পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদ নির্বাচন ও স্বচ্ছ নিয়োগ দাবিতে কোটা বিরোধী ঐক্য জোটের চার দফা দাবি


পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠনের দাবিতে কোটা বিরোধী ঐক্য জোট এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চার দফা দাবি ও সামগ্রিক অবস্থান তুলে ধরেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকায় একরি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, জেলা পরিষদে অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জেলা পরিষদের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অতীতের অনিয়ম, কোটা বৈষম্য ও দুর্নীতির প্রতিবাদে রাজনৈতিক মত–বিভেদ ভুলে সাধারণ মানুষ কোটা বিরোধী ঐক্য জোটের ব্যানারে একত্রিত হয়। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিবাদ মিছিল, ঘেরাও, আলোচনা এবং হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন সফল হলেও জাতীয় নির্বাচনসহ নানা কারণে সেই নিয়োগ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
তারা আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা নতুন করে জেগে উঠেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পার্বত্য মন্ত্রী জনাব দিপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর হেলালের সাম্প্রতিক ইতিবাচক বার্তা ও পরিকল্পনায় তারা আশাবাদী বলেও জানান।
জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে দ্রুত জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন এখন সময়ের দাবি। একই ভোটার তালিকা ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সংসদ সদস্য এমনকি মন্ত্রীর নির্বাচনে কোনো জটিলতা না থাকলেও জেলা পরিষদ নির্বাচনে আপত্তির যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে সিলেকশনের মাধ্যমে পরিষদ গঠনের কারণে চরম দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব পাওয়ার উদাহরণও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা জানান, “আমরা চাই জনগণের রায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদ পরিচালনা করুক। এতে যেমন জবাবদিহিতা তৈরি হবে, তেমনি জনগণের চাহিদাও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”
নিয়োগ বাতিলে যৌক্তিক দাবি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, প্রথমদিকে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ সংক্রান্ত তাদের ছয় দফা দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও পরে বর্তমান পরিষদের চেয়ারম্যান সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবিগুলোকে ন্যায্য ও যৌক্তিক বলে স্বীকার করেন। তাই এই ছয় দফা দাবি অনুযায়ী নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
বক্তারা সতর্ক করে বক্তারা বলেন, “আগের মতো অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে—এটা আমরা দৃঢ়ভাবে উপলব্ধি করি।”
সংবাদ সম্মেলনে কোটা বিরোধী ঐক্য জোট তাদের চলমান চার দফা দাবি তুলে ধরেন—
১. দ্রুত জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিষদ গঠন।
২. শিক্ষক নিয়োগসহ সব চাকরিতে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
৩. সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি রোধ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা।
৪. সকল জনগোষ্ঠীর সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা।
বক্তারা বলেন, তারা বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে চান এবং বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলার জন্য যেকোনো আত্মত্যাগে প্রস্তুত আছেন
শেষে তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমাদের বার্তা জনকল্যাণে প্রচারের মাধ্যমে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

















