parbattanews

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বন্দিশিবির নির্মাণ হচ্ছে

মোনাজাতরত কোলকাতার মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন। ছবি : বিবিসি বাংলা অনলাইন

পশ্চিমবঙ্গের নিউটাউন, বনগাঁ এবং মেদিনীপুর এলাকাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ‘ডিটেনশন সেন্টার’ বা বন্দিশিবির নির্মাণ করা হচ্ছে। ভারতের গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিক এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষণা অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী হলে বিজেপি তার ‘অঙ্গীকার’ মোতাবেক পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করবে। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশ নিজেই কক্সবাজার জেলায় ১৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে এক ভয়াবহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।

এ বিষয়ে অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনী রাজনীতির স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য এমন বক্তব্য দেয়া উচিত নয়, যা সীমান্তে উত্তেজনা, মানবিক সঙ্কট বা প্রতিবেশী দেশের সাথে অবিশ্বাস সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিশাল চাপ বহন করছে। নতুন কোনো সীমান্ত বা উদ্বাস্তু সঙ্কট শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যই অশনি সঙ্কেত হয়ে উঠতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ৪ মে থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া সহিংসতা এখন সাম্প্রদায়িক রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিমপ্রধান জেলাগুলোতে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের ওপর হামলার আড়ালে সাধারণ মুসলিম পরিবারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ উঠেছে।

গত ৫ দিনে বিভিন্ন জেলায় সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩ জন সংখ্যালঘু মুসলিম। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা এবং বীরভূমের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী মুর্শিদাবাদ ও মালদহ এই দুই জেলায় অন্তত ১২টি গ্রামে মুসলিমদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে একদল দুষ্কৃতকারী লাঠিসোটা ও দেশী অস্ত্র নিয়ে ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। এ ছাড়াও নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমায় অনেক পরিবারকে গ্রামছাড়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে অনেক বৈধ নাগরিককেও এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আসানসোল এবং শিলিগুড়িতে সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ছোট দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৪০০ মানুষ বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

রাজ্য পুলিশ প্রধানের দেয়া তথ্যানুযায়ী সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ২০০টির বেশি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচনী ডিউটিতে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ৭০০ কোম্পানিকে আগামী ৬০ দিন পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অনুপ্রবেশকারী আতঙ্ক ও মানসিক চাপ : অমিত শাহের নির্বাচনী প্রচারণার মূল ইস্যু ছিল ‘অনুপ্রবেশকারী বিদায়’। নির্বাচনের পর এই স্লোগানটি এখন তৃণমূল স্তরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। অনেক এলাকায় মুসলিম পরিবারগুলো বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তার মাঝে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষ করে সিএএ কার্যকর করার প্রচ্ছন্ন হুমকির ফলে সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে পুরুষরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া :
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই এই তাণ্ডব চলছে।’ এই পরাজয়কে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপির গুণ্ডাবাহিনী কেন্দ্রীয় বাহিনীর ছত্রছায়ায় ত্রাস সৃষ্টি করছে।

শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান :
নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সব ধরনের সহিংসতার দায় অস্বীকার করে একে ‘তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কাউকে ছাড়া হবে না।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ :
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অস্থিরতা নিয়ে ঢাকা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যাতে অনুপ্রবেশ বা পুশব্যাকের কোনো ঘটনা না ঘটে।

গতকাল কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীনও বিভিন্ন জেলায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলেও অনেক এলাকায় মুসলিম পরিবারগুলো এখনো ত্রাণ শিবিরে বা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আছে।

পরিসংখ্যান, এনআরসি আতঙ্ক ও বাস্তবতা :
বিজেপি শাসিত রাজ্য আসামের উদাহরণ এখন বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। আসামে ১৯ লাখ মানুষকে নাগরিক তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। তাদের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। এখন ভারতজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে ‘ডিটেনশন সেন্টার’ বা বন্দিশিবির নির্মাণ করা হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে ভারত সরকার নাগরিকত্বহীনদের দীর্ঘমেয়াদে আটকে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ডিটেনশন ক্যাম্পের প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক :
ভারতে ডিটেনশন ক্যাম্প মূলত দু’টি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। তার মধ্যে এনআরসি আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়া এবং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ‘বিদেশী’ ঘোষিতদের রাখার জন্য। দ্বিতীয়ত, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সীমান্ত পার হওয়া বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বিদেশীদের আটক রাখতে।

