পেকুয়া প্রতিনিধি :
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র বিরূপ প্রভাবে ও পূর্ণিমার ভরা তীথিতে সাগরের পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়াতে জোয়ারের পানির প্রচন্ড ধাক্কায় উপজেলার উপকূলবর্তী তিন ইউনিয়নসহ পেকুয়া সদর ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়ন্ত্রিত বেড়িবাঁধের বিপুল অংশ বিলীন হয়ে যায়। বিলীন হওয়া অংশ দিয়ে সাগরের লোনা পানি সরাসরি লোকালয়ে প্রবেশ করে উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা, রাজাখালী ও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র ৮৮কি.মি বেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ো বাতাসে লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে পেকুয়া উপজেলা। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। উপজেলা প্রশাসনের নিরূপিত হিসেব অনুযায়ী এতে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৬৭কোটি ৩১লক্ষ ৭হাজার ৫০০টাকা। উপজেলা প্রশাসনের প্রদত্ত ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ৭৫বর্গ কিঃমিঃ।
ক্ষতিগ্রস্থ লোকের সংখ্যা ৪৩০৫০জন। আহতের সংখ্যা ৭৮৪ জন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা ৭৮৯৫টি। গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতি সংখ্যা ২৯৫টি, যার মূল্যমান ৭০লক্ষ ৫০হাজার টাকা। হাঁসমুরগীর ক্ষয়ক্ষতি সংখ্যা ২৫,২৫০টি, যার মূল্যমান ১৮লক্ষ ৫৭হাজার ৫০০টাকা। ফসলাদি বিনষ্টের পরিমান ১২৩একর, যার মূল্যমান ৩৯লক্ষ ৫০হাজার টাকা। ফসলাদির(আংশিক ক্ষয়ক্ষতি) ৪২০একর, যার মূল্যমান ৩৩লক্ষ টাকা।
লবণের ক্ষয়ক্ষতি ৭১০একর, যার মূল্যমান ৪০কোটি ৫০লক্ষ টাকা। চিংড়ির ক্ষতি চৌদ্দ কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। বিবিধ মৎস্য খামারসমূহ ৯০টি, যার মূল্যমান ১২কোটি ২১লক্ষ টাকা। ক্ষতিগ্রস্থ মসজিদ/মন্দির ১৮টি। ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক ১৯কি.মি। ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক(আংশিক) ২০কি.মি। ধ্বংপ্রাপ্ত বাঁধ ২১কি.মি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ ২২কি.মি।
ক্ষতিগ্রস্থ বন ২৩ লক্ষ টাকা। ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যুৎ ২৪লক্ষ টাকা। ক্ষতিগ্রস্থ তার যোগাযোগ সংযোগ ২৫লক্ষ টাকা। ধ্বংস প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহ- স্কুল/মাদ্রাসা ২০টি, আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৪৫টি। ক্ষতিগ্রস্থ নলকূপ সমূহ, গভীর নলকূপ ৭৭টি, অগভীর ৩৫টি, হস্তচালিত নলকুপ ১২টি। পুকুর/জলাশয় ৭২৫টি। নৌকা/ট্রলার ২৮৫টি, যার মূল্যমান ১৩কোটি টাকা। মাছ ধরার জাল ১০৫৫টি, যার মূল্যমান ১৮ লক্ষ ৫০হাজার টাকা। অন্যান্য ক্ষেত্রে ২৫লক্ষ টাকা।
ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণের সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশিদ খান বলেন, গতকাল থেকে জয়েন নীড এসেসমেন্ট (জেএনএ) শুরু হয়েছে। খুবশীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্ণবাসন করা হবে। পূর্ণবাসনে যাবতীয় সাহায্য সরকার করবে। সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।