পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে : মো. আব্দুল খালেক


পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল খালেক বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সফল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পার্বত্য এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহনশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পার্বত্যবাসীসহ বাংলাদেশের সকল শান্তিপ্রিয় জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে সচিব মো. আব্দুল খালেক তাঁর বাণীতে আরো উল্লেখ করেন, ‘১৯৯৭ সালের এই দিনে বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে যুগান্তকারী এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ এবং ১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। চুক্তির শর্তানুযায়ী, পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার মানোন্নয়নের জন্য বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে সেই উন্নয়নের ধারা আরও গতিশীল ও সুদৃঢ় হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে। ঢাকার বেইলী রোডে স্থাপিত শৈল্পিক ও নান্দনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের মাধ্যমে পার্বত্যবাসীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিকাশের পাশাপাশি সমতলের মানুষের সঙ্গে তাদের মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়নের পর বাংলাদেশের এক দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে এক নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। জনগণের কল্যাণে গড়ে উঠেছে স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প। তিন পার্বত্য জেলার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিসাধন, সামাজিক সুরক্ষা, এবং নারী ও শিশু উন্নয়নসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও ৩ জেলা পরিষদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংহত করা হয়েছে। দুর্গম এলাকার নারী ও শিশুদের মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের জন্য নেওয়া হয়েছে টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান কর্মসূচি।’
মানসম্মত শিক্ষা, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার এই অঞ্চলের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন পার্বত্য সচিব। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮ বছর পূর্তিতে শান্তি ও উন্নয়নের এই অভিযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

















