পুরো বাংলাদেশকে নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক ভাবে নতুন খেলা শুরু হয়েছে: মেহেদী হাসান পলাশ


সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পার্বত্যনিউজের সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, পুরো বাংলাদেশকে নিয়ে ভূ-রাজনৈতিকভাবে নতুন খেলা শুরু হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বঙ্গোপসাগর, মিয়ানমারের রাখাইন, চীন স্টেট, ভারতের সেভেন সিস্টার্স- এই অঞ্চলগুলো আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির বিশ্ব পরাশক্তিধর দেশের একটা মল্লক্ষেত্রে পরিবর্তন হবে যা অলরেডি হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ হলে সিএইচিটি সম্প্রীতি জোটের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, ‘২০১৩ সালে যখন আমি প্রথম পার্বত্যনিউজ চালু করি ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা কক্সবাজার গিয়েছিলাম আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করতে। ঢাকায় এবং কক্সবাজারে আমার কাছে একই প্রশ্ন ছিলো যে, আপনি নাম দিয়েছেন পার্বত্যনিউজ। এর ভিতরে কক্সবাজার কেনো? আমি বলেছিলাম যেহেতু আমি এই অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করি, আমি বুঝতে পারছি সে দিন খুব দেরি নয় যে দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম যে সমস্যা আজকে মোকাবেলা করছে, সে একই সমস্যা কক্সবাজারও মোকাবেলা করবে। এবং এটি আরও বড় আকারে, অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামের থেকে বড় আকারে ঘটবে’।
তিনি বলেন, ‘কাজেই আপনারা সচেতন হন। আমি এখানে এসেছি মূলত ওই ষড়যন্ত্র এখানে আসার আগে এখানকার ও বাংলাদেশের পক্ষে মানুষকে সচেতন করতে। সে সময় অনেকেই আমার বিরোধিতা করেছিলো। আমি যাতে কক্সবাজার আমার গবেষণা মিডিয়ার ভিতরে না করে আমি যেনো শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামকে ফোকাস করি । কিন্তু দেখা গেল আমি সঠিক ছিলাম। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে শুরু হল এখানে রোহিঙ্গা ইনফ্ল্যাক্স। এবং এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের ওই অঞ্চল মানে পার্বত্য চট্টগ্রাম যে সমস্যা ছিলো ন্যাশনাল এবং রিজিয়নাল সমস্যা রোহিঙ্গা আসার পরে এটা একটা গ্লোবাল সমস্যায় রূপান্তরিত হল। সে জায়গা থেকে আজকে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বঙ্গোপসাগর, মিয়ানমারের রাখাইন, চীন স্টেট, ভারতের সেভেন সিস্টার্স- এই যে টোটাল একটা অঞ্চল, এই অঞ্চলটা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির একটা বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর একটা মল্লক্ষেত্রে পরিবর্তন হবে যা অলরেডি হয়েছে’।
পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা পেছনে দীর্ঘসূত্রতার প্রসঙ্গ টেনে মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, এটা সামনে আমরা আরও ব্যাপকভাবে দেখতে পাবো। এর প্রেক্ষাপটগুলো বহুদিন ধরে তৈরি করা হয়েছে। এটা আজকের প্রেক্ষাপট না আমরা যদি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে থেকে দেখি। এইটা চার্চগুলো থেকে নেওয়া পরিকল্পিত একটা পরিকল্পনা। এই অঞ্চলে একটি ক্রিস্টিয়ান রাষ্ট্র পরিচালনার একটি পরিকল্পনা। তো সে যে পরিকল্পনাটা এর মধ্যে নানা শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তারপরে ভারত ও পাকিস্তানের সৃষ্টি। আবার পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশের সৃষ্টি- এই যে নানা শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ঐ পরিকল্পনাটা রয়ে গেছে । যেহেতু ঐটা চার্চ এবং ইউরোপীয়ান ডিপ স্টেট থেকে এই পরিকল্পনা এসেছে। সে কারণে এই পরিকল্পনাটা কখনোই পরিবর্তিত হয় নাই। এবং এই পরিকল্পনাটা এখন আমাদের অনেকের সামনে পরিষ্কার হয়েছে। যে কথাটা হয়ত আমি আজ থেকে ১৫ বছর বা ২০ বছর আগে লিখতাম মানুষ এটা নিয়ে হাসিঠাট্টা করতো কিন্তু অনেকে এটি বিশ্বাস করে। কারণ এখনা আমদের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতারা বড় বড় নেতারা এগুলো বলছেন। তো এটা আমাদের সফলতা। এই যে ষড়যন্ত্র এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলার জন্য আমাদের সামনে রাস্তা কি? আমাদের সামনে রাস্তা হল একটায় জনগণের যুথবদ্ধতা, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা। জনগণের মধ্যে বিভেদ না রাখা। এবং জনগণ যেন কোন ধরনের ষড়যন্ত্রের মধ্যে না পড়ে সে বিষয়ে সচেতন করা।
এই সময় তিনি আরও বলেন, ‘শুধু চিটাগাং হিল ট্যাক্টসের লোকজনেরা না, সে একই ভাবনা আমদের সবার ভাবতে হবে, চিটাগং হিল ট্রাক্টেসের লোক, কক্সবাজার, রাখাইন, সেভেন স্টিস্টার্স, চীন স্টেটসহ সারা বাংলাদেশের লোকদেরকে ভাবতে হবে। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ভাবি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বলে কোন আইডেন্টিটি ১৮৬০ সালের পূর্বে ছিলো না। এটা বাংলাদেশ ছিলো এটা চট্টগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলো। এটা চট্টগ্রাম হিসেবেই বিবেচনা করা হত ১৮৬০ সালে ব্রিটিশরা এসে প্রথমে পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে আলাদা একটা আইডেন্টিটি তৈরি করে। এখন এই বাংলাদেশে ঐখানে তিনটা জেলা আছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম মানে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান। বাংলাদেশের ৬৪টা জেলার তিনটা জেলা। আমাদের এই জায়গায় দাঁড় করতেই হবে। আমি যখন এই সচেতনতা তৈরি করতে পারবো তখন কিন্তু এই সমস্যাটা আমরা খুব দ্রুত অ্যাড্রেস করতে পারবো মোকাবেলা করতে পারবো’।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশকে বাঁচাতে চাই তাহলে আমদের সম্প্রীতিটা তৈরি করতে হবে, ঐক্যটা তৈরি করতে হবে, সে জন্য সম্প্রীতি জোট এবং ঐক্যর প্রয়োজন আছে, প্রথমে আমাদের ঐক্যের প্রয়োজন এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ এবং সচেতন করতে পারলে আমরা সফল হতে পারব।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে আত্মপ্রকাশ হওয়া সম্প্রীতি জোটের ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিও প্রকাশ হয়। যেখানে ইঞ্জিয়ার থোয়াইচিং মং শাক’কে আহ্বায়ক ও ইখতিয়ার ইমন-কে সদস্য সচিব এবং পাইশিখই মার্মা-কে মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

















