পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থই সবার আগে : তারেক রহমান


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থই আমার সবার আগে। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে আমরা আমাদের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করব।’
১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে নয়াদিল্লী থেকে আগত ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য পাইনিয়র’র রিপোর্টার শুকরাজ তারেক রহমানের কাছে জানতে চান বিএনপি সরকারের বৈদেশিক নীতি কী হবে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ-ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে দেখবেন? ভারতীয় সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান তার বৈদেশিক নীতিতে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ সবার আগে এবং দেশের মানুষের স্বার্থ সুরক্ষা করেই তাদের বৈদেশিক নীতি কিংবা কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্ধারিত হবে বলে জানান।
নিউইয়র্কের ঠিকানা পত্রিকায় কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চান যে, নির্বাচনে দু’শোর বেশি আসন পাওয়ার জন্য বিএনপিকে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হয়েছে কিনা। এমন প্রশ্নের হাস্যোজ্জ্বল জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জনগণকে কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা, সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি।’
নির্বাচনের জয় কতটা সহজ ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেকোনো ভালো কাজের গোল অ্যাচিভ করতে গেলে তো কষ্ট করতে হবে, কঠিন হবেই।’
সম্মেলনে ইউকে থেকে আগত সাংবাদিক আলিশা রহমান সরকার জানতে চান যে, ভারত-পাকিস্তান-চীনের সাথে বিএনপি সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে? জবাবে তারেক রহমান তারেক রহমান বলেন, ‘এমন প্রশ্নের জবাব ইতোমধ্যে আমি দিয়েছি।’ তারপরও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তারেক রহমানের অনুরোধে জবাব দেন যে, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমাদের পলিসি হবে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো হচ্ছে, অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা, অবশ্যই আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আপনি জানেন যে, গত রেজিম তারা দেশে সকল প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করেছে।’
সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের রায় পেয়েছি। অবশ্যই যুবকরা আছেন, তবে সমাজের আরো শ্রেণি-পেশার মানুষ আছেন। আমরা সকলের বিষয়ে অ্যাড্রেস করব। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের দলের ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেছি, সেখানে সকল বিষয়ে আমরা অ্যাড্রেস করেছি, যুবকদের জন্য কী করব, আমরা নারীদের জন্য কী করব, আমরা ডিজাইবেল পিপলসের জন্য কী করব সবকিছু সেখানে (ইশতেহারে) আছে।’
দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা ফোরাম (সার্ক) এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সার্ক গঠন হয়েছিল বাংলাদেশের উদ্যোগে। স্বাভাবিকভাবে আমরা সার্ক সক্রিয় করতে চাই। এই বিষয়ে আমরা আলাপ করব।’
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বলেন, এটি অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেমন হবে- এই প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব দেন তারেক রহমান। তিনি তাঁর দলের বৈদেশিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অবশ্যই আমার দেশ এবং দেশের মানুষের দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা সকল দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ব। যাতে নিশ্চয় পারস্পরিক স্বার্থও অগ্রাধিকার পায়। আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চাইনিজ বন্ধুরা আছেন। আমরা আশা করি, দুই দেশ সামনের দিনগুলো আরো নিবিড়ভাবে একসাথে কাজ করবে।’
পাকিস্তানের সাংবাদিক সৈয়দ এজাজ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের কাছে তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে জানতে চান। তারেক রহমান বলেন তিনি ও তাঁর দল এ ব্যাপারে ম্যান্ডেট নিয়েছেন। কেবল তরুণদের জন্যই নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবেন। তাঁর দল ইতোমধ্যে যে ইশতেহার ঘোষণা দিয়েছে সেখানে তারা সবার বিষয়গুলোকেই সমানভাবে দেখার চেষ্টা করবেন।
তারেক রহমান বলেন, আইন সবার জন্য সমান।’ আমরা ইনশাআল্লাহ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসার পরে চেষ্টা করব, আইন যাতে আইনের মতো করে চলে।
বিগত সরকারের সময়ে লুটপাট ও পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে আপনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের ইশতেহার দেখেন সেখানে আপনার এই প্রশ্নের জবাবগুলো আপনি সুন্দরভাবে পাবেন। আমি ইশতেহারে বলেছি যে, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি। অর্থাৎ আমরা এমন একটা অর্থনীতি সূচনা করতে চাই যেখানে সবাই সবার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সবাই ব্যবসা-বানিজ্য করতে পারবেন। কোনো একটা বিশেষ মহলকে আমরা সুযোগ দিতে চাই না।’
সংবাদ সম্মেলনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা, বিবিসি, এবিসিসহ চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মঞ্চে তারেক রহমানের পাশে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তারেক রহমান তার দলকে সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

















