পেকুয়ায় লবণ মজুদ করে চাষীরা হতাশ

fec-image

পেকুয়ার উপকূলীয় এলাকায় হাজার হাজার মণ লবণ মজুদ রয়েছে। পরবর্তী লবণের মৌসুম শুরু হতে আর মাত্র মাসখানেক বাকী। অথচ মজুদ লবণ বিক্রয় হচ্ছে না। সামান্য যা বিক্রি হচ্ছে তাও কম দামে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে যে লবণের দাম সাড়ে পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকা ছিল সেই লবণ এখন মাত্র ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ নিয়ে হতাশ লবণ চাষিরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লবণের বাজার মূল্য নিম্নমুখী হওয়ায় কৃষকরা উৎপাদিত লবণ মজুদ রেখেছিলেন। সাধারণত বর্ষাকালে লবণের দাম চাঙ্গা হয়। কিন্তু চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা লবণ আমদানি করায় এবার দেশে উৎপাদিত লবণের দাম আরোও কমে যায়।

জানা গেছে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে কৃষক লবণ উৎপাদে ব্যাপক উৎসাহ পেয়েছিলেন। কারণ কৃষক প্রতি মণ লবণ বিক্রি করেন সাড়ে ৫শত থেকে ৬ শত টাকা দরে। কানি প্রতি গড়ে লবণ উৎপাদন হয় ২শ থেকে ২৫০ মণ। এরপর ন্যায্য দাম পাওয়ার আশায় সর্বোচ্চ দামে লবণ চাষের জমি আগাম নেন কৃষকরা। মৌসুমে প্রতি ৪০ শতক জমি আগাম নিতে কৃষকের ব্যয় হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। পানি সেচ, পলিথিন বাবদ প্রতি কানি জমিতে আরও ব্যয় হয় ১২ হাজার টাকা। শ্রমিকের মজুরি ও লবণ উৎপাদনে অন্যান্য জোগানসহ প্রতি কানিতে কৃষক প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়।

পেকুয়া উপজেলা মগনামা ইউনিয়নের লবণ চাষী ও লবণ ব্যবসায়ী রবিউল আলম, ছিদ্দিক আহমদ পার্বত্যনিউজকে জানান, লবণ জমা আছে ৫ হাজার মণ। একটু বেশি দামের আশায় এ সমস্ত লবণ মজুদ করে রেখেছিলাম। বাজারমূল্য থাকলে উৎপাদন খরচসহ কিছু লাভের আশা ছিল। কিন্তু বর্তমান লবণের দাম আমাদের হতাশ করেছে। প্রতিমণ লবণ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রয় করতে হচ্ছে। অথচ উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে তার চেয়েও বেশি। মজুদ লবণ এখন আমাদের গলার কাটা। না পারছি বিক্রি করতে না পারছি মজুদ রাখতে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পেকুয়ায়, লবণ মজুদ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × three =

আরও পড়ুন