পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:
দিঘীনালায় বিজিবির ৫১ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থানান্তর ও ‘উচ্ছেদকৃত’ ২১ পরিবারকে তাদের নিজ জমিতে পুনর্বাসনের দাবিতে আয়োজিত ‘শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় বাধা প্রদান, শারীরিক নির্যাতন ও গুলি চালানোর’ ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে এর প্রতিবাদে আগামীকাল ১৬ মার্চ সোমবার দীঘিনালায় সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক পরিতোষ চাকমা। ১৫ মার্চ ২০১৫ রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি এই কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
পৃথক বিবৃতিতে পরিতোষ চাকমা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা আজ বিকেল ৪:৪৫টায় দীঘিনালার বড়াদাম বাজার থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। এদের একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি হলেন, বোয়ালখালি আশ্রমের শিক্ষক অরুণ শান্তি চাকমা। অপরজনের নাম জানা যায়নি। তবে তিনি গাছ ব্যবসায়ী নাগর চাকমার নিযুক্ত একজন দিন মজুর। এছাড়া টহলরত সেনা সদস্যরা বড়াদাম বাজারে অপর এক ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করে ৮ – ১০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। তবে তা লক্ষ্য ভ্রষ্ট হলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। পরিতোষ চাকমা আজ বিজিবির ৫১ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরের উদ্দেশ্যে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৮ পাহাড়ি আহত হয়েছেন বলেও জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টায় দীঘিনালা উপজেলা মাঠ থেকে পদযাত্রা শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মাইনী ব্রিজে বাধা দেয়। পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদেরকে বাবুছড়ার কাছে নির্মিতব্য বিজিবি ৫১ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের দিকে যেতে দেয়া না হলে তারা সেখানে সমাবেশ করেন। এছাড়া নু-অ পাড়া, বানছড়া, রাঙাপানিছড়া (কার্বারী টিলা) আদর্শ স্কুল ও বাবুছড়ায়ও পদযাত্রায় যোগদানকারীদের আটকানো হয়। পদযাত্রার একটি অংশ রাঙাপানি ছড়ায় পৌঁছলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি বর্ষণ করে। অবশ্য এতে কেউ হতাহত হয়নি। সেনাবাহিনীর সদস্যরা পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী দুই ব্যক্তির উপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায়। এদের মধ্যে একজন হলেন শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সুবিকাশ চাকমা। তাকে মাইনী ব্রিজে বুটের লাথি মেরে আহত করা হয়। আহত অন্যজনের নাম ত্রিদিব চাকমা, তাকে নারিকুল বাগানে মারধর করা হয়। এতে তার নাক ফেটে যায়। এই দু’জন ছাড়াও সেনা-পুলিশের হামলায় আরো কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছে। পদযাত্রায় যোগদানে বাধা দেয়ার জন্য প্রশাসন ও সেনাবাহিনী আজ সকাল থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে সাজেক, মেরুংসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার লোকজন এতে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদেরকে যে সব স্থানে বাধা দেয়া হয় সেখানে তাৎক্ষণিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আদর্শ স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান পরিতোষ চাকমা।
তিনি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় বাধা প্রদানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর সমালোচনা করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের উপর বর্বর শারীরিক নির্যাতন ও গুলি চালানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি এভাবে দমনপীড়ন চালিয়ে দীঘিনালাবাসীর ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না মন্তব্য করেন এবং আগামীকাল অর্থাৎ ১৬ মার্চ সোমবার দীঘিনালায় সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিজিবির ৫১ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরের জন্য ইমারত নির্মাণের কোন সামগ্রী নিয়ে যেতে দেয়া হবে না। পরিতোষ চাকমা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক অবিলম্বে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের নির্মাণ কাজ বন্ধ, উক্তর সদর দপ্তর অন্যত্র স্থানান্তর, বিজিবি কর্তৃক উচ্ছেদ হওয়া ২১ পরিবারকে তাদের নিজ জমিতে পুনর্বাসন এবং গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে দেয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। উক্ত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন’। নু-অ পাড়ায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ধর্মজ্যোতি চাকমা, দীঘিনালা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গোপাদেবী চাকমা ও বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সুগতপ্রিয় চাকমা।
মাইনী ব্রিজে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার পর সেখানে অনুষ্ঠিত তাৎক্ষণিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দীঘিনালা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুসময় চাকমা, কবাখালি ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্ব কল্যাণ চাকমা এবং ৪ নং দীঘিনালা ইউপি চেয়ারম্যান চন্দ্র রঞ্জন চাকমা।
