পার্বত্যনিউজে সংবাদ প্রকাশের পর অবৈধ কারখানায় অভিযান, মামলা দায়ের

কক্সবাজারের ঈদগাঁও অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ব্যাটারি কারখানায় অভিযান পরিচালনা ও মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার। ১৪ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান বাদী হয়ে অবৈধ কারখানায় জড়িত জসীম উদ্দিন ও রেজাউল করিম সিকদারসহ অজ্ঞাত ১৫/১৬ জন শ্রমিককে বিবাদী করে ঈদগাঁও থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। অনলাইন পোর্টাল পার্বত্যনিউজে অবৈধ কারখানাটি নিয়ে গতকাল সংবাদ প্রকাশের পর আজ এ অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।
১৩ ডিসেম্বর পার্বত্যনিউজে সংবাদটি প্রকাশের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো: মুসাইব ইবনে রহমানের নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর সত্যতা পান এবং স্থানীয় জনগণের সাথে কথা বলে এ কারখানার কারণে তাদের গবাদিপশু ও জনস্বাস্থ্যের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার বর্ণনা শুনেন এবং উক্ত অবৈধ কারখানা সীলগালা করে দিয়ে ঘটনাস্থলে পাওয়া কিছু উপকরণ জব্দ ও অন্য সরঞ্জাম বিকল করে দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেন।
১৩ ডিসেম্বর পার্বত্যনিউজে ‘এক মাসে শতাধিক পশুর অস্বাভাবিক মৃত্যু, ঈদগাঁও অবৈধ কারখানা, পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা রহস্যজক’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এই সংবাদে অবৈধ কারখানার বিষাক্ত তরল পদার্থে পরিবেশ দুষণ ও গবাদি পশুর ক্ষতির প্রামাণ্য তথ্য-উপাত্ত ও এলাকাবাসীর অভিযোগসমূহ তুলে ধরা হয়। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের চাপে ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা থেকে সংবাদ প্রকাশের পরের দিনই অবৈধ কারখানায় অভিযান চালাতে ছুটে আসে পরিবেশ অধিদপ্তর।
ঈদগাঁও থানার সেকেন্ড অফিসার সনক কান্তি দাশ জানান, অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে এজাহার জমা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তা তার সাথে যোগাযোগ করেছেন।
অপরদিকে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তা ডা. এ,এম, খালেকুজ্জামানের নির্দেশে একটি দল উক্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পশু মালিকদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তরা এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন জানান।
উল্লেখ্য,গত দুই মাস আগে উপজেলার ঈদগাঁও সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড শিয়া পাড়া এলাকায় পরিবেশ বিধ্বংসী সরকারী অনুমোদনহীন একটি অবৈধ পুরাতন ব্যাটারি কারখানা গড়ে তুলে উক্ত দুই প্রভাবশালী।পরে এসব ব্যাটারীর গলিত বিষাক্ত পদার্থের কারণে বিগত দুই মাসে শতাধিক গবাদিপশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা। তারা এর প্রতিবাদ করলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে রহস্যময় কারণে কোন ব্যবস্থা নেয়নি ।

















