parbattanews

পার্বত্যমন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুতে এখনো অস্থির পাহাড়ের রাজনীতি

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদে ১ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পার্বত্যমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে পাহাড়, সমতল সবখানেই বেশ আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। তাঁর এই পদত্যাগ ইস্যুতে এখনো অস্থির পাহাড়ের রাজনীতি।

দীপেন দেওয়ান ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যান। শুধু তা নয় তিনি সারাদেশের সকল সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েন।

চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দীপেন দেওয়ান। রাঙামাটির ইতিহাসে এই প্রথম কোন নির্বাচিত এমপি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর পদ পান।

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, তিনি মূলত শারীরিক নানা জটিলতার কারণে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন তার পক্ষে অসম্ভব। যে কারণে তিনি মন্ত্রণালয়ের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগমত্র জমা দেন।

মন্ত্রীর পদত্যাগের পরই পাহাড়ে এমনকি সমতলে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ কেউ বলছেন, দীপেন দেওয়ান পার্বত্য মন্ত্রণালয়েল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে তারঁ একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি হয়। এ বলয়ের বিপরীতে ধীরে ধীরে আরেকটি শক্তিশালী বলয় তৈরি হতে থাকে। যে কারণে পার্বত্যমন্ত্রীকে যেকোন সিন্ধান্ত এবং কাজ করত গেলে চরম বেগ পেতে হয়।

পার্বত্যমন্ত্রীর বিপরীত বলয়ের নাম রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু। তাঁর বহুদিনের ইচ্ছে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনিই হবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এ নিয়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

অপরদিকে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী করায় পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি মহল বিষয়টি ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। পার্বত্যমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা নিয়ে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর সাথে অপ্রকাশ্য মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন বলে অনেকে দাবি করেন।

খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ নিয়ে তেমন কোন জটিলতা না থাকলেও রাঙামাটি জেলা পরিষদ গঠন নিয়ে বিরোধ চরমে উঠে। একদিকে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুরদার দীপু অন্যদিকে জিয়া পরিষদের সভাপতি মানস মুকুর চাকমা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আসীন হতে চান।

অনেকে বলছে, দীপন তালুকদার দীপু সভাপতি পদে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর অপ্রকাশ্য সমর্থন লাভ করেন। এসব কারণে সরকার গঠনের তিনমাস অতিবাহিত হলেও রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনে হাত দেয়নি পার্বত্যমন্ত্রী। তবে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় বিএনপির উপজাতি বিষয়ক সহ-সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মনীষ দেওয়ানের নামও উঠে আসে লোকমুখে।

বিএনপির স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকমাস ধরে সরকার প্রধান তারেক রহমানের কাছে জেলা পরিষদ গঠনসহ একাধিক নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগ দায়ের করে পার্বত্যমন্ত্রীর বিরোধী গ্রুপ।

পার্বত্যমন্ত্রীর ঘনিষ্টজনরা যা বলছেন
বীর মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় বিএনপির উপজাতি বিষয়ক সহ-সম্পাদক কর্ণেল মনীষ দেওয়ান বলেন, তাকে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সুপারিশ করায় দীপেন দেওয়ান মন্ত্রীত্ব হারিয়েছেন।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো বলেন, রাজনৈতিক সিন্ধান্তের ব্যাপারে আমি বিশেষ কিছু বলতে পারবো না। তবে কোন সিন্ধান্ত নিয়ে পার্বত্যমন্ত্রী বাঁধাগ্রস্থ হয়েছেন এটার কারণে হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির বলেন, মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমস্যা অথবা মন্ত্রণালয় পরিচালনার স্বাধীনতায় অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

বিরোধীরা যা বলছে
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু বলেন, পার্বত্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেছেন সেটি তিনি পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন। তার পদত্যাগের বিষয়ে আমরা বিস্তারিত কিছু জানি না। তবে আমাদের দলের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। আমরা সবসময় আমাদের সাবেক সভাপতি দীপেন দেওয়ান এমপি ও মন্ত্রীকে সম্মান করেছি।

পার্বত্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যা বলছেন
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখেছি। কী কারণে পদত্যাগ করেছেন তা বিস্তারিত জানতে পারিনি। অসুস্থতার খবর শুনেছি।’’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি আমার আস্থা আছে। আমি বিএনপির রাজনীতি করি। দলের স্বার্থকেই সব সময় বড় করে দেখে আসছি। মন্ত্রী পদে পদত্যাগ করেছি। এমপি হিসেবে তো আছি। আমি যেখানে (পার্বত্যাঞ্চল) রাজনীতি করি সেখানকার স্বার্থ দেখতে হবে।

Exit mobile version