parbattanews

পিত্তথলির পাথর অপসারণে চমক দেখালো রাঙামাটি সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা

পিত্তথলির পাথর অপসারণে চিকিৎসা সেবায় চমক দেখালো রাঙামাটি সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

জেলার দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের বাসিন্দা ডায়ানা চাকমা (২৬) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার হতদরিদ্র পরিবার ডায়ানাকে জেলা সদরে এনে পরীক্ষা করালে জানতে পারে তার কোলেডোকোলিথিয়াসিসসহ তীব্র কোলেসিস্টাইটিস রোগ হয়েছে।

অর্থাৎ সহজে বলতে গেলে পিত্তথলীর সংক্রমণ ও পাথর। মানে পিত্তথলির হঠাৎ সৃষ্ট প্রদাহ বা ইনফেকশন, যা সাধারণত পিত্তথলির নালীতে পিত্তপাথর আটকে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। আর কোলেডোকোলিথিয়াসিস হলো যখন পিত্তথলির পাথরটি পিত্তথলি থেকে বের হয়ে প্রধান পিত্তনালীতে আটকে যায়। এই দুটি রোগ একসাথে থাকার অর্থ হলো ডায়ানার পিত্তথলিতে ইনফেকশন রয়েছে এবং সেই সাথে পিত্তনালীতেও পাথর আটকে পিত্তরসের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

ভৌগলিক অবস্থান ও নানান পারিপার্শ্বিক সমস্যা সব মিলিয়ে ডায়ানা চাকমাকে চিকিৎসা করাতে না পেরে তার পরিবার হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার সাজেক ভ্রমণে গেলে রোগী এবং তার পরিবার চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টির জন্য সাহায্য এবং পরামর্শ প্রার্থনা করেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি দ্রুততার সাথে রাঙামাটি সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ও তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূয়েন খীসাকে অবহিত করেন এবং দ্রুত রোগীর চিকিৎসার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।

সিভিল সার্জন রাঙামাটি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ শওকত আকবর খান ও সার্জারি বিভাগের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদেরকে ডায়ানা চাকমার চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।

গত ২০ মে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. টুটুল চাকমা এবং ডা. সৈকত চাকমার নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম দ্রুততার সাথে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমি পদ্ধতিতে ডায়ানার পিত্তথলীর পাথর সফলভাবে অপসারণ করেন এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। চিকিৎসার পর ডায়ানা চাকমা ভালো আছেন বলে জানান চিকিৎসকরা।

উল্লেখ্য যে, ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমি হল একটি অস্ত্রোপচার যা একটি বড় ছেদের পরিবর্তে পেটে কয়েকটি ছোট ছেদ দিয়ে গলব্লাডার অপসারণের জন্য করা হয়। এতে দ্রুততম সময়ে রোগী সেরে উঠতে পারে।

রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, চিকিৎসকদের আন্তরিকতা ও রোগীর প্রতি আমাদের অঙ্গীকার দেখে হয়তো ডায়ানা চাকমা ও তার পরিবার আমাদের সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন। কিন্তু আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত। ডায়ানার চিকিৎসার বিষয়ে আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও সামর্থ্যের মধ্যে ছিল, তাই তাকে আমরা সুস্থ করতে পারছি।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে আমরা রোগীর ঝুঁকি বিবেচনায় ও আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে অন্যত্র রেফার করতে হয়, অযথা কোনো রোগীকে রেফার করে ভোগান্তিতে ফেলতে চাই না। তবে আশার কথা হলো আমরা দিন দিন আমাদের সামর্থ্য ও সক্ষমতা বাড়াতে চেষ্টা করছি।

Exit mobile version