parbattanews

পাসপোর্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে উগান্ডা নেপাল-ভুটান থেকেও পিছিয়ে বাংলাদেশ

পৃথিবীব্যাপী দেশগুলোর পাসপোর্টের যে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৬! গ্লোবাল সিটিজেন সল্যুশনের পুরো রিপোর্টটা আমি খুব ভালো করে পড়ে দেখলাম। ওরা যে ম্যাথোডলজি (পদ্ধতি) অবলম্বন করে তালিকাটা করেছে। বেশ চমৎকার এবং গ্রহণযোগ্য। শুধু মাত্র ভিসা ছাড়া ঘুরতে যাবার ব্যাপারটা এখানে যুক্ত করা হয় নাই। সাথে একটা দেশের জীবনযাত্রার মান এবং অন্যান্য বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।

১৯০টা দেশের মাঝে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৬! এমন কি যে উগান্ডাকে নিয়ে বাংলাদেশিরা হাসাহাসি করে। সেই উগান্ডাও আমাদের চাইতে এগিয়ে আছে। নেপাল-ভুটান এরাও আমাদের চাইতে এগিয়ে। এই লেখা লিখতে লিখতে মাত্রই কোথায় যেন দেখলাম বসবাস যোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা শহরের অবস্থান সবার নিচে! ঢাকার নিচে শুধু একটা শহর আছে। যেখানে যুদ্ধ চলছে!

যে কারনে এই লেখাটা লিখছি- আজ সকালে আমার একটা কাজ ছিল। খুব ভোরে উঠে ঢাকার একটা বস্তিতে যেতে হবে। আমি বস্তিবাসীদের ইন্টার্ভিউ নেব। আমাকে বলা হয়েছে

স্যার, আপনি একটু ভোর বেলায় আসবেন। কারন এখানকার বেশিরভাগর মানুষ সকালে কাজে বের হয়ে যায়।

আমি সাধারণত রাত সাড়ে ১০টা এগারোটার দিকে প্রতিদিন চেষ্টা করি কিছু লিখে ফেসবুকে পোস্ট করার। আমার পাঠকরা তো নিশ্চয় বিষয়টা জানেন। এ জন্য গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে পোস্ট করে ১১টার দিকে ঘুমাতে গিয়েছি। মানে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গিয়েছি। কিন্তু কীসের ঘুম! ঢাকার নাখালপাড়ায় আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা। এটি এখন পুরনো ঢাকার চাইতেও ঘিঞ্জি এলাকা।

রাস্তায় কেউ একটু জোরে শব্দ করে কথা বললেই বাসায় শুনা যায়। কালকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলা ছিল। মানে পুরো সময়টা কী চিৎকার-চেঁচামেচি! পাশের রাস্তার মোড়ে পাড়ার ছেলেরা খেলা শেষে কেউ বাঁশি বাজাচ্ছে। কেউ ভুভুজেলা বাজাচ্ছে। কেউ মিছিল করছে। রাত দেড়টা পর্যন্ত চলেছে।

আমি আর ঘুমাতেই পারলাম না। অথচ আমাকে ভোর পাঁচটায় বের হতে হবে। আমি যে দেশের নাগরিক। সেই দেশের পাসপোর্ট র‍্যাঙ্কিং হচ্ছে ১৩ তম। সে উদাহরণ দিচ্ছি না। পৃথিবীর সভ্য দেশগুলোতে উইক ডে (মানে কাজের দিনগুলোতে) কোন আবাসিক এলাকায় রাত ১১টার পর জোরে শব্দ করা যায় না। এটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমাদের ওখানে তো রাত ১১টার পর ওয়াসিং মেশিন চালনোও নিষিদ্ধ। পাশের ফ্ল্যাটের লোকজনের সমস্যা হতে পারে।

আপনি যদি রাত ১১টার পর শব্দ করেন। আপনার জরিমানা হয়ে যাবে। ইউরোপের অনেক দেশ তো বিশ্বকাপ ফুটবল খেলছে। তাঁরা কি আবাসিক এলাকায় এভাবে শব্দ করছে? মোটেই না। শহরের বেশ কিছু জায়গায় খেলা দেখানো হয়। মূলত সেন্ট্রালে কিংবা এমন কিছু জায়গায়। যারা এক সাথে খেলা দেখতে চায়; সেখানে চলে যায়। সেখানেই চিৎকার-চেঁচামেচি করে ফিরে আসে। বাকিরা নিজেদের ঘরে বসে খেলা দেখে নিজেদের মত। আবাসিক এলাকায় কোন রকম শব্দ হয় না।

