পেকুয়ায় আদালতের মামলাধীন জায়গা তদন্তে ভূমি কর্মকর্তা

fec-image

কক্সবাজারের পেকুয়ায় আদালতের মামলাধীন বিরোধীয় জায়গা তদন্ত করলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহুল চন্দ।

সোমবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌমুহনীর উত্তর পাশে শেখেরকিলাঘোনা এলাকায় মকসুদ আহমেদ গং ও ইদ্রিস গং এর বিরোধীয় জায়গা তদন্ত করেন তিনি। এসময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, বিএস ৩৯৮ ও ৭৮৯ নং খতিয়ানের রেকর্ডিয় মালিক ওই এলাকার মৃত ছৈয়দ আহমদ। সে মারা যাওয়ার পরে এক স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ওই জমির মালিক হয়। ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি ২৬০ নং দলিল মূলে বাদশা মিয়া, ইদ্রিস মিয়া, ফেরদৌস আহমদ তাদের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জায়গা হতে ১৪ শতক সাবেকগুলদি টেকপাড়া এলাকার মৃত মোজাহের আহমেদের ছেলে মকসুদ আহমেদ ক্রয় করেন। ক্রয় করার পর উক্ত জায়গা দখল বুঝে নেন তিনি। ২০০২ সালে মকসুদ আহমেদ উক্ত ক্রয়কৃত জায়গায় মাটি ভরাট এবং চারপাশে সীমানা প্রাচীর নিমার্ণ করেন। যা এখনো স্থির আছে। এমনকি রক্ষণাবেক্ষণ ও বসবাস করার জন্য একটি ঘরও নিমার্ণ করেন।

এছাড়াও বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপ ও স্থাপন করেন এবং ওই জায়গার চারপাশে রোপণ করেন সুপারি চারা। যা এখন দৃশ্যমান রয়েছে।

মকসুদ আহমেদ জানান, ইদ্রিস কুচক্রী মহলের ইন্ধনে আমাকে সে ও তার ওয়ারিশগণের বিক্রিকৃত জায়গার মধ্যে সে জায়গা দাবি করে। তার স্ত্রী আমেনা বেগম বাদী হয়ে আমিও আমার পুত্রদের কে বিবাদী করে এমআর মামলা দায়ের করেন যার নং ৮১৬/১৭ ইং। এ মামলা আদালতে দীর্ঘ শুনানি ও সরেজমিনে তদন্ত করে আমার পক্ষে প্রতিবেদন কোর্টে জমা হলে সে সুকৌশলে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। এতে ক্ষান্ত হয়নি ইদ্রিস গং ।আমাকে জায়গা বিক্রি করার জন্য ইদ্রিসের নেতৃত্বে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই রাত ২টায় সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে অবস্থান নিয়ে সুকৌশলে বিভিন্ন মালামাল চুরি করে।

এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে ইদ্রিসসহ ৭ জনকে বিবাদী করে পেকুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করি। যার নং ১৬৪/২০১৯ ইং। উক্ত মামলায় ইদ্রিস গং কে দোষী সাবস্ত করে সার্চসিট দেয় পুলিশ। এ মামলায় ইদ্রিসকে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে দেয়।

পরে সে জামিনে মুক্ত হয়ে এসে জনৈক নূর মোহাম্মদের সাথে তিন শত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এর মাধ্যমে উক্ত জায়গা ভাগ বাটোয়ারা চুক্তিনামা সম্পাদন করেন ইদ্রিসের স্ত্রী আমেনা বেগম। ওই ভাগ বাটোয়ারা  চুক্তি নামা  ‍মূলে ওই জায়গায় কয়েকটি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে তারা বসবাস করছেন।

তিনি আরো জানান, হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে আমি বাদী হয়ে ইদ্রিস গং কে বিবাদী করে একটি সিআর মামলা দায়ের করি। যার নং ২০/২১ ইং। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিআইবি কে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নিদের্শ দেন। পিআইবি দীর্ঘ তদন্ত শেষে আমার পক্ষে প্রতিবেদন দেয়। তারপর ও ক্ষান্ত হয়নি ইদ্রিস গং।

সর্বশেষ আমাকে ও আমার ছেলেদেরকে বিবাদী করে ইদ্রিসের স্ত্রী আমেনা বেগম বাদী হয়ে একটি এমআর মামলা দায়ের করে। যার নং ৯৫৩/২২ ইং। উক্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি পেকুয়াকে নিদের্শ দেন। সহকারী কমিশনার ভূমি তদন্তের ভার পেয়ে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে নোটিশ জারি করেন। এ পরিপেক্ষিতে উক্ত বিরোধীয় জায়গা তদন্ত করেন সহকারী কমিশনার ভূমি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাহুল চন্দ বলেন, জায়গা জমি বিরোধ নিয়ে একটি এমআর মামলার তদন্ত করেছি তা তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পেকুয়া
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 2 =

আরও পড়ুন