পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে উৎকণ্ঠায় বাঙালিরা

fec-image

পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধিত) আইন-২০১৬ নামে যে কমিশন গঠন করা হয়েছে তাকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে বসবাসরত ৫২ শতাংশ বাঙালিদের মধ্যে শঙ্কা, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ গঠিত কমিশনে পার্বত্য বাঙালিদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার আইন থাকায় এ কমিশন থেকে একতরফা যেকোনো সিদ্ধান্ত আসার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বৃহৎ বাঙালি জনগোষ্ঠী ভূমিহীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের ৯ জন সদস্যের মধ্যে তিনজন সার্কেল চিফ, তিনজন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একজন আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানসহ মোট সাতজন সবাই উপজাতি। একজন কমিশনের চেয়ারম্যান, অপরজন বিভাগীয় কমিশনার, যারা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন। ভূমি কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ না থাকায় এটি একপেশে ও সংবিধান পরিপন্থী বলে মনে করছেন বাঙালিরা।

পার্বত্য তিন জেলাতেই রয়েছে ভূমি নিয়ে বিরোধ। আর এ সমস্যাটি বাঙালিদের কাছে জটিলতর হয়ে উঠেছে মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চাহিদা মতো ‘পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১’ সংশোধনের কারণে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পাহাড়ে জমির দখল, মালিকানা নিয়ে চলছে এই সঙ্কট। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে ভূমি সমস্যা সবচেয়ে বেশি খাগড়াছড়িতে।

বাঙালিপাড়ার সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোসলেম উদ্দীন ভূমি কমিশন আইন সংশোধনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সবাই মনে করছে এই কমিশন বাস্তবায়ন হলে বাঙালিদের উচ্ছেদ হতে হবে। কারণ বাঙালিদের বসতবাড়ি গুচ্ছগ্রামের ব্যাপারেও আপত্তি এসেছে। পার্বত্য এলাকা বাংলাদেশের এক দশমাংশ। আমরা চাই, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সবাই সমান অধিকার পাক। এখানে পাহাড়িরাও থাকবে, বাঙালিরাও থাকবে। পার্বত্য এলাকায় দ্বন্দ্ব সঙ্ঘাতের মূলে ভূমি বিরোধকেই দায়ী করা হয়। ভূমি কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক ২০১৬ সালে বিবিসি বাংলাকে জানান, ওই সময়ে ১৫ হাজার ৯৬৯টি আবেদন পড়েছে যার মধ্যে পাহাড়ি-বাঙালি, পাহাড়ি-পাহাড়ি, বাঙালি-পাহাড়ি, বাঙালি-বাঙালি, পাহাড়ি-সরকার এরকম সাত থেকে আট ধরনের বিরোধ দেখা যায়। এগুলো সর্টআউট করে আমরা মার্জিনাল লেভেলে যারা আছে ল্যান্ড নিয়ে তাদের কাছে পৌঁছাব এবং ফিজিক্যালি দেখে বিরোধী পক্ষের উপস্থিতিতে তাদের সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা করে এগুলো নিষ্পত্তি করব। আমরা একটি ডকুমেন্ট দেবো, ডকুমেন্ট দিলে তারা স্থায়ীভাবে প্লেইন ল্যান্ডের মতো একটি পজিশনে চলে আসবে। কমিশন আইন সংশোধনের পর বাঙালিদের ক্ষোভ এবং আতঙ্ক প্রসঙ্গে মি. হক বলেন, উভয় পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে- ‘আমি দশটি নিষ্পত্তি করি, দেখুন আপনারা। স্টেকহোল্ডার যারা তারা স্যাটিসফাইড হচ্ছে কিনা। অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে; যত দেরি হবে তত জটিলতা বাড়বে’ (বিবিসি বাংলা ৩ নভেম্বর, ২০১৬)।

