পানছড়ির হামিদা বললেন ‘আমরার কোন দিবস টিবস নাই’

fec-image

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার এক মমতাময়ী মায়ের নাম হামিদা। পরিবার প্রধানের নাম আবদুল আলী। হামিদার সন্তান দুটি খর্বকায় প্রতিবন্ধী। মায়ের কোলে চড়েই তাদের চলাফেরা।

বড় মেয়ে শাহানার বয়স বাইশ আর ছেলে আবদুল হামিদের বয়স ষোল। সে পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ে। মাদ্রাসার পিছনে বাঁশ ঝাড়ের পাশে একটি জরাজীর্ণ ঘরে তাদের বসবাস। শীতকালে রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রি করে সারা বছর চলে তাদের সংসার। শত কষ্টের মাঝেও সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারলেই হামিদার মুখে হাসি। দু’সন্তানকে কাপড় পরানো, খাওয়ানো, আবদুল হামিদকে কোলে চড়িয়ে স্কুলে দিয়ে ও নিয়ে আসা সব দায়িত্ব মমতাময়ী মা হামিদার।

মা দিবস সম্পর্কে জানতে চাইলে হামিদার সরাসরি উত্তর ‘আমরার কোন দিবস টিবস নাই’। জন্মের পর থেইক্যা পোলা-পাইনগরে আদর যত্ন করি। বাইশ বছর ধইরা তাগোরে বুকে জড়াইয়া রাখছি দিবস-টিবস ইতা বুঝিনা।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার সরকারী ঘর না পেয়ে হামিদা দু:খ প্রকাশ করলেন। নিজের কোন জায়গা না থাকলেও প্রতিবেশী আবদুল কাদেরের দান করা চার শতক জায়গায় বানানো জরাজীর্ণ ঘরেই বর্তমানে বসবাস। সরকারী একখানা দালান ঘর পাইলে প্রতিবন্ধী সন্তান দুটি মনের আনন্দে খেলাধুলা করে সময় পার করত। একখান দালান ঘরের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছে মা হামিদা। শাহানা ও আবদুল হামিদ জানতে চাইলো আমাদের ঘর দিবেতো?

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পানছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 1 =

আরও পড়ুন