পাহাড়ের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা বিনি চালের ভাপা পিঠা


শীতে নানা স্বাদের পিঠার চাহিদা বেড়েছে পাহাড়ি জনপদে। তবে রাঙামাটির বিভিন্ন স্পটে আগত পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে কালো রঙের ভাপা পিঠার। পাহাড়ের জুমে উৎপাদিত বিনি চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি এ পিঠা সাদা ভাপা পিঠার চেয়ে কিছুটা নরম এবং ভিন্ন স্বাদের হওয়াতে এই পিঠা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন বিক্রেতারা। বিনি চালের ভাপা পিঠার চাহিদা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পাহাড়ের অর্থনীতিতে দেখা দিতে পারে আরেক নতুন সম্ভাবনার।
বিনি চালের ভাপা পিঠা নিয়ে ইত্তেফাক অনলাইনে প্রকাশিত সরেজমিন প্রতিবেদনে জানা যায়, বিনি চালের কফি কালার ভাপা পিঠার চাহিদার স্বাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ভাসমান দোকানগুলোয় আগত পর্যটক ও পাহাড়ি-বাঙালি সকলে এ পিঠার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।
পিঠা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে পিঠা বিক্রেতারা এ প্রতিবেদককে জানান, জুমের বিনি চাল সংগ্রহ করে প্রথমে ধুয়ে পরিষ্কার করে শুকানো হয়। শুকানোর পর মেশিনে গুঁড়া করা হয়। গুঁড়ো চাল হালকা পানি এবং লবণ দিয়ে মাখানোর পর নারকেল, পাটালি গুঁড়া অথবা খেজুরের গুড় মিশিয়ে ভাপে দেওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পর নামিয়ে পরিবেশন করা হয়। এই পিঠাগুলো কিছুটা আঁঠালো হলেও অন্যান্য চালের গুঁড়ার পিঠার চেয়ে সুস্বাদু বলে জানান ক্রেতারা।
রাঙামাটি শহরের স্টেডিয়াম এলাকা এবং আসামবস্তি–কাপ্তাই সংযোগ সড়কে পাহাড়ি নারীরা কালো বা কফি কালার ভাপা পিঠা বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন এসব স্পট থেকে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি ও পর্যটকরা অস্থায়ী দোকানগুলোতে ভিড় করেন এবং গরম পিঠার স্বাদ উপভোগ করেন। প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পিঠা তৈরি ও বেচাকেনা চলে। তবে এসব দোকানে সাদা ভাপা, চিতই পিঠাসহ হরেক রকম পিঠাও পাওয়া যাচ্ছে।
রাঙামাটি স্টেডিয়াম এলাকার পিঠা বিক্রেতা পরানী চাকমা এ প্রতিবেদককে বলেন, বিনি চালের কালো ভাপা পিঠার স্বাদ বেশি। সে কারণে মানুষজন এ পিঠা বেশি কিনছে। এ পিঠা সাদা পিঠা থেকে কিছুটা নরম। তাছাড়া স্বাদেরও কিছুটা তারতম্য হওয়ায় কালো ভাপা পিঠার চাহিদা বেড়েছে পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে। প্রতি পিস পিঠা ২০ টাকা করে বিক্রি করেন বলে জানান পিঠা বিক্রেতারা।
প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ কেজি চালের ভাপা পিঠা তৈরি করছেন সুবর্ণা চাকমা। ২ থেকে ৩ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয় তার। পিঠা বিক্রি করে ভালো লাভও পাচ্ছেন তিনি। প্রতিবছর শীত এলেই কালো ভাপা পিঠা তৈরি করেন তিনি। পাশাপাশি অন্যান্য পিঠাও মিলছে তার দোকানে। কালো ভাপা পিঠা খেতে আসা পর্যটক ফরিদা বেগম বলেন, ঢাকা থেকে বেড়াতে এসেছি। লোকমুখে কালো ভাপা পিঠার কথা শুনেছি। খেতে সত্যিই দারুণ লেগেছে। পর্যটক আশরাফুল আলম বলেন, এমন স্বাদের পিঠা জীবনে খুব কম খেয়েছি। সারাজীবন এই স্বাদ মনে থাকবে। স্থানীয় নাজিয়া শারমীন বলেন, বাচ্চারা কালো ভাপা পিঠা খেতে খুব পছন্দ করে। তাই শীতকালে প্রতিদিন বিকেলের নাস্তা হিসেবে কালো ভাপা পিঠা কিনে বাড়ি নিয়ে যান।
জুমে উৎপাদিত বিনি চালের এই ব্যতিক্রমী স্বাদের কালো ভাপা পিঠার চাহিদা দেশের অন্যান্য জেলা কিংবা রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়লে পাহাড়ের অর্থনীতি যুক্ত হতে পারে আরেক নতুন সম্ভানা, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।


