কমিশন আইনের ১৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, ‘ধারা ৬(১) এ বর্ণিত কোনো বিষয়ে দাখিলকৃত আবেদনের ওপর কমিশন প্রদত্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ানি আদালতের ডিক্রি বলিয়া গণ্য হইবে তবে উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল বা রিভিশন দায়ের বা উহার বৈধতা বা যথার্থতা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।’ এ ধারার মাধ্যমে বাঙালি ও উপজাতি সবাই তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ মনে করেন। ৬(১)(ক) ধারা মোতাবেক ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ প্রচলিত আইন, রীতি, প্রথা ও পদ্ধতি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, আইন, রীতি, প্রথা ও পদ্ধতি দ্বারা মূলত হেডম্যান, কারবারি ও সার্কেল চিফদের ব্যক্তিগত মতামত ও সিদ্ধান্তকে বুঝানো হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. মজিবর রহমান নয়া দিগন্তের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “সংশোধিত আইনের ৬(১)(ক) ধারাটি অপব্যবহার করে উপজাতীয় প্রতিনিধিরা বাঙালিদের নিজেদের বসতভিটা, জায়গা জমি থেকে বঞ্চিত ও উচ্ছেদ করার সুযোগ পাবে। যেসব ক্ষেত্রে দেশে আইনের অস্তিত্ব রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি ও প্রথার প্রয়োগ থাকতে পারে না। এটা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ‘জুম্মল্যান্ড’ নামক একটি স্বতন্ত্র ও আলাদা রাষ্ট্র গঠন করার মুখ্য উদ্দেশ্য বলে প্রতীয়মান হয়। পাশাপাশি ৬(১)(খ) ধারাটি বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭, ৩১, ৪২-এর সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ভূমি কমিশন আইনে ওই ধারা সংযোজন এবং অধ্যাদেশ-২০১৬ সংশোধনের মাধ্যমে পার্বত্য ভূমিতে স্থানীয় বাঙালিদের অর্জিত দলিলগুলোর আইনি ও বৈধ মূল্য সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করা হয়েছে এবং হীন উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাঙালিদের ভূমিতে অর্জিত দলিলগুলো বাতিলের গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ৬(১)(গ) ধারাটি সংশোধনের ফলে (ফ্রিজল্যান্ড) বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদে জেগে ওঠা জমিসহ বিভিন্ন জমির ওপর একতরফাভাবে উপজাতিদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ওই জমিতে কোনো বাঙালি বন্দোবস্ত পেয়ে থাকলেও তা থেকে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে উচ্ছেদ করতেই আইনে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।”

গত ২৩ জুলাই, পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ার উল হক এক সফরে বান্দরবানে এলে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান তার সাথে সাক্ষাৎ করে মতবিনিময় করেন এবং তার মাধ্যমে প্রধানন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দেন। এতে বলা হয় যে, ‘বন্দোবস্ত, লিজ, কবুলিয়ত ইত্যাদি আইনি পরিভাষা কেবলমাত্র খাসজমি বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং খাসজমির মালিক হচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে বিশেষ গোষ্ঠীর বা নাগরিক বা সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ বেআইনি হিসেবে প্রতীয়মান হয়। এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩০ শতাংশ ভূমিতে বসবাসরত বাঙালিদের বসতভিটার পাশাপাশি রিজার্ভ ফরেস্ট, সরকারি শিল্পকারখানা, সেনানিবাস, বিজিবি, পুলিশ ব্যারাক, ডিসি অফিস, এসপি অফিস, ভূমি অফিস, আদালতসহ সর্ব প্রকার সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ভূমি বন্দোবস্তও অবৈধ বলে প্রমাণিত হবে। বাঙালিরা ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করবে। এতে পার্বত্য চুক্তির যে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা, তা চরমভাবে ব্যাহত হবে।”

