নির্বাচন বানচালের কায়দা-কৌশল জনগণ প্রতিহত করবে : সালাহউদ্দিন আহমদ


বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ হবে অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন বিঘ্নিত বা বানচাল করতে কিছু দল পরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করছে। কিন্তু সমগ্র জাতি এখন নির্বাচনি মাঠে আছে। কেউ যদি মনে করে যে নির্বাচন বানচাল করার জন্য কোনো কায়দা-কৌশল করবে সেটা বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান ও প্রতিহত করবে।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে যেভাবে রচিত, প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে আমরা তার সঙ্গে একমত ছিলাম এবং আছি। এখন সেটা বাস্তবায়নের জন্য যে সুপারিশগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে সেটা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন আছে। যেভাবে জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে, রচিত হয়েছে ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সুপারিশে দেখা গেছে, তারা সেখান থেকে দূরে সরে গিয়েছে। সুপারিশে দেখা যাচ্ছে, ৪৮ দফার একটা তফসিল তারা প্রণয়ন করেছে। সেই ৪৮ দফা তফসিল বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের প্রস্তাব করেছে। কিন্তু এই ৪৮ দফা তফসিলের মধ্যে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত সে দফাগুলো আছে সেগুলোর বিপরীতে যেভাবে নোট অব ডিসেন্ট বিভিন্ন দল দিয়েছে সেখানে লেখা আছে যে নোট অব ডিসেন্ট নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করে দলগুলো যদি জনগণের ম্যান্ডেট প্রাপ্ত হয় তাহলে তারা সেভাবে বাস্তবায়ন করবে। সেই কথাগুলো তো এখানে নেই, শুধু প্রস্তাবগুলো আছে। তারা মাঝখানে হঠাৎ করে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে এবং সেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা পার্লামেন্ট মেম্বারের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে। এ জাতীয় কোনো আলাপে তো আমাদের ঐকমত্য হয়নি। আরও বলা হয়েছে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদে ২৭০ দিনের মধ্যে সনদ বাস্তবায়ন না হলে অটোমেটিক এটা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে। এ রকমের কোনো ধারণা নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়নি এবং এই ধারণা সাংবিধানিক বা সংসদীয় গণতন্ত্র বা সার্বভৌম এখতিয়ারের বিরুদ্ধে। এখন এসব আইডিয়া যুক্ত করে তারা সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছে। বলা হয়েছে, আদেশ জারি করবে। কে আদেশ জারি করবে, আইনি ভিত্তি কী হবে? তার আইনি মর্যাদা কী হবে, এগুলো সম্পর্কে কোনো কিছুই এখানে বলা হয়নি। বলছে রাষ্ট্রপতি করবেন অথবা সরকার করবে, সে বিষয়ে সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা বলেছি যে বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি করার কোনো ক্ষমতা নেই। এটি বিলুপ্ত হয়েছে। তবে সংবিধানে আছে যে পার্লামেন্ট সেশনে না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। এখন জুলাই জাতীয় সনদ কী অধ্যাদেশ আকারে প্রকাশিত হবে, নাকি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হবে- নাকি গেজেট নোটিফিকেশন হবে- সেটা সিদ্ধান্ত হতে পারে। এখন সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের একটা আইন হতে হবে। কারণ বিদ্যমান আইন যেটা আছে সেটা ১৯৯১ সালের ম্যান্ডেটরি গণভোটের জন্য হয়েছিল। আর বর্তমানের গণভোটটা হচ্ছে একটা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে, জাতীয় সমঝোতার ভিত্তিতে একটা গণভোটের প্রস্তাব করা হচ্ছে যেটা সংবিধানে উল্লেখিত নেই। তবে সংবিধানে এরকমও কিছু নেই যে সেটা করা যাবে না। সেজন্য একটা গণভোট আইন করতে পারে। সেই আইন অনুসারে নির্বাচন কমিশন গণভোট আয়োজন করবে। কিন্তু তাদের সুবিধার জন্য বিশাল আর্থিক ব্যয়, সময় ও আয়োজনের দিক থেকে সবকিছু বিবেচনায় যৌক্তিক হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের দিনে একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত করা। সে প্রস্তাব আমরা রেখেছিলাম এবং সবাই একমত হয়েছিল। কিন্তু এখন দুই-একটা রাজনৈতিক দল বলছে, গণভোট আগে করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করাটা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। কারণ এতে ব্যয়বহুল আয়োজনের বিষয় আছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে অল্প সময়ের ভিতরে এ ধরনের আরেকটি নির্বাচন করা কতটুকু যৌক্তিক, সেটা জাতি জানে। সেই বিবেচনায় আমরা বলেছি যে গণভোটটা জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে করার জন্য। জনমতের জন্য আমরা গণভোট প্রস্তাব করেছি যাতে এর মাধ্যমে একটা নৈতিক বাধ্যবাধকতার সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে একটা আইনি ভিত্তি রচিত হবে। আমরা সেজন্যই বলেছি যে একটা জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে আমরা সেই জায়গায় আসতে পারি। এখন নতুন নতুন ইস্যু নিয়ে আসছে, গণভোট আগে হতে হবে, নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই আদেশ হবে। এগুলো নিয়ে যে রাস্তার মধ্যে আন্দোলন করছে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। সেটা তারা কেন করছে তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে আমরা মনে করি এসব ইস্যু তৈরি করে নতুন নতুন দাবি তুলে তারা হয়তো নির্বাচনটা বিলম্বিত করতে চাচ্ছে। এসবের পক্ষে জাতি নেই। সমগ্র জাতি এখন নির্বাচনি মাঠে আছে। কেউ যদি মনে করে যে নির্বাচন বানচাল করার জন্য কোনো কায়দা-কৌশল করবে সেটা জনগণ প্রত্যাখ্যান ও প্রতিহত করবে।
উৎস : বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

