মানবাধিকার উদ্বেগ :
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই ক্যাম্পগুলোর ‘অমানবিক অবস্থা’ নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনপরবর্তী উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই ক্যাম্পগুলোর গুরুত্ব এবং আতঙ্ক উভয়ই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পুশইন আতঙ্ক :
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে ভারত সীমান্ত দিয়ে ছোট ছোট দলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘পুশইন’করার চেষ্টার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে। যদিও ভারত সরকার একে ‘অফিসিয়াল পলিসি’ হিসেবে স্বীকার করেনি।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের সাথে তুলনা ও নতুন আশঙ্কা :
বাংলাদেশ এরইমধ্যে বিশ্বের অন্যতম বড় শরণার্থী সঙ্কটের দেশ। মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নির্যাতনে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ হিমশিম খাচ্ছে। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে যদি ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে বাংলাভাষী মুসলমানদের ঠেলে দেয়া হয়, তবে তা বাংলাদেশের জন্য একটি ‘দ্বিতীয় রোহিঙ্গা সঙ্কট’ বা ‘বেঙ্গল ক্রাইসিস’ হিসেবে আবির্ভূত হবে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ :
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর ‘৭০ বনাম ৩০’ (হিন্দু বনাম মুসলিম ভোটার অনুপাত) তত্ত্ব মেরুকরণকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এর প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও পড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেখানে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করছে, সেখানে নতুন করে শরণার্থী চাপ নেয়া অসম্ভব। অস্থিতিশীল সীমান্ত এলাকা মৌলবাদ ও চোরাচালানের উর্বর ভূমিতে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, ‘ভারত সবসময় বলে আসছে সিএএ বা এনআরসি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু যখনই এর প্রভাব সীমান্ত ও জনসংখ্যার ওপর পড়ে, তখন তা আর অভ্যন্তরীণ থাকে না।

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) রোকন উদ্দিন বলেন, ভারতের রাজনীতিতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দটি বহুদিন ধরেই একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দেয়া হয়। বিজেপির বক্তব্যে সাধারণত বাংলাদেশি মুসলিম অভিবাসীদের টার্গেট করা হয়, যদিও বাস্তবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘ দিন ধরে বৈধ-অবৈধ নানা ধরনের জনসংযোগ, শ্রমবাজার, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত অতিক্রমের ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় এই বিষয়টিকে নিরাপত্তা ও পরিচয়ের সঙ্কটে রূপ দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, অমিত শাহর সাম্প্রতিক বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই যে, এটি কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক পদক্ষেপের একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসে এবং ‘অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত ও বহিষ্কার’ নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, তাহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে- যাদের বাংলাদেশী বলা হবে, তাদের কোথায় পাঠানো হবে? বাংলাদেশ কি তাদের গ্রহণ করবে? আর ভারত কিভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করবে?

এখন আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে- ভারতের রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ যদি নতুন করে সীমান্ত সঙ্কট তৈরি করে, তাহলে বাংলাদেশ আরেক ধরনের ‘ধাক্কা’র মুখোমুখি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে যদি কোনো জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশী আখ্যা দিয়ে সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা হয়, তাহলে তা শুধু মানবিক নয়, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বড় সঙ্কটে পরিণত হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখা। বাংলাদেশ বহুবার বলেছে যে, বৈধ প্রমাণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশী হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। কারণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগত মিল থাকলেও নাগরিকত্ব নির্ধারণ একটি আইনি বিষয়। শুধু ধর্মীয় পরিচয় বা ভাষাগত মিলের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশী’ বলা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও গ্রহণযোগ্য নয়।

একই সাথে সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এসেছে। সীমান্তে নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্যবিনিময় এবং আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা এখন অত্যন্ত জরুরি। কারণ এ ধরনের ইস্যু শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

বিশ্লেষকরা আরো মনে করেন, ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী বক্তব্য প্রায়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গত কয়েক দশকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সংযোগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লাভের জন্য ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে অতিরঞ্জিত করলে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব:) আশরাফুজ্জামান খান বলেন, অমিত শাহের ‘অনুপ্রবেশকারী’ বিদায়ের অঙ্গীকার এবং শুভেন্দু অধিকারীর ‘আসল পরিবর্তন’-এর সেøাগান মূলত একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর মনে ভীতি সঞ্চার করছে। বাংলাদেশের জন্য এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং একটি অশনিসঙ্কেত। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আশানুরূপ সমর্থন না পাওয়া বাংলাদেশ এখন ভারতের এই রাজনৈতিক পালাবদলের দিকে গভীর উদ্বেগের সাথে নজর রাখছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিজিবিকে নজরদারিসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন জিনিসপত্র ব্যবহার করার পাশাপাশি আরো গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। ভারত সরকার বা বিজেপি চাইলেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করতে পারবে না ভারত। কারণ তারাও একটা গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক। এমন কিছু করার আগে আন্তর্জাতিক আইন মেনে করতে হবে।

উৎস : এস এম মিন্টু, নয়াদিগন্ত অনলাইন।

Exit mobile version