স্মর্তব্য যে, ২০১৬ সালে কমিশন (সংশোধিত) গঠিত হওয়ার পর যতবার কমিশনের চেয়ারম্যান পার্বত্য চট্টগ্রামে গেছেন বাঙালিদের প্রতিবাদের মুখে পড়েন। ২০২০ সালে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধনের দাবিতে জেলা পরিষদের মূল ফটকে বাঙালিদের সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের নেতাকর্মীরা কমিশনের চেয়ারম্যানের গাড়ি কিছু সময় অবরোধ করে রাখেন। রাস্তার দু’পাশে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ দেখান তারা। এ সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, পাহাড়ে জোর করে কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। কারো ক্ষতি হয়, এমন কোনো কাজ ভূমি কমিশন করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কমিশনের কাছে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব জাতিগোষ্ঠীর স্বার্থ কমিশন সমানভাবে দেখবে’ (বিডি নিউজ২৪ ডটকম, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ দিন কর্মরত সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বলেন, ‘১৯৮৭ সালে পার্বত্যাঞ্চলের এসব দেশদ্রোহীরা সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছিল পুরো বাংলাদেশ দু’টি ভাগে ভাগ করার। এক ভাগের নাম বাংলাদেশ, যার রাজধানী ঢাকা। আরেক ভাগের নাম হবে জুম্মল্যান্ড, যার রাজধানী রাঙ্গামাটি। এই দু’টি অংশ মিলে একটি ফেডারেল সরকার হবে। তখন আমরা রাজি হইনি। কিন্তু বর্তমান এই ভূমি আইন বাস্তবায়নের ফলে দেশদ্রোহীদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে’ (মানবজমিন, ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯)। এখানে একটা বিষয় লক্ষণীয় যে, পার্বত্য এলাকায় কর্মরত দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলো বিশেষত ইউএনডিপি উপজাতীয়দের প্রাধান্য দেয় এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি দেখভাল করে। গত ১৭ আগস্ট ’২২ জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলের বাংলাদেশে তার চার দিনের আনুষ্ঠানিক সফর শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে যে বিবৃতি দেন তাতেও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমি বেদখল থেকে সুরক্ষা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পার্বত্য বাঙালিদের দুর্দশা ও শঙ্কা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া থেকে পূর্ব তিমুরকে আলাদা করে খ্রিস্টান রাষ্ট্র বানানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সুগভীর ও দূরপ্রসারী।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক সৈয়দ ইবনে রহমত মনে করেন, জনসংহতি সমিতি আন্দোলন শুরু করেছিল স্বাধীন ‘জুম্মল্যান্ড’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে। তারা সে আকাঙ্ক্ষা কখনো পরিত্যাগ করেনি; যা বিভিন্ন সময় তাদের বক্তব্য ও আচার আচরণ থেকে প্রমাণিত সত্য। সরকারের সাথে চুক্তি করার সময় যেহেতু স্বাধীন দেশের দাবি তোলা অপ্রাসঙ্গিক ছিল, তাই তারা প্রথমে ফেডারেল রাষ্ট্র এবং পরে স্বায়ত্তশাসন দাবি করেছিল। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় সরকার এ দাবি মেনে না নেয়ায় তারা চুক্তি করতে বাধ্য হয়। তাই বলে তারা তাদের সুপ্ত বাসনা ভুলে যায়নি (পার্বত্যনিউজ ডটকম, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯)। সরকার এখন থেকে সজাগ না হলে উপজাতীয়রা পূর্ব তিমুরের মতো স্বাধীনতার জন্য গণভোটের দাবি তুলতে পারে। জেএসএস পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাচৌকি ও সেনানিবাস তুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২৪ বছরেও ভূমি জরিপ ও আদমশুমারি হয়নি। সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা নেয়ার পরও ভূমি জরিপ ও আদমশুমারিতে শুরু থেকেই বাধা দিয়ে আসছে পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। একবার ভূমি জরিপের কাজ করতে গেলে জেএসএসের সন্ত্রাসীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ কারণে ভূমি জরিপ ও আদমশুমারি বন্ধ রয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার ৫ নম্বর বাবুছড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত সোনামিয়া টিলায় ৮১২টি বাঙালি পরিবারের সরকার বরাদ্দকৃত (১৯৮১-৮২) খাস ভূমির বেশ কিছু অংশ দখল করে ইউপিডিএফের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদে স্থানীয় উপজাতীয়রা কৌশলে বসতি গড়ে তোলে।

বিষয়টি বাঙালিদের নজরে এলে বিভিন্ন সময়ে তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি তাদের নামে বরাদ্দকৃত ভূমিতে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে ভূমি উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে (ইত্তেফাক, ঢাকা, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১)। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এবং জবরদখলকৃত ভূমি বাঙালিরা ফেরত পায়নি।

পার্বত্য বাঙালিরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তাদের প্রত্যাশা, শান্তির স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব উপজাতি ও বাঙালি ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে তাদের প্রাপ্য অধিকার ভোগ করুক এবং সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিদের ভূমি ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশের অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১৬ সংশোধন করে জনসংখ্যার অনুপাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধির উপস্থিতি ও মতামত নিশ্চিত করে ভূমি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হোক। প্রবিধান প্রণয়নে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে যে সুপারিশমালা প্রেরণ করা হয়েছে, তাও বাতিল করার দাবি জানাচ্ছে বাঙালিরা। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানাচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি নেতারা।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও গবেষক
[email protected]

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, পার্বত্য, পাহাড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × four =

আরও পড়ুন