পার্বত্য তিন জেলায় আর্মড পুলিশ মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন ও সদর দপ্তর স্থাপনের প্রস্তাব

fec-image

তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে তিনটি আর্মড পুলিশ মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন ও এর সদর দপ্তর স্থাপনের প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এ–সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জমা দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা শাখার নেওয়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে ৬৬৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে। অনলাইন গণমাধ্যম ঢাকা স্ট্রিম’র এক প্রতিবেদনে ২৩ ডিসেম্বর এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জুলাইয়ে শুরু করে ২০২৮ সালের জুনে এই প্রকল্প শেষ করতে চায় পুলিশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দেবে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রকল্পটি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এডিপিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে খরচ হবে ১৯১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। পরের অর্থবছরে ২৩৮ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং ২০২৭–২৮ অর্থবছরে বাস্তবায়নে খরচ করার কথা রয়েছে ২৩৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগবান করা, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে একটি দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর, শারীরিক সক্ষমতা ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ এবং এসব এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ানো।

প্রকল্পের পটভূমিতে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পার্বত্য এলাকার উপযোগী বিশেষায়িত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা প্রয়োজন। পার্বত্য অঞ্চলে ডিআইজি মাউন্টেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কার্যালয়সহ পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন স্থাপন করা হলে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে র্কোন্দল যেমন কমবে, তেমনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে।

এতে আরও বলা হয়, মামলা তদন্ত ও দৈনন্দিন ছুটি মিলিয়ে পুলিশ কার্যক্রমে থানা-পুলিশের অধিকাংশ সদস্য ব্যস্ত থাকায় তাদের পক্ষে উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সংঘবদ্ধ অপরাধীদের কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব হয় না। বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনের জন্য জেলা পুলিশ সুপাররা এপিবিএন সদস্যদের জেলা পুলিশকে সহায়তা চেয়ে থাকেন। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ও সুরক্ষিত অবকাঠামো নির্মাণ আবশ্যক। এ ছাড়া, শান্তিচুক্তির ভিত্তিতে পার্বত্য অঞ্চল থেকে সেনা বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে বলেও প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তখন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ বাহিনী কাজ করবে।

ব্যাটালিয়ন পার্বত্য অঞ্চলে চলাচল উপযোগী ১৫৫টি যানবাহন কিনতে ১১২ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন ধরা হয়েছে প্রকল্পে। এছাড়া অনাবাসিক ভবন নির্মাণ বাবদ ৯৪ কোটি টাকা, আবাসিক ভবন নির্মাণ বাবদ ৩০৮ কোটি টাকা এবং অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে ৮৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় কথা বলা হয়েছে।

তবে পরিকল্পনা কমিশনের সেক্টর ডিভিশনের মতামতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি গ্রহণের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিনিধিদের মতামত জানতে চাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করতেও বলা হয়েছে। এ ছাড়া এই প্রকল্পের অবকাঠামোর কারণে পার্বত্য এলাকায় পরিবেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে কিনা, তা-ও যাচাই করে দেখতে বলা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ পুলিশ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন