`পরাজিত দুই মেম্বার প্রার্থীর অভিযোগ মিথ্যা-ভিত্তিহীন’

fec-image

‘আলীকদম উপজেলায় ৩য় ধাপে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ায় এলাকার কুচক্রি মহল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তারা করছে। প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে আ’লীগ নেতাদের মানহানি করছে।’

এমন অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার দুপুরে আলীকদম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক ইউপি মেম্বার ও আ’লীগ নেতা মো. শফিউল আলম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের আলীকদম উপজেলা শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শফিউল আলম। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি আমার নামে ফেসবুক, অনলাইন পোর্টাল এবং কয়েকটি পত্রিকায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ফেসবুকে আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে সমাজে হেয় করতে মিথ্যা কথা প্রচার করছে। যা সভ্যতা ও আইনবিরোধী।

তিনি আরও বলেন, ২নং চৈক্ষ্যং ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থীদের জিতিয়ে দেওয়ার নামে আমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তিনি দীর্ঘদিন নেতৃত্বে রয়েছেন দাবি করে শফিউল আলম মেম্বার বলেন, ‘আমি চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের একজন সফল মেম্বার ও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলাম। বর্তমানে আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক। তাছাড়া সমাজের উন্নয়নে ৬নং ওয়ার্ডে নিজের জমি দান করে ‘তারাবুনিয়া শফিউল আলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নির্মাণে সহযোগিতা করেছি। এছাড়াও ওই ওয়ার্ডে একটি মাদরাসা স্থাপনের চেষ্টায় রত আছি।

শফিউল আলম লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক একটি অনিয়ন্ত্রিত মিডিয়া। সেখানে খেয়ালখুশিমত যে কেউ অপরের নামে মানহানিকর তথ্য দিয়ে সামাজিক মর্যাদাহানির অপচেষ্টা করতে পারে। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার সামাজিক সুনামে ঈর্ষান্বিত। তাই বিগত নির্বাচনকে নিয়ে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত। সম্প্রতি যে সব গুজব ফেসবুকে ও সংবাদ মাধ্যমে কয়েক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও একপেশে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের এ নেতা আরো বলেন, ‘গত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ফেরদৌস রহমানের পক্ষে ৬নং ওয়ার্ডে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমার প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কারণে গত নির্বাচনের চেয়ে এবার নৌকার প্রার্থী প্রায় ৩ গুণ ভোট বেশি পান। এ কারণে কুচক্রী মহল ঈর্ষায় মরিয়া হয়ে আছে।’ স্থানীয় একটি সীরাত মাহফিলকে নিয়ে মহল বিশেষ অপপ্রচারে লিপ্ত ছিল দাবি করে শফিউল আলম বলেন, ‘মিথ্যা সবসময় পরাজিত হয়। আমার বিরুদ্ধে আনা সেই সময়ের অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারেনি।’ তার দাবি, ‘দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে আওয়ামী পরিবারের সদস্য থাকার সুবাদে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে তার সুনাম ও দক্ষতা সর্বজনবিদিত।’

সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আবু নাঈম ও মো. সেলিম নামে পরাজিত দুইজন মেম্বার প্রার্থী নির্বাচনে জিতিয়ে দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করেছেন তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই।’

মুলতঃ তাদের সাথে পরিবারিকভাবে ও জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় তারা মিথ্যা রটিয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতার বিরুদ্ধেও এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ করেন। যাঁর বিরুদ্ধে বিগত নির্বাচনের আগে জেলা আওয়ামী লীগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন যে, ‘সম্প্রতি ফেসবুকে প্রচার হওয়া একটি অডিও ক্লিপে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মংব্রাচিং মার্মাকে নিয়ে তিনি যে কটুক্তি করেন, সেটা ঠিক হয়নি। সে জন্য তিনি (শফিউল আলম) দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।’

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − fourteen =

আরও পড়ুন