আর আমরা কী করছি? রাত দেড়টার সময়ও চিৎকার-চেঁচামেচি করছি রাস্তায় বের হয়ে। বয়স্ক মানুষ থাকতে পারে। যার হয়ত শরীর খারাপ। বাচ্চা থাকতে পারে। এই চিৎকারে যে ভয় পেতে পারে। কিংবা ভোরে উঠে কাজ করার মানুষ থাকতে পারে। সে কি ঘুমাবে না? তাহলে এই কাজ আপনারা কী করে করেন? আপনি নিজ বাসায় খেলা দেখুন। সমস্যা নেই তো। মাঝ রাতে বাঁশি বাজিয়ে কেন মিছিল করতে হবে? এই দেশে কি কোন নিয়ম নাই? আইন-কানুন নাই?

যে দেশগুলো বিশ্বকাপ খেলছে। তাঁরাই তো এই কাজ করে না। আর আমাদের দেশের পাসপোর্টের অবস্থান ১৬৬তম। জগতের কোথাও আমাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। জীবনেও বিশ্বকাপ খেলতে পারবে বলে তো মনে হয় না। বসবাসের অযোগ্য একটা শহর। যে সব দেশে যুদ্ধ চলছে। প্রতিদিন মিসাইল, ড্রোন পড়ছে। সেই সব দেশের শহরও আমাদের চাইতে এগিয়ে। এরপরও আমরা সভ্য হবার চেষ্টা করছি না।

এরা বিদেশের কোন একটা নিউজ চ্যানেল যদি নিউজ করে- বাংলাদেশের সমর্থকরা এটা করছে, ওটা করছে। এতেই খুশি হয়ে যায়। নিজেদের বিরাট কিছু মনে করে! এরা বুঝতেও পারে না- ওই সংবাদ প্রচার করে ওরা আপনাদের লাইক-কমেন্ট আর শেয়ার দিয়ে টাকা ইনকাম করছে। ওরাও বুঝে গেছে ১৮ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে ১২ কোটির কোন কাজ নাই। এরা ফেসবুকে বসে শুধু লাইক, কমেন্ট করে। দিন শেষে ওদের সাধারণ মানুষ আপনাদের ভাগাড়ই মনে করে।

আজকে দেখি Iran International নামে একটা পেইজ আমার ইরান যুদ্ধ সিরিজের লেখাগুলো প্রতিদিন ইংরেজি করে পোস্ট করে হাজার হাজার লাইক পাচ্ছে! তাহলে বুঝেন এদের অবস্থা। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশুনা করে যেই লেখা লিখছি। সে এটা কপি-পেস্ট করে ইংরেজি করে চালিয়ে দিচ্ছে!

আমি নিশ্চিত এই পেইজ কোন বাংলাদেশিই খুলেছে। একটা ক্রেডিট দেয়ার প্রয়োজনও মনে করছে না। কতটা অসভ্য শ্রেণীর প্রাণী আমরা বুঝে দেখেন। বিদেশিরা এটা বুঝে গেছে। তাই ওরা এখন বাংলাদেশের খবর ওদের ফেসবুক পেইজে দেয়। কখনো ডোনাল্ড ট্রাম্প নামে মহিষ, কখনো শ্রীলংকার মেয়ের শজারু কিংবা বিড়াল নিয়ে হেঁটে যাবার ভিডিওকে বাংলাদেশি বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এতে ওদের কিছু টাকা তো ইনকাম হলো!

গিয়ে ভিসা চান। দেখেন দেয় কিনা। কয়দিন পর উগান্ডাও আমাদের ভিসা দেবে না। পৃথিবীতে মেজর দেশই নাই ১৬৬টা। আমাদের অবস্থান কিনা ১৬৬তম! তবুও আমরা ভালো হচ্ছি না। কারন আমরা ভাগাড় ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

উৎসঃ আমিনুল ইসলামের ফেসবুক থেকে নেওয়া।

Exit mobile version