
চকরিয়া প্রতিনিধি:
চকরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন ফাইতংয়ের বড় মুসলিমপাড়ার আমতলীতে চলছে পাহাড়াকাটার সমাহার।
পাহাড় কাটা চলছে নির্বিঘ্নে, মৃত্যূঝুঁকিতে চলছে আট্টালিকা নির্মাণের কাজও। একদিকে পরিবেশ নষ্ট ও অন্যদিকে নিজেদের মৃত্যূ যেন নিজেরাই ডেকে আনছে সংশ্লিষ্ট লোকগুলো। বনবিভাগ ও পবিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এসব দেখেও যেন না দেখার মত করেই রয়েছেন। এ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজনের।
বৃহস্পতিবার(৪ অক্টোবর) বিকেলে সরজমিনে গেলে দেখা যায়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন ফাইতংয়ের বড় মুসলিমপাড়ার আমতলী গ্রামের বাসিন্দা বাদশা সরদারের বাড়ি।
পাহাড়ের পাদদেশেই নির্মিত তার বাড়িটি। এটি তার পুরাতন বাড়ি। অতিঝুঁকি মাথায় নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ জীবনযাপন করছেন অনেকদিন ধরে। সেই অবস্থায় আরও একটি সখের আট্টালিকা বাড়ি বানাতে যাচ্ছেন তিনি। সেটি আরও ঝুঁকিপূর্ণস্থানে। একটু অসহনীয় ভুমিধ্বস হলেই পাহাড় পড়বে ওই বাড়ির উপর। অনেকটা পাহাড় খোদাই করেই বানাচ্ছেন তার সখের বাড়িটি। এটি নির্মাণের কারণে ঝুকিতে পড়তে যাচ্ছে পাশের আরও দশটি বাড়িও। ভুমধ্বস হলে বিশালাকারের পাহাড়টিও ক্রমে বিলীন হতে পারে পাহাড় খোদাই করার কারণে। ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এখানকার পরিবেশের।
এত ঝুঁকি নিয়েও পাহাড় কেটে কেন আট্টালিকা তৈরি করছেন জানতে চাইলে বাদশা সরদার জানান, তার নামীয় বন্দোবস্তিকৃত জমিতেই তিনি বাড়ি বানাচ্ছেন, এমনকি পাহাড়ও তার নামে বন্দোবস্তিকৃত।
এলাকার লোকজন বাদশা সরদারের বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ। কারণ লোকজন কিছু বললেই উপড়ে পড়ে ঝগড়া করবেন বাদশা সরদার। পুর্বের বাড়ি চকরিয়া উপজেলা লক্ষ্যারচরে। তিনি ওই এলাকার মৃত আমিন শরীফের ছেলে। অনেক দিন আগে থেকে বনবিভাগের জায়গায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে আসছেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় ক‘জন ব্যক্তি জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বাদশা সরদার পাহাড়ের পাদ দেশে একাধিক বাড়ি নির্মাণ করেছেন, জমিও বিক্রি করেছেন। বর্তমানে আরও একটি আট্টালিকা নির্মাণের কাজ করছেন, যেটি পাহাড় কেটেই করা হচ্ছে। লোকজন বলেন, বনবিভাগের লোকেরা আসে আর যান, কিছুই করেন না।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক সাইফুল আশরাফ জানান, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন এবং ঘটনা সত্যি হলে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালাবেন।