পুলিশের ‘পুরান পাপি’ এসআই নুর-ই খোদা সিদ্দিকী

fec-image

কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার এক নারীর বসতবাড়িতে ঢুকে পিস্তল ঠেকিয়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) নুর-ই খোদা সিদ্দিকীকে ‘পুরান পাপি’ বলে মন্তব্য করেছেন সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস।

তিনি দুঃখের সঙ্গে বলেন, জেলা পুলিশ চমৎকার সমন্বয় ও চেইন অব কমান্ডের সাথে কাজ করে যাচ্ছিল। নুর-ই খোদা সিদ্দিকী নামের এই ‘পুরান পাপি’ কেমনে রয়ে গেল, জানলাম না। জঘন্য মানুষটা আমাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিল!

ওসি বলেন, ইতোপূর্বে সে চকরিয়া থানায়, তার আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিবিতে ছিল। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, মেজর (অব.) সিনহা হত্যা ইস্যুতে কক্সবাজার থেকে একযোগে সব পুলিশ সদস্য বদলী হলেও অদৃশ্য কারণে কক্সবাজারেই রয়ে গেছেন নুর-ই খোদা সিদ্দিকী। অপরাধীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে টাকা কামাই করার সব পথ জানা ছিল তার।

এসআই নুর-ই খোদা সিদ্দিকী কয়েকদিন আগে চকরিয়া থানা থেকে বদলী হয়ে কক্সবাজার শহর ফাঁড়িতে যোগদান করেন। চকরিয়া থানায় থাকাকালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় ছিল। পুলিশী হয়রানির ভয়ে ভুক্তভোগিরা কোথাও অভিযোগ দেওয়ার সাহস করেনি। তবে, টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার পর গ্রেফতারের খবরে মুখ খুলতে শুরু করেছে হয়রানির শিকার লোকজন।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ায় রোজিনা খাতুন নামের এক নারীর বসতবাড়িতে ঢুকে পিস্তল ঠেকিয়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতার হন তিন পুলিশ সদস্য। তারা হলেন, কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুর-ই খোদা সিদ্দিকী, কনস্টেবল আমিনুল মমিন ও মামুন মোল্লা।

সোমবার (১ মার্চ) বিকালে সংঘটিত ঘটনায় ভিকটিম রোজিনা খাতুন সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দিয়েছেন। পরে তা মামলা হিসেবে থানায় রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে মঙ্গলবার (২ মার্চ) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, অপরাধ করে কারো পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নাই। সে পুলিশ বা অন্য কেউ হোক।

তিনি আরও জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পর মামলার ভিত্তিতে গ্রেফতারকৃত তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এদিকে, ভিকটিম রোজিনা খাতুনের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ আছে। এসবের মামলায় গ্রেফতারও হয়েছেন বেশ কয়েকবার। রোজিনা খাতুন কুতবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা রিয়াজ আহমদের স্ত্রী।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 + eighteen =

আরও পড়ুন