পানছড়িতে সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগে চোর-পুলিশ খেলা

fec-image

খাগড়াছড়ির পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র (আলিম) মাদ্রাসার প্যাডে দাখিলের সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগ নিয়ে চলছে চোর-পুলিশ খেলা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা।

জানা যায়, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট জামাল উদ্দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহা-পরিচালক প্রতিনিধি নিয়োগ করেন হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মুঈনীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল ফারাহ মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন’কে। ডিজি প্রতিনিধি ফরিদুদ্দিনের সাথে কথা বলতে গেলেই শুরু হয় চোর-পুলিশ খেলা।

তিনি জানান, খাগড়াছড়ির একটি মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অরুপ চাকমা। কিন্তু পানছড়ি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অরুপ চাকমা জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় সরেজমিনে তিনি উপস্থিত ছিলেন না তবে সম্মতি ছিল। কি কি করতে হবে তা তিনি মোবাইলে সব বলে দিয়েছেন বলেও জানান।

এদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় সুপার পদে আবেদন করেছিলেন দীঘিনালা উপজেলার রশিকনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মো: আনিছুর রহমান। তিনি জানান, আবুল কাশেম নিয়োগ পাবে তা আগেই জানতাম। আবুল কাশেমের পরামর্শেই নামে মাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। আনিছুর রহমান আরো জানান, হাটহাজারী ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মুঈনীয়া কামিল মাদ্রাসায় গিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। সুপারিনটেনডেন্ট পদে আবেদনকারী ও পানছড়ি আলিম মাদ্রাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মো: আবুল কাশেমের ভাড়া করা মাইক্রোতে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিলে এক মাইক্রোতে চড়ে সেখানে গিয়েছেন। আনিছুর রহমানের আবেদন সাথে সংযুক্ত ব্যাংক ড্রাফটাও মো: আবুল কাশেমের দেয়া বলে তিনি জানান। পানছড়ির মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অরুপ চাকমা নিয়োগ পরীক্ষ্য়া উপস্থিত ছিলেন না বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। এই প্রতিবেদকের নিকট তিন জনের সাথে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংগৃহীত রয়েছে।

জানা যায়, মাদ্রাসার সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক মো: জামাল উদ্দিন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহা-পরিচালক বরাবরে পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র (আলিম) মাদ্রাসায় সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগের জন্য মনোনীত প্রতিনিধির জন্য আবেদন করেন। উক্ত আবেদনে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার নাম উল্লেখ করা হয়নি। দেশের অখ্যাত পত্রিকায় নিজেদের মনমতো বিজ্ঞাপন প্রদানের কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

৫’ডিসেম্বর ২০২২ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে.এম. রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত স্মারকে দেখা যায়, নিয়োগ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে। কোন অবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ছাড়া অন্যত্র নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবেনা। কিন্তু ডিজি প্রতিনিধি ও পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র (আলিম) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মো: জামাল উদ্দিনের যোগসাজসে নিজেদের পছন্দের লোকটিকে সুপারনিটেনডেন্ট পদে অবৈধ উপায়ে চেয়ারে বসাতে নিয়োগ পরীক্ষার কার্যক্রম গোপনে অন্যত্র শেষ করেছেন। কোন কেন্দ্রে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটা নিয়েও পরীক্ষার্থী ও ডিজি প্রতিনিধির বক্তব্যর মাঝেও দেখা যাচ্ছে চোর-পুলিশ খেলা।

২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সাবেক অধ্যক্ষ জাকির হোসাইনের মৃত্যুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির বেহাল দশা। নিজ কেন্দ্রে বসে পরীক্ষায় অংশ নিলেও ফলাফলে অবস্থান উপজেলার সর্বনিম্নে। রাতের অন্ধকারে ঘনিষ্ঠজন দিয়ে গঠন হয়ে যায় পরিচালনা কমিটি। তাই দীর্ঘ দশ বছরের অধিক সময় ধরে নেই জবাবদিহিতা, নেই কোন হিসাব-নিকাশ, নেই কোন অডিট। অফিস সহকারীকে দিয়ে করানো হয় ছয়টি ক্লাশ। সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলে গনিতের।

মাদ্রাসার ল্যাপটপ চুরি হলেও অদৃশ্য কারণে থানায় জিডি না করা, প্রণোদনার টাকা বিতরনে ব্যাপক অনিয়ম, পুরুষ পাবলিক টয়লেটের সাথে ছাত্রীদের নামাজের স্থান নির্মাণ এসব নিয়েও চলছে নানান গুঞ্জন।

এবারের দাখিল পরীক্ষা চলাকালীন অসুদপায় অবলম্বনের দায়ে তৎকালীন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মো: আবুল কাশেম ও শিক্ষক মো: জামাল উদ্দিন সহকারী ভূমি কমিশনারের কার্যালয়ে মুচলেকা দিয়ে কোন রকম জান বাঁচায়।

হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মুঈনীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল ফারাহ মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন, পানছড়ি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অরুপ চাকমা ও দীঘিনালা উপজেলার রশিকনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মো: আনিছুর রহমানের কথোপকোথনগুলো যেন চোর-পুলিশ খেলা। অবৈধ পন্থায় নিয়োগ পাওয়া সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মো: আবুল কাশেম এরি মাঝে উঠে-পড়ে লেগেছে এম.পিও আনার জন্য। তাই এমপিও বন্ধ পূর্বক পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্টের অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে মরহুম মাওলানা মোহাম্মদ জাকির হোসাইনের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন