পাক নির্বাচনে নওয়াজ শরীফের জয়লাভ

পার্বত্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: পাকিস্তানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করলেন দুই বারের প্রধানমন্ত্রী মুসলিম লীগ নেতা নওয়াজ শরীফ। যদিও বাংলাদেশ সময় ভোর সোয়া চারটায় ভোট গণণা শেষ হয়নি। কিন্তু এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, নওয়াজ শরীফই হতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এরই প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বিজয় দাবি করেছেন গত সংসদের প্রধান বিরোধীদল নওয়াজ শরীফের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ। দলের প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তার ছোট ভাই শাহবাজ শরীফ লাহোরের মডেল টাউন বাসভবন থেকে এ ঘোষণা দেন। নওয়াজ শরীফ তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আল্লাহকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে, তিনি আরো একবার মুসলিম লীগ(এন)কে পাকিস্তানকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। নওয়াজের ভাই শাহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, মুসলিম লীগ সরকার গঠন করবে এবং বড় ভাই নওয়াজ শরীফই হবেন প্রধানমন্ত্রী। নওয়াজ শরীফ দেশের সমস্যা সমাধানে সব দলকে একসঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। নওয়াজ ন্যাশনাল এসেম্বলীর দুটি আসন লাহোর ও সারাগোধা থেকে জয়লাভ করেছেন।

এদিকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ঐতিহাসিক নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগের কাছে পরাজয় মেনে নিয়েছে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন তেহরিক-ই ইনসাফ বা পিটিআই। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা আসাদ উমর এ কথা জানিয়েছেন। পিটিআই জয়লাভ করতে না পারলেও প্রধান বিরোধী দল হবার গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইমরান ন্যাশনাল এসেম্বলীর একটি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে বেনজির ভুট্টোর পিপিপি এই নির্বাচনে ভরাডুবি হয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনে এখন পর্যন্ত নওয়াজের মুসলিম লীগ এগিয়ে রয়েছে। তবে সুস্পষ্টভাবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার কোনো আলামত এখনো দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে ইংরেজি দৈনিক ডন। পত্রিকাটি বলেছে- এখন পর্যন্ত মুসলিম লীগ পেয়েছে ১৩টি আসন, ইমরানের দল পেয়েছে ১১টি আসন। পিপিপি মাত্র একটি আসন পেয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে গেলে দরকার হবে ১৭২টি আসন। 

এদিকে, পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সম্ভাব্য তালিকায় দেখিয়েছে- নওয়াজের মুসলিম লীগ পাচ্ছে ১০৩টি আসন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন তেহরিক-ই ইনসাফ। এ দল পাবে ৩২টি আসন। আর সরকার থেকে সদ্য বিদায় নেয়া পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপি পাবে ২৫টি আসন। ২০০৮ সালে এ দল নির্বাচন বয়কট করেছিল আর তার আগের সংসদে মাত্র একটি আসন পেয়েছিল।

এ পর্যন্ত ঘোষিত প্রাথমিক ফলাফলে নওয়াজ শরীফ, ইমরান খান , প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বোন ফারিয়াল তালপুর এবং পাকিস্তানের গত সংসদের স্পিকার ড. ফাহমিদা মির্জা বিজয়ী হয়েছেন। ‌ইমরান খান চারটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে তিনি প্রাথমিক ফলাফলে পেশোয়ার থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।  ইমরান খান ঘোষণা করেছেন, তিনি বা তার দল নওয়াজের মুসলিম লীগ কিংবা পিপিপি’র সঙ্গে কোনো ধরনের জোট গঠন করবে না।

নওয়াজ শরীফ ১৯৯০-৯৩ ও ১৯৯৭-৯৯ মেয়াদে দুই বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু দুইবারই তিনি মেয়াদ পুর্ণ করতে ব্যর্থ হন। প্রথমবারে প্রেসিডেন্ট গোলাম ইসহাক খান দুর্নীতির অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করেন, দ্বিতীয়বারে তাকে উৎখাত করে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ সামরিক শাসনের সূচনা করেন।

 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন