parbattanews

পাহাড়ের অপরিপক্ক কাঁঠালে কার্বাইড মিশিয়ে বাজারজাত করছে অসাধু চক্র!

IMG_5156

মানিকছড়ি প্রতিনিধিঃ

পাহাড়ের সু-স্বাদু কাঁঠালের কদর দেশের সর্বত্র। বৈখাশের এ সময়ে কাঁঠাল পাকতে শুরু করেছে। তাই বেশি লাভের আশায় অপরিপক্ক কাঁঠালে মাত্রাতিরিক্ত কার্বাইড মিশিয়ে বাজারজাত শুরু করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র!
সরেজমিন ঘুরে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, খাগড়াছড়িসহ পার্বত্যাঞ্চলের কাঁঠাল বেশ সু-স্বাদু। বৈশাখের এ সময়ে রাজধানী ঢাকা , কুমিল্লা, নোয়াখালি, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে এ অঞ্চলের কাঁঠাল বিক্রি হয় বেশি। ফলে ব্যবসায়ীদের পদ-চারণায় মুখরিত এখন এ অঞ্চল।

বর্তমানে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি , গুইমারা, মাটিরাংগা ও রামগড়ের বিভিন্ন হাঁটে-বাজারে কাঁঠাল ওঠতে শুরু করছে। ফলে  ব্যবসায়ীরা  চড়াদামে পরিপক্ক কাঁঠাল কিনে নিচ্ছে। সমতলে কাঁঠালের চাহিদা ও পাইকারদের আনা-গোনা দেখে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অপরিপক্ক কাঁঠালে মাত্রাতিরিক্ত কার্বাইড মিশিয়ে বাজারজাত শুরু করছে! ফলে এতে করে  পাহাড়ের সু-স্বাদু কাঁঠালের সুনাম যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে তেমনি ক্রেতারা হচ্ছে প্রতারিত।

গত কয়েক দিন ধরে অপরিপক্ক কাঁঠালে কার্বাইড দিচ্ছে এমন তথ্য পেয়ে গতকাল মানিকছড়ির বিভিন্ন বাজারে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ছুঁটে গেলে সর্বত্র তোলপার শুরু হয়। উপজেলার প্রসিদ্ধ ফলের বাজার  তিনটহরীতে গিয়ে দেখা যায় ভোর ৬ টা থেকে কৃষকরা পরিপক্ক ও অপরিপক্ক দু’ধরণের কাঁঠাল নিয়ে বাজারে আসতে না আসতে বেপারীরা কিনে নিচ্ছে। ৬০-৭০ টাকা হারে মধ্যম সাইজের কাঁঠাল বিক্রি করছে কৃষকরা। পাইকারা এসব কাঁঠাল কিনে তাদের গোপন আস্তানায় নিয়ে তাতে কার্বাইড মেশাচ্ছে দোদারসে।

সাংবাদিকদের মোটর সাইকেল দেখেই শ্রমিক ও পাইকার কার্বাইড মিশ্রিত পানির বোতল রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে গুদামে ঢুকে দেখা যায় শত শত কাঁঠালে শিক মেরে কার্বাইড মিশিয়ে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। আশে-পাশের দোকানদারদের নিকট পাইকারদের নাম জানতে চাইলে তারা ভয়ে নাম প্রকাশ করতে চায়নি। শুধু বলছেন, ওরা বিত্তশালী , প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গত কয়েক বছর ধরে এভাবে প্রতি মৌসমে এ বাজারের ৫/৬টি গোদামে কার্বাইড মিশানো হয়। পরে লোকজন দিয়ে বেপারীদের খবর দিলে ও তারা গোদামে না এসে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের দোকানে জড়ো হয়। পরে সেখানে গিয়ে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের ভীড়।

পরে এ প্রসঙ্গে সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি অপকটে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে বেপারীদের সর্তক করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যেন অপরিপক্ক কাঁঠাল না কিনে। তারপর ও যদি কেউ কার্বাইড দিয়ে থাকে তাহলে আর তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। প্রশাসন ম্যানেজ করার বিষয়টি অস্বীকার করছেন সভাপতি।

অন্যদিকে উপজেলার গাড়ীটানা ও সাপমারা এলাকার আপার বাউন্তি নামক এলাকার একটি ঘরে এভাবে কাঁঠালে প্রতিদিন কার্বাইড দেয়া হচ্ছে বলে ও অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার একাধিক জনপ্রতিনিধি। তারা নাম প্রকাশ না করার মর্তে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা এসবের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফলে কেউ বয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ফলে কার্বাইড মেশানো প্রসঙ্গে বলেন, পরিপক্ক ফল একসাথে পাকাতে মাত্রানুযায়ী কার্বাইড দেয়া যায়। অপরিপক্ক ফলে তা দিলে ফল পাকবে কিন্তু মানুষের ক্ষতি হবে। তাই কার্বাইড ব্যবহারে নিয়ম মেনে চলা উচিত।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনজীদা শরমিন বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্নস্থান থেকে এ ধরণের খবর আসছিল। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে হাতে-নাতে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে সর্তকতভাবে নজর রাখা হচ্ছে।
 

Exit mobile version