বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, পাহাড়ি সমতল, নৃগোষ্ঠী, বৃহৎ গোষ্ঠী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসাথে থাকতে হবে। কারণ আমরা যদি একসাথে থাকি, আমরা যেমন একাত্তরে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা যেমন চব্বিশে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি, ইনশাআল্লাহ সামনের দিনেও আমাদের বাংলাদেশকে প্রত্যাশিত বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যেতে পারব। ২৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। এখানে যারা ইয়াং আছেন, যারা তরুণ আছেন, তারা বইয়ের পাতায় পড়েছেন, মুরুব্বি যারা আছেন বা আমাদের বয়সী যারা আছেন, তারা দেখেছেন বা জানেন যে, সেই যুদ্ধে আমাদের দেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছিল। সেই যুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছে। পরবর্তীতে এই ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে এই দেশেরই ছাত্র জনতাসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেই একাত্তর সালের যুদ্ধই হোক, চব্বিশের আন্দোলনেই হোক, কে পাহাড়ি মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে নৃগোষ্ঠীর মানুষ, কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ, তা কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে। একাত্তর সালে যুদ্ধের মাঠে সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছে। কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ কেউ দেখিনি। কাজেই এবারও ১২ তারিখের নির্বাচনে আমাদের সকলকে এক সাথে থাকতে হবে।
জনসভায় বক্তব্য দেয়ার এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত লাখো জনতার কাছে জানতে চান, তারা তাঁর কথা বুঝতে পেরেছে কিনা। জনতা হ্যাঁ উত্তর দিলে তিনি তাদের উদ্দেশে আরো বলেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে যদি গড়ে তুলতে হয়, তাহলে স্লোগান হবে একটাই- ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। মনে রাখতে হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কাজেই আসুন, আজ আমাদের এই নির্বাচনী জনসভার শপথ হোক আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করব। আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের কাঙ্খিত বাংলাদেশে রূপান্তরিত করব।
তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে উঠবেন। আল্লাহর কাছে রহমত চাইবেন। যাতে সারাদেশে ধানের শীষ জয়যুক্ত হতে পারে। তারপরে এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। অন্য ধর্মের যারা আছেন তাদের ধর্মীয় প্রার্থনা আচার-অনুষ্ঠান যেটা তারা সেটা করবেন। মুসলমান যারা আছেন তারা ভোট কেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করবেন। তারপরে লাইন দিয়ে দাঁড়াবেন। ভোট শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ সাথে সাথে ভোট দেয়া শুরু করবেন। ভোট দেয়া শেষ হলে সাথে সাথে চলে আসবেন না। থাকতে হবে। কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নিতে হবে। বহু বছর হয়ে গেছে আমরা ভোট দেবার সুযোগ পাইনি। আমাদের ভোট বিভিন্ন জনে বিভিন্ন ভাবে লুটপাট করে নিয়ে গিয়েছে। এজন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে। যাতে কেউ আমাদের ভোট লুটপাট করে নিয়ে যেতে না পারে।
তিনি বক্তব্য শেষ করার সময়ে বলেন, আপনাদের সাথে আবারো দেখা হবে ১২ তারিখের পর। খালখনন কর্মসূচিতে। সবাইকে কোদাল নিয়ে আসতে হবে, ইনশাআল্লাহ।
