পার্বত্যঞ্চল আর পার্বত্যঞ্চল নেই, সম্প্রতি মৈত্রিময় অঞ্চলে পরিণত হয়েছে: পার্বত্যমন্ত্রী

fec-image

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন,‘ পার্বত্যঞ্চল আর পার্বত্যঞ্চল নেই, এটা সম্প্রতি, মৈত্রিময় অঞ্চলে পরিণত হয়েছে’।

শুক্রবার (১৫জানুয়ারি) বিকেলে রাঙামাটি চিংহ্লামং মারী স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু এ্যাডেভঞ্চার উৎসব ২০২১ এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পার্বত্য মন্ত্রী আরও বলেন, খেলাধূলায় অংশ নিতে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মা-বাবার সাথে এখানে চলে এসেছে। এটাই সম্প্রতির পার্বত্যঞ্চল। শেখ হাসিনার কারণে পার্বত্যঞ্চল মৈত্রির অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। যারা আজ খেলায় অংশ নিয়েছে তারা পার্বত্যঞ্চলের দূতের ভূমিকা রাখবে। পার্বত্যঞ্চলের সম্প্রতির বন্ধন চারিদিকে ছড়িয়ে দিবে।

মন্ত্রী জানান, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাহাড়ে শান্তির বারতা পৌছেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ও পিছিয়ে নেই। পাহাড়ের বাসিন্দাদের আত্মসামাজিক উন্নয়ন ঘটছে।

তিনি আরও জানান, দেশের উন্নয়নে তরুণরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণদের মাঝে সাহস ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে এ অ্যাডভেঞ্চারের মূল উদ্দেশ্য। বঙ্গবন্ধুর ডাকে যেভাবে তরুণরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো তেমনি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্ধৃতি টেনে মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড তার কার্যক্রমের মাধ্যমে সফল হয়েছে। বোর্ডের মাধ্যমে সরকার মাধ্যমে ৪০ হাজার সোলার বিতরণ করবে। এর মধ্যে ১১ হাজার সোলার বিতরণ করা হয়েছে। যাতে পাহাড়ের দুর্গম মানুষ অন্ধকারছন্ন না থাকে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে সরকার উন্নত শিক্ষা গ্রহণ করতে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপিত করেছে। শান্তি, মৈত্রি, সম্প্রতি থাকলে আমাদের অঞ্চল এগিয়ে যাবে; আমাদের সন্তানরা এগিয়ে যাবে। আমরা সংঘর্ষ চাই না, মৈত্রি চাই। আমাদের সন্তানরা প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে থাকবে।

প্রতিযোগীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় নয়, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবো। দেশের জন্য, সমাজের জন্য সম্পদে পরিণত হবো। পড়ার কোন বিকল্প নেই। নকলের দিন শেষ। খেলাধূলার বিকল্প নেই। খেলাধূলা কাছে টানে।

এসময় মন্ত্রী প্রতিযোগীদের খাবারের জন্য এক লাখ টাকা, আয়োজকদের জন্য দুই লাখ টাকা, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়াদের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করেন।

মন্ত্রী বক্তৃতার প্রারম্ভে জাতির পিতা, তার পরিবারবর্গ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার (এনডিসি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আলম নিজামী। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, তথ্য কমিশনের সচিব সুদত্ত চাকমা, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন।

অনুভূতি ব্যক্ত করেন, প্রতিযোগী রাঙামাটির মেয়ে মুন দেওয়ান, বরিশাল থেকে আগত তৌহিদুল ইসলাম, বান্দরবানের জেরিৎ বম, নঁওগা থেকে ওয়াহিদা বিনতে রোকন। বক্তৃতা পরবর্তী অংশ গ্রহণকারী প্রতিযোগীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। এরপর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + thirteen =

আরও পড়ুন