পানছড়ির বিভিন্ন ছড়ায় বিষ দিয়ে মাছ নিধন মৌসুম শুরু : হুমকির মুখে মৎস্যকুল

fish - p

পানছড়ি প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়ায় বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে বিষ দিয়ে মাছ নিধন। এই বিষক্রিয়ার প্রভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে ছড়ার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ছড়ার মৎস্যকুলের বংশ ধংসের পাশাপাশি পরিবেশেরও হচ্ছে মারাত্মক ক্ষতি। সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অজ্ঞতার অভাবে স্থানীয় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষরা না বুঝে মৎস্যকুলকে ধংস করছে বলে জানায় সচেতন মহল।

পানছড়ি উপজেলা মৎস্য সম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রিয় কান্তি চাকমা বলেন, পাহাড়ি ছড়ায় বিষ দিয়ে মাছ নিধন মানে ঐ ছড়ায় থাকা সমস্ত মংস্যকুলকে ধংস করা। মৎস্য কুলের বংশ বিস্তার ধংসের পাশাপাশি পানিও বিষে পরিণত হচ্ছে। ছড়ার পানিগুলো নদীতে পড়ার সাথে সাথে নদীর পানিও বিষে পরিণত হচ্ছে। সেই বিষের পানি ব্যবহারের ফলে পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ছড়ায় বিষ দিয়ে মাছ নিধন না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় জনসাধারণ ও মৎস্য চাষীদের সেমিনারের মাধ্যমে সচেতন করা দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (বিষ) দিয়ে মাছ মারা একজনের সাথে আলাপকালে জানা যায়, কড়ই গাছের বাকলের রস, মরিচের গুড়োসহ বেশ কয়েক প্রকার লতাপাতা দিয়ে মেল (বিষ, পাহাড়ি লতাপাতা, বাকল দিয়ে বানানো ঔষধ) তৈরী করার পর এসব ঔযধ ছোট ছোট পাহাড়ি ছড়ার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেশীয়, চিংড়ি, শামুক, কাকড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে ওঠে। সেগুলো সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। ছড়ার চিংড়ি, কাকড়া, শামুক খেতে বেশী স্বাদ বলে দামও বেশ চড়া। বিশেষ করে শীত মৌসুমে পাহাড়ি ছড়ার পানি কমে যায়। এ সুযোগে অনেকেই ছড়ায় বিষ প্রয়োগে মাছ মেরে বাজারে বিক্রি করছে। সে কারণে পাহাড়ি ছড়ায় এখন আর আগের মত বোয়াল, চিতল, শিং, মাগুর, চিংড়ি, টাকি ও কৈ মাছসহ বিভিন্ন জাতের মাছ পাওয়া যায় না।

এ প্রসঙ্গে পানছড়ি থানা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: বিদুর্সী চাকমা পার্বত্য নিউজকে জানান, এ ধরনের বিষ মিশোনো মাছ খেলে বহু ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রথমত এটা খেলে হজম হয় না। তাছাড়া কিডনি ও লিভারকে দুর্বল করা ছাড়াও ক্যান্সারের মত বড় ধরনের রোগ হওয়ার আশংকা থাকে। তাই জেনে শুনে বিষ পান করা হচ্ছে। এব্যাপারে বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনারে উপদেশ মূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − 7 =

আরও পড়ুন