পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট অবস্থান দাবি


স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলো আজও রাষ্ট্রীয় বৈষম্য, রাজনৈতিক উপেক্ষা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে। এমন অভিযোগ তুলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে স্পষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রোহিঙ্গা ইস্যু জানতে চেয়ে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে এসব কথা বলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক।
সংবাদ সম্মেলনে থোয়াই চিং মং চাক বলেন, নির্বাচনের সময় এলেই জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়ন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বললেও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশ্নে তারা নীরব থাকে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ভূমি অধিকার, সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল সুস্পষ্ট, সময়নির্ধারিত ও জবাবদিহিমূলক পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো রাজনৈতিক পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্র নয় কিংবা সুবিধাবাদী রাজনীতির ব্যাকইয়ার্ড নয়। এই অঞ্চলের প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলো ভিক্ষুক নয়; তারা রাষ্ট্রের সমান নাগরিক এবং পূর্ণ অধিকার তাদের প্রাপ্য।
সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়। থোয়াই চিং মং চাক বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই সংকটকে কখনো আন্তর্জাতিক দয়া প্রদর্শনের নাটক, কখনো নির্বাচনী বক্তব্যের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো দল এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের রূপরেখা স্পষ্ট করেনি। এই অব্যবস্থাপনার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে তার দায় রাষ্ট্র পরিচালনাকারী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকেই নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সংগঠক মোঃ শাকিল মিয়া বলেন, জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট দাবি অনুপস্থিত। কোথাও কোথাও লোকদেখানো ও নামমাত্র কিছু দাবি থাকলেও তা বাস্তবসম্মত নয়। এ সময় তিনি গার্মেন্টস কর্মীদের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি দ্বিগুণ করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলোর জন্য লিখিত, প্রকাশ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা, ভূমি, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রশ্নে দ্বিমুখী ভাষা পরিহার,রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও নিরাপত্তাভিত্তিক পরিকল্পনা উপস্থাপন, নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামকে জাতীয় অগ্রাধিকারে স্থান দেওয়া, তথাকথিত পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাতিলের বিষয়ে স্পষ্ট ও লিখিত রাজনৈতিক অবস্থান ঘোষণা, এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল বিচ্ছিন্নতাবাদী অবৈধ অস্ত্রধারী সংগঠনের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট সতর্ক করে জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ আর প্রতারণার রাজনীতি মেনে নেবে না। প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলোর অধিকার প্রশ্নে নীরবতা জনগণ রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান না নিলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সেই ব্যর্থতার দায় বহন করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা, সংগঠক মোঃ শাকিল মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিন হাসান সৌরভ এবং আই এইচ রাফি।

















