অ্যাসাইনমেন্ট সরবরাহ করা একটু কষ্টই ছিল।

এরপরও বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ডে (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট-প্ল্যান) থেকে কিছু অর্থসহ তিনি নিজের প্রায় ৩৭ হাজার টাকা খরচ করে শিক্ষার্থীদের কাছে অ্যাসাইনমেন্ট পৌছে দিয়েছিলেন। অন্তত ৯০ ভাগের বেশি শিক্ষার্থী স্কুলে এই অ্যাসাইনমেন্ট লিখে জমাও দিয়েছেন। তাঁরমতো গ্রামের অনেক শিক্ষকের পকেট থেকে অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ কমবেশি ব্যয় করলেও কিছু বড় স্কুল কর্তৃপক্ষের মানবিকতার বালাই ছিলনা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × five =

আরও পড়ুন