parbattanews

পাল্টা আক্রমণ করে ৪ গ্রাম দখল ইউক্রেনের

রাশিয়ার কবল থেকে চারটি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি করেছে ইউক্রেন। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর এটিই কিয়েভের প্রথম কোনো জয়। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখভাগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রচণ্ড লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনা কমান্ড। তবে রাশিয়া এ দাবি অস্বীকার করেছে।

সোমবার (১২ জুন) বিবিসির খবরে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, গত রোববার ইউক্রেনীয় সেনারা দেশটির দোনেৎস্ক অঞ্চলের ব্লাহোদাত্নে, নেস্কুচনে ও মাকারিভকায় জয় উদ্‌যাপন করছেন। ইউক্রেনের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ওই গ্রামগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য সেনাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রোববার দুই বাহিনীর মধ্যে বাখমুতের পাশে এবং আরও দক্ষিণে আবধিবকা ও মারিয়াঙ্কায় ২৫ বার সম্মুখযুদ্ধ হয়েছে, যার সবগুলোই দোনেৎস্কে অবস্থিত। এ ছাড়া লুহানস্ক প্রদেশের বিলোহোরিভকায়ও রাশিয়া-ইউক্রেনের সেনাদের মধ্যে লড়াই হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পাল্টা অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার পরই চারটি গ্রাম মুক্ত করার দাবি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এরপর ইউক্রেন মারিউপল উদ্ধার করতে ঝাঁপাবে।

অবশ্য রাশিয়া এখনো এই অঞ্চলে ইউক্রেনীয় আক্রমণ প্রতিহত করার কথা বলছে। ইউক্রেনের হাতে নিজেদের কোনো গ্রামের পতন হওয়ার তথ্য এখনো নিশ্চিত করেনি দেশটি। গত শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবশ্য স্বীকার করে বলেন, এখন পর্যন্ত পাল্টা হামলায় সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তবে তাদের ‘হামলার সম্ভাবনা’কে এখনো একেবারে ধ্বংস করে দেওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, রাশিয়া জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে আরেকটি বাঁধ উড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। এর আগে গত সোমবার নোভা কাখোভকা বাঁধ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। ওই বাঁধের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেন বলেছে, রুশ বাহিনী যে বাঁধটি উড়িয়ে দিয়েছে, সেটি রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিয়ন্ত্রণ করছিল।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ভ্যালেরি শেরশেন বলেছেন, মস্কোর বাহিনী নোভোদারিভকা গ্রামের কাছে দ্বিতীয় একটি বাঁধ উড়িয়ে দিয়েছে। ফলে মোকরি ইয়ালি নদীর উভয় তীরে বন্যা দেখা দিয়েছে। শেরশেন আরও বলেন, দখল করা এলাকার দিকে ইউক্রেনের অগ্রগতি ঠেকাতে রাশিয়া ইচ্ছা করেই ওই অঞ্চলে বাঁধ উড়িয়ে দিচ্ছে।

অবশ্য রাশিয়া গত সপ্তাহে ধ্বংস হওয়া নোভা কাখোভকা বাঁধ উড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বাঁধ উড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে।

Exit mobile version